জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
০৭ এপ্রিল ২০২৬, ০২:২৮ পিএম
পুলিশের টানা অভিযানের পাশাপাশি কড়াকড়ি অবস্থানে এক সপ্তাহ ধরে গুলিস্তানসহ আশপাশ এলাকায় বসতে পারেনি হকারদের বড় অংশ। ফলে ওই এলাকার যানজট নিরসনের পাশাপাশি পথচারীদের চলাচলে এসেছে স্বস্তি। তবে হকাররা বলছেন, পুলিশি কড়াকড়ির ‘শিথিলতার অপেক্ষায়’ রয়েছেন তারা। শিথিল হলেই আবারও বসবেন। যদিও কেউ কেউ আবারও বসতে পারবেন কি না তা নিয়ে ধোঁয়াশার কথাও জানিয়েছেন।
রাজধানীর যানজট নিরসন ও পথচারীদের হাঁটাচলায় স্বস্তি আনতে গত ১ এপ্রিল থেকে পৃথকভাবে অভিযান চালিয়ে আসছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগের জোনগুলো। অভিযানের শিডিউল অনুযায়ী, গত রোববার (৫ এপ্রিল) পযর্ন্ত চলে ওই অভিযান। তবে, এলাকাভিত্তিক নিয়মিত অভিযান এখনো চলমান আছে। ফলে কিছু হকার বসলেও উঠিয়ে দিচ্ছে পুলিশ। যদিও পুলিশে চলে গেলে আবারও বসছেন তারা।
প্রথম দিনের অভিযানেই ঢাকা জিপিও ভবনের সামনের ফুটপাতের শ্যুট, কোট ও ব্লেজারের দোকানগুলো বন্ধ হয়ে যায়। অভিযানের পর কিছু হকার বসতে চাইলেও উঠিয়ে দেয় পুলিশ। যদিও সুযোগ বুঝে এখনো দু-একজন হকার তাদের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।
শুরুতে এখানকার হকাররা বলছেন, অভিযান শেষ হলেই আগের মতো বসবেন তারা। তাদের ভাষ্য ছিল, চলতি সপ্তাহের ‘মাঝামাঝি’ সময় থেকে তারা আবারও বসতে পারবেন। কিন্তু এখন তাদের কেউ কেউ বলছেন, কবে নাগদ বসতে পারবেন তার ‘গ্যারান্টি’ পাচ্ছেন না তারা।

অভিযানের পরও মুক্তাঙ্গনের দক্ষিণে অংশে কয়েকজন হকার দোকান চালিয়ে আসছেন। তাদের একজন নাম প্রকাশ না করে বলেন, ‘প্রথমে ৪/৫ দিন অভিযান চলবে বলেই জেনেছিলাম। কিন্তু এখন বুঝতেছি না কবে অভিযান শেষ হবে। অভিযান স্বাভাবিক হলে আবারও এখনকার সবাইকে পাবেন।’
এই হকারের মতো যারা এখনো লুকোচুরি করে ব্যবসা চালাচ্ছেন তাদের অনেকেই বলছেন, পূর্ণাঙ্গরূপে বসতে আরও ‘কয়েক দিন’ অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যথায় তারা ‘আন্দোলনে’ যেতে পারেন বলেও ইঙ্গিত দেন কেউ কেউ।
গুলিস্তান মোড়ের এক বেল্ট বিক্রেতা নাম প্রকাশ না করে বলেন, ‘আমরা (কড়াকড়ি শিথিলের) অপেক্ষায় আছি। এমনই চলতে থাকলে কেউ আর বসে থাকবে না। সবারই পেটের ক্ষুধা আছে। দোকান না চালাতে পারলে পেটে ভাত ঢুকবে না। অন্য কিছুও (আন্দোলন) হইতে পারে।’
তবে পুলিশ সূত্র জানায়, ফুটপাতে পথচারীদের অবাধ হাঁটাচলা স্বাভাবিক রাখতে তাদের কঠোর অবস্থান বলবৎ থাকবে। আর সিটি করপোরেশনের সূত্র জানায়, হকারদের বিকল্প ব্যবস্থা করতে তাদের পরিকল্পনা হচ্ছে। এজন্য হকারদের সঙ্গে বসার প্রস্তুতিও চলছে।
এদিকে হকার উচ্ছেদের নামে ‘দমনমূলক’ অভিযান চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়ন। সংগঠনটি এক বিবৃতিতে বলেছে, কোনো বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া হকারদের উচ্ছেদ করা তাদের জীবন-জীবিকার ওপর সরাসরি আঘাত এবং মানবাধিকারের লঙ্ঘন।

বিবৃতিতে হকার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার হায়াত চলমান অভিযানের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, ‘হাজারো শ্রমজীবী হকার এই শহরের অর্থনীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ, অথচ তাদের জীবিকার কোনো নিরাপত্তা নেই।’
বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, ‘হকাররা অপরাধী নয়, তারা এই শহরের পরিশ্রমী মানুষ। তাদের অধিকার নিশ্চিত না করে কোনো উন্নয়ন টেকসই হতে পারে না। মানবিক নগর গড়তে হলে জীবিকা রক্ষার অধিকার নিশ্চিত করতেই হবে। অন্যথায় এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগঠিত প্রতিবাদ আরও জোরদার করা হবে।’
জানতে চাইলে হকার্স নেতা মুর্শিকুল ইসলাম ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘আমরা সিটি করপোরেশনের সঙ্গে কথা বলছি। তারা বলছে, হকার উচ্ছেদ করার কোনো পরিকল্পনা নেই তাদের। এটা পুলিশের অভিযান।’
হকার্স নেতা বলেন, ‘এটা (চলমান অভিযান) তারা নরমালি যে চায়, সেটার সাথে আমরাও একমত যে, সাধারণত রাস্তা যেটা, ফুটপাত না, মূল রাস্তায় গুলিস্তান-টুলিস্তানে বসে ওইগুলো তারা ক্লিয়ার করবে। আর হচ্ছে যে, ধরেন দোকানদাররা তাদের দোকান বাদ দিয়েও মালপত্র রাখে সেগুলো নিয়মিত ক্লিয়ার করবে। তবে পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদ করা যাবে না।’ বিষয়টি নিয়ে সিটি করপোরেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বলেও জানান এই হকার্স নেতা।
এএম/জেবি