রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার ঈদের ছুটিতে হয়ে উঠেছে দর্শনার্থীদের অন্যতম আকর্ষণ। পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে এসে অনেকে বিজ্ঞানভিত্তিক বিনোদনের সঙ্গে যুক্ত করছেন নিজেদের ঈদের আনন্দ।
ঈদের দ্বিতীয় দিন রোববার (২২ মার্চ) সকাল থেকেই নভোথিয়েটার প্রাঙ্গণে দর্শনার্থীদের আগমন শুরু হয়। দুপুরের দিকে দেখা যায় শিশু-কিশোরদের পাশাপাশি তরুণ-তরুণী ও অভিভাবকরাও সমান আগ্রহ নিয়ে ভেতরে ঢুকছেন। টিকিট কাউন্টারের সামনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে দেখা যায় অনেক দর্শনার্থীকে।
বিজ্ঞাপন
দর্শনার্থীরা জানান, ঈদের ছুটিতে ঘুরতে যাওয়ার জন্য ঢাকার ভেতরে নিরাপদ ও শিক্ষামূলক জায়গা নভোথিয়েটার। বিশেষ করে শিশুদের নিয়ে আসার ক্ষেত্রে এটি বিনোদনের পাশাপাশি শেখার সুযোগও তৈরি করে।
নভোথিয়েটারে ঘুরতে আসা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সাকিব হাসান বলেন, ‘বন্ধুদের সঙ্গে ঈদের দিনটা একটু ভিন্নভাবে কাটাতে চেয়েছিলাম। এখানে এসে বিজ্ঞানের বিষয়গুলো এত কাছ থেকে দেখা সত্যিই অন্যরকম অভিজ্ঞতা।’
মিরপুর থেকে আসা গৃহিণী নাজমা আক্তার বলেন, ‘শিশুরা অনেক দিন ধরেই এখানে আসার জন্য বলছিল। ঈদের ছুটিতে সময় পেয়ে নিয়ে এলাম। তারা খুব খুশি, আমরাও আনন্দ পাচ্ছি।’
স্কুল শিক্ষার্থী রাইসা জানায়, ‘আমি আগে শুধু বইয়ে গ্রহ-নক্ষত্রের কথা পড়েছি। এখানে এসে সেগুলো চোখের সামনে দেখতে পারছি, খুব ভালো লাগছে।’
বিজ্ঞাপন
চাকরিজীবী দর্শনার্থী মাহবুব রহমান বলেন, ‘ঈদের সময় ঢাকার বাইরে যাওয়া সম্ভব হয়নি। তাই পরিবার নিয়ে এখানে এসেছি। এটি একইসঙ্গে বিনোদন ও শিক্ষার একটি সুন্দর জায়গা।’
নভোথিয়েটারের ভেতরে মূল আকর্ষণ ডোম থিয়েটার, যেখানে মহাকাশভিত্তিক প্রদর্শনী দর্শকদের ভিন্ন এক জগতে নিয়ে যায়। আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি এই প্রদর্শনীতে সৌরজগত, গ্রহ-নক্ষত্র ও মহাকাশের নানা রহস্য তুলে ধরা হয়।
এছাড়াও রয়েছে বিভিন্ন ইন্টারেক্টিভ গ্যালারি ও বিজ্ঞানভিত্তিক প্রদর্শনী, যা শিশু-কিশোরদের মধ্যে বিজ্ঞানচর্চার আগ্রহ বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
নভোথিয়েটার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঈদ উপলক্ষে দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে নিয়মিত প্রদর্শনীর পাশাপাশি বিশেষ ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। প্রতিদিন নির্ধারিত সময় অনুযায়ী একাধিক শো পরিচালনা করা হচ্ছে।
ঈদের ছুটিতে রাজধানীর অন্যান্য বিনোদন কেন্দ্রের মতো নভোথিয়েটারেও দর্শনার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নগরজীবনের ব্যস্ততার মাঝে এই সময়টুকু পরিবার নিয়ে কাটাতে পেরে অনেকেই সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।
এম/ক.ম

