নিজস্ব প্রতিবেদক
২৪ মার্চ ২০২৬, ০৩:১৫ পিএম
কৃষি, খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে কৃষিখাতকেই প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তোলা হবে। তিনি মনে করেন, পরিকল্পিত উদ্যোগ ও বৈজ্ঞানিক চাষাবাদের মাধ্যমে বাংলাদেশে খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পাশাপাশি উদ্বৃত্ত উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ঈদ-পরবর্তী প্রথম কর্মদিবসে কৃষি ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) নজরুল ইসলাম খান, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব রফিকুল ই মোহামেদ এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফিরোজ সরকার।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতি ও পরিবেশ কৃষির জন্য অত্যন্ত অনুকূল। আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ সম্প্রসারণ করা গেলে দেশের চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত খাদ্য উৎপাদন সম্ভব হবে।’
তিনি আরও বলেন, দেশের অধিকাংশ মানুষের জীবিকা কৃষির সঙ্গে সম্পর্কিত। গ্রামীণ অর্থনীতির মূল ভিত্তি এই কৃষিখাত। সরকার কৃষকদের সহায়তায় বিভিন্ন অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এর অংশ হিসেবে কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রম জোরদার করা হবে এবং সেচ ব্যবস্থার উন্নয়নে খাল খনন কর্মসূচিও ইতোমধ্যে চালু হয়েছে। কৃষিকে অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তিতে পরিণত করতে সরকার সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী কৃষি ও খাদ্য মন্ত্রণালয়সহ অধীনস্থ দফতর ও সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে বলেন, দেশের মানুষের সুষম খাদ্যের চাহিদা পূরণ এবং আগামী প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। সততা ও নিষ্ঠার মাধ্যমে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করলে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামনে আসবে। তাই এ খাতে কর্মরত সবাইকে আন্তরিকতা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান বলেন, দেশের কৃষিখাতকে আরও এগিয়ে নিতে দক্ষতা, সততা ও দায়িত্বশীলতার বিকল্প নেই। পাশাপাশি দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় সবুজায়নের উদ্যোগ আরও বিস্তৃত করতে হবে।
এমআর/এমআই