নিজস্ব প্রতিবেদক
২২ মার্চ ২০২৬, ১০:৪৫ এএম
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ, কুমিল্লায় পদুয়ারবাজার, নড়াইল, হবিগঞ্জ ও ফেনীর রামপুর এলাকায় ঈদুল ফিতরের সকাল থেকে রোববার ভোর পর্যন্ত সড়ক ও নদে শিশুসহ ২২ জন নিহত হয়েছেন। জামালপুরে ভাসমান সেতু ভেঙে পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। কুমিল্লায় ট্রেন-বাস সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন ১২ জন। ফেনীতে ত্রিমুখী সংঘর্ষে মারা গেছেন তিনজন। নড়াইল ও হবিগঞ্জে একজন করে মোট ২ জন নিহত হয়েছেন।
নড়াইলে যুবক নিহত
ঈদের দিন (২১ মার্চ) শনিবার নড়াইল সদর উপজেলায় মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে চালক মো. রাব্বি মোল্যা (২০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছে।
এ ঘটনায় রোমান মোল্যা নামে আরও একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এদিন বিকেল তিনটার দিকে উপজেলার ধোন্দা কাজীপাড়া মসজিদ এলাকায় মাগুরা-নড়াইল আঞ্চলিক মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মো. রাব্বী মোল্যা নড়াইল পৌরসভার রঘুনাথপুর এলাকার পান্নু মোল্যার ছেলে।
নড়াইল সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওলি মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ব্রহ্মপুত্র নদে ডুবে ৫ শিশু নিহত
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর স্থাপন করা ভাসমান সেতু ভেঙে পাঁচ শিশু ডুবে মারা গেছে। ঈদুল ফিতরের দিন বিকেল ৪টার দিকে দেওয়ানগঞ্জ থানার সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলো দেওয়ানগঞ্জ ডাকাতিয়াপাড়া এলাকার জয়নাল আবেদীনের মেয়ে মায়া মনি (১০), তার ছেলে মিহাত (১৪), বাহাদুরাবাদ ইউনিয়নের ঝালুরচর এলাকার শের আলীর ছেলে আব্দুল মোতালেব (৬), মেয়ে খাদিজা (১২) ও দেওয়ানগঞ্জ পৌর শহরের বেলতলি বাজার এলাকার হাবিবুল্লাহর ছেলে আবির হোসেন (১৪)।
স্থানীয়রা জানান, ঈদ বা যেকোনো উৎসবে ভাসমান সেতুর ওপর দিয়ে ব্রহ্মপুত্র নদ পার হয়ে কালিকাপুর বাঁধে ঘুরতে যান সাধারণ মানুষ। বিকেলে বাঁধে যাওয়ার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ভাসমান সেতুতে ভিড় জমান অনেকে। অতিরিক্ত চাপের কারণে সেতুটি ভেঙে যায়। এতে নদে পড়ে যান অনেকেই। সাঁতার কেটে অনেকে তীরে উঠলেও নিখোঁজ ছিলেন কয়েকজন শিশু।
জামালপুর ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন অফিসার শেখ রবিউল ইসলাম আকন্দ জানান, খবর পেয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আর কোনো নিখোঁজের আবেদন না থাকায় অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।
উদ্ধারকাজে সহায়তা করে সেনাবাহিনী, বিএনপির নেতাকর্মী ও স্থানীয়রা। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে হতাহতদের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। তিনি জানান, সেখানে একটি স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণ করা হবে।
হবিগঞ্জে নানা বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে শিশু নিহত
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে নানার বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে মিম আক্তার (৮) নামে এক শিশু। ঈদের দিন সন্ধ্যা ৬টায় নবীগঞ্জ-আউশকান্দি সড়কের ছালামতপুরস্থ পেট্রোল পাম্প সংলগ্ন স্থানে মাইক্রোবাসের ধাক্কায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মিম উপজেলার পানিউমদা ইউনিয়নের কুড়াগাওঁ গ্রামের রিপন মিয়ার মেয়ে। মরদেহ ও মাইক্রোবাসটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।
নবীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) মো. দুলাল মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এসআই জয়ন্ত তালুকদারের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ ও ঘাতক মাইক্রোবাস থানায় নিয়ে আসে।
কুমিল্লায় বাসে ট্রেনের ধাক্কায় নিহত ১২
অপরদিকে কুমিল্লায় পদুয়ারবাজার বিশ্বরোড এলাকায় রেলক্রসিং অতিক্রমকালীন সময়ে একটি যাত্রীবাহী বাসকে ধাক্কা দেয় ট্রেন। এতে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন অনেকে। শনিবার (২১ মার্চ) রাত ৩টার দিকে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজার এলাকার রেলক্রসিংয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে সাতজন পুরুষ, তিনজন নারী এবং দুইজন শিশু রয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস উদ্ধারকাজ চালিয়েছে। হতাহতদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
_20260322_104510096.jpg)
স্থানীয়রা জানান, মামুন পরিবহনের বাসটি গাইবান্ধা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ হয়ে নোয়াখালী যাচ্ছিল। রাতে বাসটি জাঙ্গালিয়া কচুয়ায় পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড ফ্লাইওভারের নিচে রেললাইন পার হওয়ার সময় চট্টগ্রাম থেকে আসা ঢাকামুখী চট্টগ্রাম মেইল ট্রেনের ধাক্কায় দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ট্রেনটি বাসটিকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে নিয়ে যায়।
ধারণা করা হচ্ছে, রেলক্রসিংয়ে কোনো পাহারাদার না থাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর চট্টগ্রামের সঙ্গে ঢাকাসহ সারাদেশের রেলযোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। আহতদের কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম বিভাগের ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘প্রাথমিক অনুসন্ধানে গেটম্যানের সঙ্গে ট্রেনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতাকে কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাই পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে কর্মরত দুই গেটম্যানকে বরখাস্ত করা হয়েছে। সেখানে নতুন করে গেটম্যান দেওয়া হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দুর্ঘটনার সঠিক কারণ বের করতে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। একটি বিভাগীয় এবং অপরটি আঞ্চলিক। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলছে।’
ফেনীতে বাস, অ্যাম্বুলেন্স ও মোটরসাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষে নিহত ৩
অন্যদিকে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর রামপুর এলাকায় বাস, অ্যাম্বুলেন্স ও মোটরসাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষে তিনজন প্রাণ হারিয়েছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন। রোববার (২২ মার্চ) ভোর ৪টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
মহিপাল হাইওয়ে থানা পুলিশের ইনচার্জ আসাদুল ইসলাম জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনী-রামপুর এলাকায় চট্টগ্রাম অভিমুখী একটি লেনের কাজ চলছিল। এ সময় একটি অ্যাম্বুলেন্স ধীর গতিতে পারাপার হলে শ্যামলী পরিবহনের একটি বাস অ্যাম্বুলেন্সটিকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়।
এ ঘটনায় বাস ও অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হলে পেছনে মোটরসাইকেল ও আরও কিছু বাসের জট লেগে যায়। কিছুক্ষণ পর বেপরোয়া গতিতে আসা দোয়েল পরিবহনের আরেকটি বাস ওই জটলার মধ্যে ধাক্কা দেয়। এতে বাস, অ্যাম্বুলেন্স ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়। এ সময় এক মোটরসাইকেল আরোহী, বাসের সুপারভাইজার ও এক যাত্রী নিহত হন।
নিহতদের মরদেহ ফেনী সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। হতাহতদের নাম-পরিচয় শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ।
এমআই