মাহফুজুর রহমান
২৩ মার্চ ২০২৬, ০৫:২৭ পিএম
ঈদের ছুটির তৃতীয় দিনেও রাজধানীর জাতীয় চিড়িয়াখানায় মানুষের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। দর্শনার্থীর চাপ এতটাই বেশি যে, বিনোদন কেন্দ্রটির সামনের সড়কটি প্রায় অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। সড়কে যান চলাচল ধীর হওয়ায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুরের পর চিড়িয়াখানা এলাকা সরেজমিন ঘরে এ দৃশ্য দেখা যায়।
একদিকে চিড়িয়াখানার প্রবেশপথের সামনে ব্যক্তিগত গাড়ি, রিকশা ও ভাড়ায়চালিত যানবাহনের সারি। অন্যদিকে ফুটপাতজুড়ে দোকান। ফলে দর্শনার্থীরা মূল সড়ক দিয়ে হেঁটে যাতায়াত করছেন। এতে যানজটের সৃষ্টি হয়ে আশপাশের এলাকায় চলাচলকারী সাধারণ যাত্রীরাও ভোগান্তিতে পড়ছেন।

একটি বাসের চালক বলেন, ‘সামনে গাড়ি আর মানুষের ভিড়ের কারণে এগোনো যাচ্ছে না। যাত্রী নিয়ে এসে আটকে আছি অনেকক্ষণ। ভাড়া যেমন পাইনি, সময়ও নষ্ট হচ্ছে।’
দর্শনার্থীরাও ভোগান্তির কথা স্বীকার করেন। গাজীপুর থেকে পরিবার নিয়ে আসা এক ব্যক্তি বলেন, ‘ভেতরে ঢোকার আগে রাস্তায়ই প্রায় এক ঘণ্টা সময় চলে গেছে। বাচ্চারা ক্লান্ত হয়ে পড়েছে।’
ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে কাজ করতে দেখা গেলেও দর্শনার্থীর চাপ বেশি থাকায় পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হচ্ছে না। অনিয়ন্ত্রিতভাবে গাড়ি থামানো এবং হঠাৎ যাত্রী নামানো-ওঠানোর কারণে জট আরও বেড়ে যাচ্ছে।
চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ বলছে, ঈদের ছুটিতে দর্শনার্থীর সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সড়ক ব্যবস্থাপনা ও পার্কিং সুবিধা উন্নত করার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন তারা।
এদিকে ঈদের ছুটিতে চিড়িয়াখানায় গত দুদিনের তুলনায় আজ যেন ভিড় আরও বেশি। সকাল থেকেই পরিবার-পরিজন, বিশেষ করে শিশু-কিশোররা প্রাণী দেখার জন্য এসেছে। প্রবেশপথ, টিকিট কাউন্টার এবং ভেতরের প্রতিটি অংশে দর্শনার্থীদের প্রচুর ভিড়।

মিরপুর থেকে আসা রাশেদ বলেন, ‘আমরা দুপুরে এসেছি, প্রায় পুরোটা ঘুরে দেখলাম। ভালোই লাগল। বাঘের বাচ্চা হয়েছে। সেগুলো অনেক কিউট।’
ধানমন্ডি থেকে আসা সাবিনা আক্তার জানান, ‘ভিড়ের কারণে ভালোভাবে ছবি তোলা বা প্রাণী দেখার সুযোগ হয়নি। এত মানুষ এলে স্বস্তি পাওয়া যায় না। ছেলেটা খাঁচার সামনে দাঁড়িয়ে প্রাণী দেখেছে, বইয়ে পড়া আর বাস্তবের মধ্যে মিল বুঝতে পারছে। এমন অভিজ্ঞতা ওর জন্য খুব ভালো।’
আরও পড়ুন: বদলে গেছে মিরপুর চিড়িয়াখানার পরিবেশ
মিরপুর থেকে আসা আরেক দর্শনার্থী বলেন, ‘বাচ্চাদের জন্য আসছি। চিড়িয়াখানার প্রাণীগুলোকে স্বচক্ষে দেখার শখ ওদের। ওরা বাঘ, জিরাফ, হাতিসহ আরও অনেক কিছু দেখেছে।’
উত্তরা থেকে বাবার সঙ্গে চিড়িয়াখানায় এসেছে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র ছোট্ট শিশু মিহির। উচ্ছ্বাস নিয়ে সে বলল, ‘বাঘ মামাকে দেখতে এসেছি, বাঘ মামা অনেক বড়! ঘুমিয়ে আছে।’
চিড়িয়াখানার বাঘের খাঁচার সামনে সবচেয়ে বেশি দর্শনার্থীর ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। শিশুরা বাঘের কাছে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ তাকিয়ে থাকে, ছবি তোলে এবং অভিভাবকের সঙ্গে প্রাণীর কৌতূহল ভাগাভাগি করছে।

মিহিরের বাবা সরিফুল ইসলাম বলেন, ‘ছোট ছেলেমেয়েদের আনন্দ এবং উৎসাহ দেখে আমরা অনেক খুশি হয়েছি। তাদের জন্য এটি শুধু বিনোদন নয়, শিক্ষণীয় অভিজ্ঞতা।’
মিহিরের মতো শিশুদের এই আনন্দময় অভিজ্ঞতা বলছে, ঈদের ছুটিতে চিড়িয়াখানা কেবল একটি বিনোদন কেন্দ্র নয়, বরং শিশুদের শেখার ও প্রকৃতির সঙ্গে সংযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা।
দর্শনার্থীরা জানাচ্ছেন, বাঘের খাঁচার কাছে এসে শিশুদের মুখে হাসি এবং কৌতূহল দেখার মতো এক আলাদা আনন্দ রয়েছে, যা পরিবারে স্মৃতি হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে থাকে।
চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানায়, ঈদের ছুটির দিনগুলোতে দর্শনার্থীর সংখ্যা স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বহুগুণ বেশি হয়। তাই অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন এবং নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
এম/এএইচ