images

জাতীয়

বাঘ-সিংহ দেখতে ভিড়, ঈদের পরদিন সরগরম চিড়িয়াখানা

মো. মেহেদী হাসান হাসিব

২২ মার্চ ২০২৬, ০৩:৫৪ পিএম

ঈদের লম্বা ছুটিতে অধিকাংশ মানুষ শহর ছেড়ে গ্রামে গেলেও যারা রয়ে গেছেন তারা আনন্দ উপভোগে রাজধানীর বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্র ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তার মধ্যে অন্যতম জাতীয় চিড়িয়াখানা। ঈদের পরদিন এই বিনোদনকেন্দ্র সব বয়সি দর্শনার্থীর আনাগোনায় সরগরম।

রোববার (২১ মার্চ) রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা সরেজমিনে ঘুরে এই চিত্র দেখা যায়।

j2

দর্শনার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কেউ সকালে আবার কেউ দুপুরে এসেছেন। অনেকে বন্ধুদের সঙ্গে, আবার কেউ পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসেছেন। এতে চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থীর ভিড় আরও বেড়েছে। প্রবেশপথ থেকে শুরু করে বাঘ, সিংহসহ বিভিন্ন পশুপাখির খাঁচার সামনে পর্যন্ত ছিল দর্শনার্থীদের উপস্থিতি।

বেশিরভাগ দর্শনার্থীর আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল বাঘ, সিংহ, ভাল্লুক, জিরাফ, জেব্রা, ভোঁদড়, বানর, উল্লুকসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী। এছাড়া ময়ূরসহ বিভিন্ন পাখির খাঁচার সামনেও প্রচুর ভিড়। শিশু-কিশোরদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো।

j4

রাজধানীর একটি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র মাহিন ও মুন। দুই বন্ধু শ্যামলী থেকে চিড়িয়াখানায় ঘুরতে এসেছেন। 

তাদের সঙ্গে কথা হলে মাহিন বলেন, আমরা দুজন প্রতিবছরই ঈদের ছুটিতে চিড়িয়াখানায় আসি। আগে যখন ছোট ছিলাম, বাবা নিয়ে আসতেন। এখন আমরা নিজেরাই আসি। দুপুরের পর থেকে এসে বাঘ, সিংহ, ইম্পালা, লামা, ভাল্লুক, উল্লুকসহ অনেক কিছু দেখেছি। এর মধ্যে বাঘ ও সিংহই আমাদের বেশি ভালো লেগেছে। কারণ এদের মধ্যে একটা রাজকীয় ভাব আছে।

j6

হাফসা চৌধুরী, বয়স ৫ বছর। বাবা-মায়ের সঙ্গে এসেছে চিড়িয়াখানায়। ছোট মেয়ের আবদার পূরণ করতেই এসেছেন তারা। 

হাফসার বাবা পরাগ বলেন, আমরা পুরান ঢাকা থেকে এসেছি। গতকাল (ঈদের দিন) সকালে আমার মেয়ে টেলিভিশনে বাঘ দেখে চিড়িয়াখানায় আসার বায়না ধরে। তার ইচ্ছা পূরণ করতেই আমরা এখানে এসেছি। মেয়ে অনেক খুশি হয়েছে, আমাদেরও ভালো লাগছে।

j7

ঢাকার ৩০০ ফিট এলাকা থেকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসেছেন মাসরেকুল রহমান। তিনি বলেন, ঢাকার ইট-পাথরের শহরে পরিবার নিয়ে ঘোরার মতো জায়গা অনেক কম। চিড়িয়াখানায় এলে ভালো লাগে। এখানে দীর্ঘসময় কাটানো যায়। বাচ্চারা পশুপাখি দেখে অনেক আনন্দ পায়। তাই ছুটি পেলেই এখানে আসি। তবে আরেকটু পরিচ্ছন্ন হলে আরও ভালো লাগত।

আরেক দর্শনার্থী মিম এসেছেন রামপুরা থেকে। তিনি বলেন, ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে বান্ধবীদের সঙ্গে নিয়ে চিড়িয়াখানায় এসেছি। সকাল থেকে ঘুরছি। সময় যে কীভাবে চলে যাচ্ছে বুঝতেই পারছি না। খুব ভালো লাগছে।

j8

প্রিয় পশু সম্পর্কে জানতে চাইলে মিম বলেন, আমার প্রিয় পশু হাতি। এত বড় দেহ হলেও এদের মধ্যে অহংকার নেই। খুবই শান্ত স্বভাবের হওয়ায় হাতি আমার প্রিয়।

জাতীয় চিড়িয়াখানার পরিচালক ড. রফিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, ঈদ উপলক্ষে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার জন্য ডিএমপি পুলিশ, র‍্যাব ও টুরিস্ট পুলিশ কাজ করছে। পাশাপাশি চিড়িয়াখানার নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মী, আনসার বাহিনী ও অন্যান্য কর্মচারীরাও সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন।

j9

রফিকুল ইসলাম বলেন, দর্শনার্থীর কারণে সৃষ্ট যানজট নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক পুলিশ কাজ করছে। ফলে দর্শনার্থীরা মোটামুটি স্বাভাবিকভাবে আসা-যাওয়া করতে পারছেন এবং চিড়িয়াখানার ভেতরেও স্বাচ্ছন্দ্যে ঘুরে বেড়াতে পারছেন। এখন পর্যন্ত কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি।

চিড়িয়াখানার এই শীর্ষ কর্মকর্তা আরও জানান, আজকের তুলনায় ছুটির শেষ দিনে (২৩ মার্চ) দর্শনার্থীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

এমএইচএইচ/এএইচ