images

জাতীয়

তেল নিয়ে শঙ্কা নেই, ঈদযাত্রায় বাড়বে দূরপাল্লার বাসের ট্রিপ

মোস্তফা ইমরুল কায়েস

১০ মার্চ ২০২৬, ০১:২২ পিএম

  • ঢাকা সিটি ছাড়া বাইরে তেল পেতে তেমন ভোগান্তি নেই
  • পাম্পগুলোতে পর্যাপ্ত তেল মিলছে, দাবি চালকদের
  • তেল নিয়ে চিন্তিত নন দূরপাল্লার বাস সংশ্লিষ্টরা

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার কারণে দেশের জ্বালানি খাতে শুরু হয়েছে দুচিন্তা। যদিও সরকার বলছে, তেলের মজুত পর্যাপ্ত রয়েছে। কিন্তু সেদিকে দৃষ্টি না দিয়ে হাইপ তুলে একটি পক্ষ ছুটছে তেল পাম্পগুলোতে। এতে ভোগান্তির চিত্র ফুটে উঠছে। যদিও এতে চিন্তিত নন দূরপাল্লার বাস পরিবহণ সংশ্লিষ্টরা। 

তারা বলছেন, আসন্ন ঈদ যাত্রায় সড়ক পথের পরিবহনে বিশেষ করে দূরপাল্লার বাসগুলোতে তেমন কোনো প্রভাব পড়বে না। গত বছরের মতোই তারা বাস ছাড়তে পারবেন। তবে বাড়তি ভাড়া আদায় করা হবে কিনা তা নির্ভর করছে সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর।

সোমবার (৯ মার্চ) বিকেলে গাবতলী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল ঘুরে বাস চালক, হেলপার, কাউন্টার ম্যানেজার ও টিকিট বিক্রয়কারী কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। 

H

দেশে পেট্রোল ও অকটেনের বাইরে পরিবহণ খাতের একটা বড় অংশ ডিজেলে চলে। বিশেষ করে ঈদকে কেন্দ্র করে দূরপাল্লার বাসগুলো। 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তারা এখন দূরপাল্লার বাসগুলোতে স্বাভাবিক ট্রিপ মারছেন। এ ট্রিপ ২০ রোজার থেকে বাড়বে। তাছাড়া এ সময়টুকুতে লোকজনও কম গ্রামে ছোটে। ফলে কাউন্টারগুলোতে ভিড় নেই। পাশাপাশি জ্বালানি তেলের প্রভাবে দূরপাল্লার বাসের ওপর প্রভাব পড়বে, যাত্রী কমবে এবং ট্রিপ কমে আসবে বলে তারা মনে করছেন না। কারণ ঢাকা থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে চলাচলকারী বাসগুলোর জ্বালানি সংগৃহীত হয় জেলার পাম্পগুলো থেকে। ফলে তাদের চিন্তা নেই। তারা এই মুহূর্তেও তেল পাচ্ছেন। আর পর্যাপ্ত তেল পেতে তাদের কোনো ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে না। 

খুলনা, সাতক্ষীরা, যশোর ও শ্যামনগর রুটে চলাচল করে সুন্দরবন লাইন পরিবহণ। পরিবহণটির গাবতলী বাস টার্মিনালে থাকা একটি কাউন্টারের ম্যানেজার কবির হোসেন ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘আমরা যা তেল পাই তা যশোর, সাতক্ষীরা ও শ্যামনগর যাতায়াত করে থেকে যায়। ফলে আমরা দুশ্চিন্তা নেই। জেলার পাম্পগুলোতে পর্যাপ্ত তেল আছে। তারা গেলে যা চাওয়া হচ্ছে তা দেওয়া হচ্ছে। তাছাড়া সরকারও বলছে তেলের মজুত আছে। এসব কারণে আমরা এখনো চিন্তা করছি না।’

HA

তিনি আরও বলেন, ‘আমি মনে করি না তেলের কারণে সামনে ঈদ যাত্রায় আমাদের বাসের ওপর প্রভাব পড়বে। এখন যে বাস চলছে তা ঈদ যাত্রার বাসের ৬০ শতাংশ। প্রতি ঈদে বাস আরো ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ বাড়ানো হয়। শুধুমাত্র যাত্রীর চাপের কথা ভেবে।’

তিনি মনে করেন, জ্বালানি তেল সংকটে পড়তে যাচ্ছে এ নিয়ে যে গুজব ছড়ানো হচ্ছে তা আসলে ঠিক নয়। এজন্য সকলকে সচেতন হওয়া জরুরি। অযথা পাম্পগুলোতে ভিড় না করে যার যতোটুকু দরকার তা নিলেই সমস্যা হওয়ার কথা নয়।

একই টার্মিনালে থালা ঈগল পরিবহণ কাউন্টারের ম্যানেজার জয়ন্ত রায় বলেন, ‘তেলের কারণে বাসের ট্রিপ কমবে না। যা আছে তা যাত্রীর চাপের ওপর আরও বাড়বে। ফলে ঈদ যাত্রায় ট্রিপ কমবে বলে আমরা মনে করছি না। আমরা তেলের সরবরাহ পাচ্ছি ফলে কেন চিন্তা হবে?’
তিনি আরও বলেন, ‘তেলের সমস্যা কিছুটা ঢাকার পাম্পগুলোতে হচ্ছে কিন্তু ঢাকার বাইরে নয়। আমাদের প্রতিটি বাস পর্যাপ্ত তেল পাচ্ছে। আমাদের সরকারের বেধে দেওয়া তেলের বাইরেও পরিমাণ তেল পেতে কোনো কষ্ট হচ্ছে না।’ 

ঢাকা থেকে বগুড়া রংপুর রুটে চলাচল করে টিআর পরিবহন। শনিবার বিকেলে টার্মিনালের সামনের সড়কে বাস থামিয়ে ভাসমান যাত্রী তোলার অপেক্ষায় হেলপার আসাদুল।

এসময় তার সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানান, তারা মাঝপথে তেল নেন। ঢাকা থেকে রংপুর যাওয়া আসার সময় বগুড়ায় তারা তেল নেন। ফলে তাদের কোনো সমস্যা হচ্ছে না। আর পাম্পগুলো থেকে পর্যাপ্ত তেলও পাচ্ছেন। 

Bus_dhakamail

ঈদে তেলের কারণে দূরপাল্লার বাসায় প্রভাব পড়বে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সরকার তো বলে নাই তেল নাই। তেল পর্যাপ্ত আছে। এখন দেখা যাক সরকারি কী ঘোষণা আসে। আমরা মনে করছি না। কারণ পাম্পে গেলে তেল পাচ্ছি।’ 

তাদের সঙ্গে কথা বলার বাইরে টার্মিনালটির বিভিন্ন পয়েন্টে ভাসমান টিকিট বিক্রয়কারী, বিভিন্ন বাসের চালক ও হেলপারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগাম টিকিট আগামী ১৬ তারিখ থেকে বিক্রি হবে। তারা এবারও প্রত্যাশা করছেন যাত্রীর বাড়তে চাপ হবে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে দেশের তেলের বাজারে যে অস্থিরতা শুরু হয়েছে তার প্রভাব দূরপাল্লার বাসে পড়বে না। 

তাদের সঙ্গে কথা বলে আরও জানা গেছে, তেল সংকট রয়েছে, তেল পাওয়া যাচ্ছে না এবং পাম্পগুলো পর্যাপ্ত তেল দিচ্ছে না এসব যারা বলছেন সবটাই গুজব। পাম্পগুলো থেকে বিশেষ করে জেলা পর্যায়ে তেল পেতে কোনো কষ্ট হচ্ছে না দূরপাল্লার বাস গুলোর। তারা এখন যেভাবে তেল পাচ্ছেন এই সরবরাহ অব্যাহত থাকলে ঈদ যাত্রায় কোনো ধরনের প্রভাব পড়বে না। 

এমআইকে/এমআই