images

জাতীয়

সায়েদাবাদ-যাত্রাবাড়ীতে যাত্রীর চাপ কম, তবে সংকট কাটেনি জ্বালানি তেলের

মহিউদ্দিন রাব্বানি

১৬ মার্চ ২০২৬, ০৫:৩১ পিএম

ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছেন ঘরমুখো মানুষ। তবে এবারের ঈদযাত্রার শুরুটা তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক। সড়ক, নৌ ও রেলপথে এখনো তেমন ভিড় না থাকায় অনেকেই নির্বিঘ্নে নিজ নিজ গন্তব্যে রওনা হচ্ছেন। সরকারি অফিস ও গার্মেন্টস খোলা থাকায় বাস টার্মিনালগুলোতে যাত্রীর চাপ কম রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে ঈদের ছুটি শুরু হলে যাত্রীচাপ হঠাৎ করেই বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পরিবহন সংশ্লিষ্টরা।

সোমবার (১৬ মার্চ) রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ, দোলাইরপাড়সহ বিভিন্ন বাস টার্মিনাল ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ঘুরে দেখা যায়, ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত শুরু হলেও এখনো বড় ধরনের ভিড় তৈরি হয়নি। অনেক যাত্রী সহজেই বাসের টিকিট সংগ্রহ করে নির্বিঘ্নে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন। কাউন্টারগুলোতে দীর্ঘ লাইনের চিত্রও তেমন দেখা যায়নি।

a

তবে যাত্রীদের অভিযোগ, ভিড় কম থাকলেও কিছু পরিবহন কোম্পানি টিকিটের ক্ষেত্রে বাড়তি ভাড়া নিচ্ছে। যদিও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদকে কেন্দ্র করে যাত্রী পরিবহনে বিভিন্ন খরচ বেড়ে যাওয়ায় সামান্য ভাড়া বাড়ানো হয়ে থাকে।

সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে শ্যামলী পরিবহনের কাউন্টারে দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকা মেইলকে বলেন, এখন পর্যন্ত টার্মিনালে তেমন যাত্রীচাপ নেই। যাত্রীরা আসছেন, টিকিট নিচ্ছেন এবং নির্বিঘ্নে গন্তব্যে চলে যাচ্ছেন। তবে সরকারি ছুটি শুরু হলে এবং ঈদ যত ঘনিয়ে আসবে, ততই যাত্রীচাপ বাড়বে।
বাড়তি ভাড়ার অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, আসলে আমরা খুব বেশি ভাড়া নিচ্ছি না। ঈদ উপলক্ষে সব সময়ই ভাড়া একটু বাড়তি থাকে। অনেক সময় যাত্রীরাও বিষয়টি মেনে নেন। কারণ ঈদের সময়ে সবাই একটু বাড়তি আয় করতে চায়।

সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, ঈদের আর কয়েকদিন বাকি থাকলেও সেখানে যাত্রীর চাপ তুলনামূলক কম। অনেক বাস পর্যাপ্ত যাত্রী না পেয়ে অপেক্ষা করছে, আবার কিছু বাস যাত্রী কম নিয়েই বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে যাচ্ছে। এতে কিছুটা হতাশা প্রকাশ করেছেন বাস মালিক ও শ্রমিকরা। তাদের আশা, ২৭ রমজানের পর থেকেই যাত্রীচাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

আরও পড়ুন: যাত্রীর ভিড় নেই গাবতলীতে, চাপ বাড়বে বিকেল থেকে

অন্যদিকে যাত্রাবাড়ী এলাকায় দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। ঢাকা-মাওয়া সড়কের যাত্রাবাড়ী মোড় থেকে পোস্তগোলা ব্রিজ পর্যন্ত যাত্রীদের বেশ ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। ওই এলাকায় বিভিন্ন পরিবহনের শতাধিক কাউন্টার থাকায় অনেক বাস সড়কেই দাঁড়িয়ে যাত্রী তুলছে। এক বাস ছেড়ে যাওয়ার পরপরই আরেক বাসে যাত্রী ওঠানো হচ্ছে। এতে সড়কে যানজটও সৃষ্টি হচ্ছে।
ঢাকা-খুলনা-বরিশাল রুটের হানিফ পরিবহনের এক সুপারভাইজার রাসেল বলেন, ঈদের সময় যাত্রীরা গ্রামে যাওয়ার কারণে ঢাকা থেকে বাসগুলো যাত্রী নিয়ে গেলেও ফেরার পথে অনেক সময় খালি আসতে হয়। এতে পরিবহন মালিকদের আর্থিক চাপ তৈরি হয়।

তিনি বলেন, একটি বাসের প্রতিটি ট্রিপ পরিচালনায় প্রায় ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। গন্তব্যে যাত্রী নিয়ে গেলেও ফেরার পথে যদি যাত্রী না থাকে, তাহলে পুরো খরচই মালিকদের বহন করতে হয়। এসব বিষয়ও ভাড়া নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিবেচনা করতে হয়।

অন্যদিকে কুমিল্লাগামী তিশা পরিবহনের চালক সুমন জানান, এবার সড়কে এখন পর্যন্ত তেমন যানজট দেখা যাচ্ছে না। ফলে যাত্রা অনেকটাই স্বস্তিদায়ক হচ্ছে।

b

তিনি বলেন, রাস্তা এখনো অনেকটা ফাঁকা। তবে আমাদের বড় সমস্যা হচ্ছে জ্বালানি নেওয়া। অনেক পাম্পে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে হচ্ছে। কখনো কখনো দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। এতে অনেক সময় নির্ধারিত ট্রিপ মিস হয়ে যায়।

এদিকে রাজধানীতে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়ায় অনেক গ্রাহক পেট্রোল পাম্প থেকে তেল না পেয়েই ফিরে যাচ্ছেন। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকদের ভোগান্তি সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে। অনেকেই দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরছেন।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার কথা জানানো হলেও বাস্তবে রাজধানীর অনেক পাম্পে পর্যাপ্ত তেল পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও মাতুয়াইল এলাকার কয়েকটি পেট্রোল পাম্পে দেখা গেছে, তেল নেওয়ার জন্য মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, পিকআপ এবং দূরপাল্লার বাস-ট্রাকের দীর্ঘ লাইন। অনেক ক্ষেত্রে কয়েক শ মিটার পর্যন্ত যানবাহনের সারি তৈরি হয়েছে। চালকরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন।

তেল নিতে আসা কয়েকজন মোটরসাইকেল চালক জানান, অনেক সময় সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল পাওয়া যায় না। আবার কখনো কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করার পর জানতে হয় পাম্পে তেল শেষ হয়ে গেছে।

c

পাম্প মালিকদের অভিযোগ, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম থাকায় তারা গ্রাহকদের চাহিদা পূরণ করতে পারছেন না।

রাজধানীর একটি ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক জানান, প্রতিদিন ডিজেলের চাহিদা প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার টন হলেও তারা পাচ্ছেন মাত্র ৪ থেকে ৫ হাজার টন। একইভাবে পেট্রোল ও অকটেনের সরবরাহও প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।

তিনি বলেন, সরবরাহ কম থাকায় অনেক সময় পাম্পে তেল দ্রুত শেষ হয়ে যায়। তখন লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অনেক যানবাহনকে তেল না দিয়েই ফিরে যেতে হয়। এতে গ্রাহকদের অসন্তোষ বাড়ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদের ছুটি শুরু হলে রাজধানী ছাড়ার মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়বে। সেই সময় জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকলে পরিবহন খাতে বড় ধরনের ভোগান্তি তৈরি হতে পারে। এজন্য দ্রুত চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন তারা।

এমআর/এআর