নিজস্ব প্রতিবেদক
০১ এপ্রিল ২০২৬, ০২:১৬ পিএম
রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত এলাকা মিরপুর-১০। একসময় যেখানে সড়ক আর ফুটপাতজুড়ে হকারদের দখল, হাঁকডাক আর তাদের ভিড়ে নিত্যদিনের চলাচল ছিল চরম ভোগান্তির। সেই চিরচেনা চিত্রে এখন এসেছে পরিবর্তন। পথচারীরা বলছেন, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ঢাকা মহানগর পুলিশ) সাম্প্রতিক অভিযানে সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত হওয়ায় এলাকায় ফিরে এসেছে স্বস্তি, কমেছে বিশৃঙ্খলা।
গত কয়েক দিন ধরে মিরপুর-১০ চত্বর ও আশপাশের সড়কগুলোতে ধারাবাহিক অভিযান চালায় ডিএমপি। এতে দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাত ও রাস্তা দখল করে বসা হকারদের সরিয়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বর্ধিত অংশও অপসারণে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১ এপ্রিল) সরেজমিনে দেখা যায়, পথচারীরা স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করছেন। সড়কের একাধিক লেন দখল করে বসা দোকানপাট ও ভাসমান ব্যবসা না থাকায় যানবাহনের গতি বেড়েছে, কমেছে যানজটও। পরিবহন চালকরা বলছেন, আগের তুলনায় এখন মিরপুর-১০ পার হতে সময় অনেক কম লাগছে।

পথচারী রাশেদা খাতুন বলেন, আগে এখানে হাঁটা মানেই ছিল ধাক্কাধাক্কি, হকারদের ভিড় আর শব্দ। এখন অনেকটা স্বস্তিতে হাঁটা যাচ্ছে। একই কথা বলেন আরেক পথচারী মনির হোসেন। তিনি বলেন, এই ব্যবস্থা যদি নিয়মিত রাখা যায়, তাহলে মিরপুর-১০ এলাকার চেহারাই বদলে যাবে।
তবে অনেকেই শঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এই অভিযান স্থায়ী না হলে পরিস্থিতি আবার আগের মতো হয়ে যেতে পারে। তারা বলছেন, নিয়মিত তদারকি ও কঠোর অবস্থান না থাকলে হকাররা আবার ফুটপাত ও সড়ক দখল করে বসতে পারেন।
এদিকে ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত রাখতে সমন্বিত উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। মিরপুর-১০ থেকে মিরপুর-১ পর্যন্ত সড়কের ফুটপাত দখলমুক্ত করার লক্ষ্যে ভাসমান ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে।

ডিএনসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে এ সভা আজ বৃহস্পতিবার (১ এপ্রিল) বিকেল ৪টায় মিরপুর-১০ এলাকার মুকুল ফৌজ মাঠে অনুষ্ঠিত হবে। সংশ্লিষ্টরা জানান, উচ্ছেদ কার্যক্রমের পাশাপাশি বিকল্প ব্যবস্থা ও পুনর্বাসনের বিষয় নিয়েও আলোচনা হতে পারে, যাতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত না হন এবং সড়ক-ফুটপাতও দখলমুক্ত থাকে।
অন্যদিকে রাজধানীজুড়ে ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করতে আরও কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। সংস্থাটির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, যেসব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নিজস্ব সীমানার বাইরে ফুটপাত ও সড়ক দখল করে কার্যক্রম পরিচালনা করছে, তাদের বর্ধিতাংশ দ্রুত অপসারণ করতে হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, অনেক রেস্টুরেন্ট ফুটপাতে রান্নার সরঞ্জাম, গ্রিল ও কাবাব মেশিন বসিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছে। আবার মোটর ওয়ার্কশপগুলো রাস্তার একাংশ দখল করে গাড়ি মেরামতের কাজ করছে। পোশাক, আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন দোকানের পণ্যও ফুটপাতে প্রদর্শনের জন্য রাখা হচ্ছে। এসব কারণে পথচারীদের চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে এবং তারা বাধ্য হয়ে সড়কে নামতে গিয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে পড়ছেন।

ডিএমপি জানিয়েছে, নির্দেশনা অমান্য করলে স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। এতে কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড এবং মালামাল জব্দসহ কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, শুধু উচ্ছেদ অভিযান চালালেই হবে না, এর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, হকারদের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা নির্ধারণ, বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে পারলেই এ সমস্যার টেকসই সমাধান সম্ভব।
এএইচ/জেবি