images

জাতীয়

কতদিন ভোগাবে লোডশেডিং 

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:১২ এএম

এপ্রিলের শুরু থেকেই গ্রাম কিংবা শহরে বেড়েছে লোডশেডিং। শহরে ভোগান্তির চিত্র তুলনামূলক কম হলেও গ্রামে দিনে অন্তত দু-তিনবার বিদ্যুতের আসা-যাওয়া নিত্য ঘটনায় পরিণত হয়েছে। আগামী কয়েকদিনে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, আগামী এক সপ্তাহে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে। 

এপ্রিলের প্রথম দিনে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল ১৪ হাজার ২১৮ মেগাওয়াট। সেদিন তেমন লোডশেডিং ছিল না। পরদিন বৃহস্পতিবার চাহিদা পৌঁছায় ১৪ হাজার ৮০০ মেগাওয়াটে। সেদিন ঘণ্টায় ৩৭৭ মেগাওয়াট লোডশেডিং শুরু হয়। রাতের দিকে চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লোডশেডিংও বাড়তে থাকে। গত শনিবার মধ্যরাতে দেশে ১ হাজার ৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি দেখা দেয়, যা চলতি মৌসুমে সর্বোচ্চ। রাত ১২টায় ১৫ হাজার ১০০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন হয় ১৩ হাজার ৯৬৯ মেগাওয়াট।

বিদ্যুৎ বিভাগের হিসাবে দেশে সরকারি, বেসরকারি ও যৌথ মালিকানার ১৩৬টি বিদ্যুৎকেন্দ্রে মোট উৎপাদন সক্ষমতা ৩২ হাজার ৩৩২ মেগাওয়াট (ক্যাপটিভ ও নবায়নযোগ্যসহ)। আবার পিডিবির হিসাবে বিদ্যুতের মোট উৎপাদন সক্ষমতা ২৮ হাজার ৯১৯ মেগাওয়াট।

এর মধ্যে গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্র থেকে ১২ হাজার ৪৭২ মেগাওয়াট, ফার্নেস অয়েলভিত্তিক কেন্দ্র থেকে ৫ হাজার ৬৪১ মেগাওয়াট, কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র থেকে ৭ হাজার ৭৬৯ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে। ১ হাজার ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ভারত থেকে আমদানি করা হয়। এ ছাড়া সৌর, হাইড্রো (জলবিদ্যুৎ), বায়ু ও অন্যান্য উৎস থেকে বাকি বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে।

তবে জ্বালানির অভাবে এসব কেন্দ্রের সক্ষমতার অর্ধেকও কাজে আসে না। গত বছর জুলাই মাসে সর্বোচ্চ ১৬ হাজার ৭৯৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের রেকর্ড ছিল।

গত শনিবার রাত ৮টার দিকে ১৪ হাজার ৯৩৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়েছে, যা চলতি মৌসুমে সর্বোচ্চ। এর মধ্যে গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্র থেকে ৫ হাজার ২০৯ মেগাওয়াট, তরল জ্বালানি থেকে ২ হাজার ৯৬৯ মেগাওয়াট, কয়লা থেকে ৪ হাজার ৮৩২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়। সেই সময়েও ৭২৭ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে।

পিডিবির কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, ভারতের ঝাড়খন্ডে ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াটের আদানি পাওয়ারের বিদ্যুৎকেন্দ্রটি গত মার্চের শেষ দিকে মেরামতের জন্য একটি ইউনিট বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে সেখান থেকে বর্তমানে ঘণ্টায় ৭৫০ থেকে ৭৬০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ আসছে না। একইভাবে কয়লার অভাবে মাতারবাড়ী ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ রয়েছে।

বাংলাদেশ ইনডিপেন্ডেন্ট পাওয়ার প্রোডিউসার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিপপা) সাবেক সভাপতি ইমরান করিম জানান, সরকারের কাছে বিপুল পরিমাণ বকেয়া থাকার কারণে দীর্ঘদিন ধরে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো জ্বালানি আমদানি করতে পারছে না। বর্তমানে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের কাছে ১ লাখ ৪৭ হাজার টন ফার্নেস তেলের জোগান রয়েছে। তবে এই তেল দিয়ে পূর্ণ সক্ষমতায় চালালে আগামী ১৪-১৫ দিনের মধ্যে মজুত শেষ হয়ে যাবে। 

আর সরকার যদি এখনই বকেয়া পরিশোধ করে, তাহলে সেই টাকা দিয়ে তেল আনতে ৩০ থেকে ৪০ দিন সময় লেগে যাবে। বিদ্যুৎ খাতও যে জ্বালানি সংকটের মধ্যে রয়েছে, সেটা কয়েক মাস ধরে বলা হচ্ছে।

পিডিবির সদস্য জহুরুল ইসলাম জানান, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে মাতারবাড়ী তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের কয়লা সংকট দূর হবে। এ ছাড়া পটুয়াখালীতে আরএনপিএলের একটি নতুন ইউনিট থেকে প্রায় ১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যোগ হবে। এ ছাড়া আদানিও ১৫ এপ্রিলের মধ্যে বন্ধ ইউনিট চালু করবে বলে আশা করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে আগামী সপ্তাহ নাগাদ চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ পাওয়া গেলে চলমান সংকট কেটে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

টিএই/এআরএম