সোমবার, ২৩ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

ছুটির দিনে পরিবারের সঙ্গে ঘুরে আসুন জাতীয় চিড়িয়াখানায়

এইচ এম. ইমরান হোসাইন
প্রকাশিত: ০৭ এপ্রিল ২০২৩, ০৩:২৩ পিএম

শেয়ার করুন:

ছুটির দিনে পরিবারের সঙ্গে ঘুরে আসুন জাতীয় চিড়িয়াখানায়

ভ্রমণ মানুষের আত্মার খোরাক জোগায়। তাই ভ্রমণ করতে ভালবাসে না এমন মানুষ পৃথিবীতে খুবই কম। প্রায় প্রত্যেকেই চায় ভ্রমণের মাধ্যমে নিজের আনন্দ অনুভূতি খুঁজতে। ভ্রমণের মাধ্যমে নিজের অশান্ত-পরিশ্রান্ত মনকে তৃপ্তি দিতে। তবে ভ্রমণ অধিক তৃপ্তিদায়ক তখনই হয় যখন নিজ পরিবার-পরিজনকে নিয়ে কোনো এক প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে হারিয়ে যাওয়া যায়। পরিবারকে নিয়ে ঘুরে আসার এমনই এক সুন্দরতম স্থান ঢাকার মিরপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা।

এ জাতীয় চিড়িয়াখানা প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং বন্যপ্রাণীর এমন এক সংমিশ্রণ যেখানে পরিবারকে নিয়ে কল্পনার বাস্তবজগতে হারিয়ে যাওয়া যায়। উপলব্ধি করার সাথেসাথে স্বচক্ষে অবলোকনও করা যায় পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের দুর্লভ, বিলুপ্তপ্রায় বন্যপ্রাণী।


বিজ্ঞাপন


zoo

এখানে যে শুধু ভ্রমণপ্রেমিরা ঘুরতে আসে তেমনটাও নয়। এখানে অনেকেই নিজের বন্ধু-বান্ধব, প্রেমিক-প্রেমিকা নিয়ে প্রকৃতির সৌন্দর্যে হারিয়ে যায়। আদান-প্রদান করে মনের অনুভূতি-ভালবাসা। 

ছুটির দিনে পরিবারকে নিয়ে সারাদিন ঘুরতে পারবেন আর দেখতে পারবেন হরিণ খেকে শুরু করে রয়েল বেঙ্গল টাইগার, ময়ূর, হাতি, গণ্ডার, জিরাফ, বানর, সিংহ, অজগর সাপ, জলহস্তী, ভাল্লুক, হাতি, কুমির, জেব্রা, পানকৌড়িসহ অজানা সব প্রাণী।

zoo


বিজ্ঞাপন


চিড়িয়াখানায় প্রবেশ করেই দেখতে পাবেন হরিণ। আর এই দৃশ্য আপনাকে প্রথমেই মুগ্ধ করবে। এ দৃশ্য ভুলতে না ভুলতেই একটু সামনে গিয়ে দেখতে পাবেন বানরের খেলা করার দৃশ্য। যে দৃশ্য ছোট শিশু থেকে শুরু করে বয়োবৃদ্ধ ব্যক্তিও মুগ্ধতার সহিত অবলোকন করে।

এখান খেকে আরেকটু এগুলেই দেখতে পাবেন আফ্রিকান সাদা সিংহ। যে সিংহ দক্ষিণ আফ্রিকা, ফ্রান্স, সার্বিয়া ও অস্ট্রেলিয়ায় পাওয়া যায়। এ সিংহ দেখতে সোনালী থেকে সাদা রঙের। এরা মুরগির মাংস, ঘোড়ার মাংস ও গরুর মাংস খেয়ে বেচে থাকে।

zoo

চিড়িয়াখানায় সবচেয়ে আকাঙ্ক্ষিত প্রাণী হচ্ছে রয়েল বেঙ্গল টাইগার। বাঘ দেখতে সকল দর্শনার্থীই ভিড় জমায়। চিড়িয়াখানায় স্বচক্ষে বাঘকে দেখলেই বুঝতে পারা যায় বাঘ কত হিংস্র। অবশ্য এ খাঁচার মধ্যে হিংস্র হয়েও লাভ নেই। এজন্যই হয়তো বনের রাজা প্রায় সময়ই ঘুমিয়ে থাকেন। বিশেষ করে দুপুর বেলা আপনি চিড়িয়াখানায় গেলে বাঘকে ঘুমন্ত অবস্থায় দেখতে পাবেন। 

বাঘের পাশেই রয়েছে এশিয়ান কালো ভাল্লুক। এ ভাল্লুক দেখবে বেশ বড়সড়। গায়ের রং কুচকুচে কালো। এদের সাধারণত ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, মায়ানমার, চীন ও জাপানে পাওয়া যায়। ভাল্লুককে দেখতেই আপনার মনে পড়ে যায় শৈশবে বইয়ের পাতায় দেখা ভাল্লুকের ছবি। যেটা আপনি এখন স্বচক্ষে দেখতে পাচ্ছেন।

zoo

এখান থেকে ডানদিকের পথে হেটে গেলেই দেখতে পাবেন প্রকৃতির অপরূপ দৃশ্য। যেখানে বসে ক্লান্ত-বিষাদ দূর করা যায়। প্রিয়জনকে নিয়ে হারিয়ে যাওয়া খুনসুটির জগতে। এ গাছপালা প্রকৃতির মধ্যেই খুঁজে পাবেন বিভিন্ন প্রকৃতির বাজপাখি। 

ডানদিকের পথ ধরে কিছুদূর গিয়ে পাবেন ইয়া বড় অজগর সাপের আস্তানা। যেখানে শুধু সাপ আর সাপ। দেখে অবাক এবং ভয়ও পাবেন। এতবড় সাপ আপনার চোখ সরাসরি এর আগে কখনো অবলোকন করেনি। দর্শনার্থীদের মধ্যে অনেকেই এই অজগর সাপ দেখে চিৎকার করে ওঠেন। তবে এখান থেকে একটি বিষয় পরিষ্কার-স্বচ্ছভাবে উপলব্ধি করা যায় যে, হিংস্র প্রাণীরা এত ভয়ঙ্কর-শক্তিশালী হওয়ার পরেও মানুষের কাছে সৃষ্টিকর্তা তাদেরকে দুর্বল করে রেখেছে। এখানে সৃষ্টিকর্তার মহিমা উপলব্ধি করা যায়।

zoo

এছাড়াও চিড়িয়াখানায় গিয়ে দেখতে পারবেন ময়ূর, খরগোশ, কুমির, জলহস্তীসহ অসংখ্য পাণি। যে প্রাণীগুলো আপনার পরিবারকে নিয়ে খুব আনন্দের সহিত দেখতে পারবেন। পাশাপাশি চিড়িয়াখানার মধ্যে রয়েছে শিশুদের জন্য দৃষ্টিনন্দন শিশুপার্ক। এ পার্কে ছোট বাচ্চাদের সাথে বড়দেরকেও শিশুসুলভ আচরণে মেতে উঠতে দেখা যায়। শিশুরা হারিয়ে যায় আনন্দের কোলাহলের আড্ডাখানায়।

শিশুপার্কের পাশ দিয়ে যে পথটি চলে গেছে সেখানে একটি মনোরম লেক দেখতে পাবেন। এখানে বসে অনেকেই বিশ্রাম করেন। কেউ কেউ প্রিয়জনের সাথে অনুভূতি আদান-প্রদান করেন।

zoo

জাতীয় চিড়িয়াখানায় আরেকটি ভালোলাগার বিষয় হচ্ছে, পুরো চিড়িয়াখানা জুড়ে লাগানো আছে মাইক। যে মাইকে দর্শনার্থীদের জন্য বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। 

এভাবেই চিড়িয়াখানার ভেতরে ঘুরে ঘুরে দেখতে পারবেন বিভিন্ন অজানা প্রাণী। পরিবারের সঙ্গে ঘুরে অর্জন করে আসতে পারবেন নানান সব অভিজ্ঞতা। এ ভ্রমণ আপনাকে ভিন্নরকম আনন্দ দিবে।

লেখক: গণমাধ্যমকর্মী

এনএম

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর