images

জাতীয়

তেল সংকটে বাস ছাড়তে দেরি, বিড়ম্বনায় যাত্রী ও কাউন্টারকর্মীরা

মো. মেহেদী হাসান হাসিব

১৬ মার্চ ২০২৬, ০৯:২৩ পিএম

ঈদযাত্রাকে সামনে রেখে যাত্রীদের সুন্দর ও আরামদায়ক ভ্রমণ উপহার দিতে বাস কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন প্রস্তুতি নিলেও সেই পরিকল্পনায় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে জ্বালানি তেলের সংকট। তেলসংকটের কারণে কোনো বাসই নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যেতে পারছে না। এতে একদিকে যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়ছেন, অন্যদিকে বিড়ম্বনায় পড়ছেন বাস কাউন্টারের কর্মীরাও।

সোমবার (১৬ মার্চ) কল্যাণপুর বাসস্ট্যান্ডে সরেজমিনে গিয়ে এমন চিত্র দেখা যায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, ইফতারের পর থেকেই বাস কাউন্টারগুলোতে যাত্রীদের ভিড় বাড়তে থাকে। কেউ আগাম টিকিট কেটে এসেছেন, কেউ টিকিটের জন্য এক কাউন্টার থেকে অন্য কাউন্টারে ঘুরছেন। আবার কেউ নির্ধারিত বাসের জন্য অপেক্ষা করছেন। তবে বেশিরভাগ যাত্রীর আগাম টিকিট থাকায় তারা নির্ধারিত বাসের জন্যই অপেক্ষা করছেন।

যাত্রীরা জানান, প্রায় সব বাসই দেরিতে ছাড়ছে। কোনো বাসই নির্ধারিত সময়ে ছেড়ে যাচ্ছে না। অন্যদিকে কাউন্টারকর্মীরা বলছেন, পাম্পে তেল নিতে দেরি হওয়ায় বাসগুলো সময়মতো ছাড়তে পারছে না। তেলের সংকটের কারণেই এই সমস্যা তৈরি হয়েছে। ফলে তারাও বিড়ম্বনায় পড়ছেন।

শ্যামলী বাসের কাউন্টার মাস্টার কিশোর কুমার ঢাকা মেইলকে বলেন, যাত্রীচাপ কিছুটা বেড়েছে। তবে বাস সময়মতো ছাড়তে না পারায় ভিড়টা আরও বেশি মনে হচ্ছে। সময়মতো বাস ছাড়তে পারলে এত ভিড় হতো না।

আরও পড়ুন: সায়েদাবাদ-যাত্রাবাড়ীতে যাত্রীর চাপ কম, তবে সংকট কাটেনি জ্বালানি তেলের

বাস দেরিতে ছাড়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, পাম্পে তেল নিতে দেরি হচ্ছে। এখনো তেলের সংকট রয়েছে। একটি পাম্প থেকে পুরো তেল পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে একটি বাসে তেল নিতে দুটি পাম্পে যেতে হচ্ছে। এজন্য বাসগুলো সময়মতো ছাড়তে পারছি না।

তিনি আরও বলেন, সব বাস দেরি করছে না। যে বাসগুলো আগে তেল নিয়ে কাউন্টারে পৌঁছাচ্ছে, সেগুলো আগে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। আর যেগুলোর তেল নিতে দেরি হচ্ছে, সেগুলো দেরিতে ছাড়ছে। এজন্য যাত্রীদের সামাল দিতে আমরা যেমন বিড়ম্বনায় পড়ছি, তেমনি যাত্রীদেরও ভোগান্তি হচ্ছে। এখানে আমাদের কিছু করার নেই।

হানিফ এন্টারপ্রাইজের কাউন্টার মাস্টার আকাশ ঢাকা মেইলকে বলেন, ঈদযাত্রার চাপ এখনো পুরোপুরি শুরু হয়নি, তবে ধীরে ধীরে বাড়বে।

প্রতি ঈদে সিডিউলের বাইরে অতিরিক্ত চাহিদা সামাল দিতে কিছু বাস রিজার্ভ রাখা হয়। এবারও এমন কোনো পরিকল্পনা আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এবার সব টিকিট অনলাইনে দেওয়া হয়েছে, তাই কাউন্টারে ভিড় কম। অন্যদিকে তেলের সংকট থাকায় সিডিউলের বাসগুলোই সময়মতো ছাড়তে পারছি না। এজন্য রিজার্ভ বাস রাখার কোনো পরিকল্পনা নেই।

আরও পড়ুন: যাত্রীর ভিড় নেই গাবতলীতে, চাপ বাড়বে বিকেল থেকে

বাসের অপেক্ষায় থাকা যাত্রী মাজহারুল ইসলাম নীলফামারীর উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়বেন। তিনি একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। ঈদের আগে আজই তাঁর শেষ অফিস ছিল। অফিস শেষে গ্রামে যাওয়ার জন্য বিকেল সাড়ে চারটার দিকে বাস কাউন্টারে এসেছেন। তবে বিকেল পাঁচটার বাস ইফতারের পরও কাউন্টারে পৌঁছায়নি।

তিনি বলেন, অফিস শেষ করে সাড়ে চারটার দিকে এখানে এসেছি। পাঁচটার বাস এখনো আসেনি। যতবারই কাউন্টারে খোঁজ নিতে যাচ্ছি, তারা বলছে, আরেকটু সময় লাগবে। বসে থাকতে থাকতে এখন বিরক্ত লাগছে।

অন্য এক যাত্রী বলেন, কাউন্টার থেকে বলছে তেল নিতে দেরি হচ্ছে। পাম্পগুলোতে অনেক ভিড়, আবার পর্যাপ্ত তেলও নাকি দিচ্ছে না। অথচ সরকার বলেছে গণপরিবহন ও দূরপাল্লার যানবাহনের জন্য তেলের কোনো সীমাবদ্ধতা নেই। তাহলে এখন কেন তেলের সংকটের কথা বলা হচ্ছে? এগুলো সব ধান্দাবাজি।

এদিকে সড়ক ও সেতু, রেল ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছেন, গত সাত দিনে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি নেওয়ার কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। যাত্রীর চাপ সামাল দিতে পর্যাপ্ত বাস প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং টার্মিনালে ঢোকা-বের হওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যাতে প্রধান সড়কে যানজট না হয়। এছাড়া তেলের কোনো সংকট নেই এবং দামও বাড়ছে না।

তিনি আরও বলেন, আগামী দুই থেকে আড়াই দিনের মধ্যে প্রায় দেড় কোটি মানুষ ঢাকা ছাড়বেন। সরকারি সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করে নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।

এমএইচএইচ/এআর