নিজস্ব প্রতিবেদক
১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৫৬ পিএম
স্বনামধন্য ট্রেডিং কোম্পানির লোগো ও নাম নকল করে প্রতারণার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎকারী একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্যকে গ্রেফতার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এমন তথ্য জানায়।
গ্রেফতারকৃত হলো- মো. তাজুল ইসলাম। তিনি বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরপুর এলাকার রফিকুল ইসলাম খান এর সন্তান।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সিআইডি জানায়, স্বনামধন্য ট্রেডিং কোম্পানির লোগো ও নাম নকল করে হোয়াটস অ্যাপ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লোভনীয় বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে অর্থ আত্মসাৎ করে আসছিল সংঘবদ্ধ চক্রটি। এমন ঘটনায় রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। এ ঘটনায় অভিযান চালিয়ে মিরপুর মডেল থানার কল্যাণপুর এলাকা থেকে চক্রের সদস্য তাজুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের সময় তার নিকট হতে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন আলামত হিসেবে উদ্ধার করা হয়।
মামলাটির এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর ফেসবুকে প্রচারিত একটি লোভনীয় বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট হয়ে প্রতারক চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। প্রতারকরা বিশ্বব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা ও খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদদের নাম ও ছবি ব্যবহার করে ভুক্তভোগীর আস্থা অর্জন করে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নির্ভর সফটওয়্যারের মাধ্যমে শেয়ারবাজারে নিশ্চিত মুনাফার প্রলোভন দেখায়। পরবর্তীতে ভুক্তভোগীকে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত করে প্রথমে স্বল্প বিনিয়োগে লাভ প্রদর্শনের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের বিনিয়োগে উদ্বুদ্ধ করে। প্রতারক চক্রটি বিভিন্ন ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে বাদীর কাছ থেকে ধাপে ধাপে মোট ২১ লক্ষ ৮৮ হাজার ৫৭ টাকা আত্মসাৎ করে। সর্বশেষে মোটা অঙ্কের শেয়ার বরাদ্দের কথা বলে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করলে প্রতারিত হওয়ার বিষয়টি বুঝতে পেরে ভুক্তভোগী মোহাম্মদপুর (ডিএমপি) থানার মামলা দায়ের করেন।
সিআইডি আরও জানায়, মামলাটির তদন্তে জানা যায়, এই প্রতারক চক্রটি ভুয়া অনলাইন ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বিনিয়োগকারীদের অর্থ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সি ওয়ালেটে স্থানান্তরের মাধ্যমে আত্মসাৎ করে আসছিল। গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তি বিভিন্ন ব্যক্তিদের নিকট থেকে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও কার্ড সংগ্রহ করে অর্থের বিনিময়ে চক্রটিকে সরবরাহ করতো। পরবর্তীতে এই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও কার্ড ব্যবহার করে চক্রটি প্রতারণার করে অর্থের লেনদেন সম্পন্ন করতো।
সিআইডি আরও জানায়, বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি)। প্রতারণা চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।
একেএস/এমআই