শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

ফিলিং স্টেশনে তেল কেনাবেচায় মানতে হবে যেসব নির্দেশনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬ মার্চ ২০২৬, ০৬:০০ পিএম

শেয়ার করুন:

ফিলিং স্টেশনে তেল কেনাবেচায় মানতে হবে যেসব নির্দেশনা
তেল কিনতে ফিলিং স্টেশনে যানবাহনের দীর্ঘ সারি। ছবি সংগৃহীত।

মধ‍্যপ্রাচ‍্য চলমান সংঘাতের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের সরবরাহ কমে গেছে। জ্বালানি তেলের সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বাংলাদেশেও। এতে আতঙ্কিত হয়ে মানুষ ফিলিং স্টেশনে ভিড় করে বেশি করে তেল কিনছেন। সেজন্য ফিলিং স্টেশন থেকে তেল সরবরাহের সীমা বেঁধে দিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।

শুক্রবার (৬ মার্চ) দুপুরে বিপিসির ওয়েবসাইটে এ সংক্রান্ত দেওয়া একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তেল কেনাবেচার জন্য কিছু নিদের্শনাও দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনায় প্রতিবার তেল কেনার সময় আগের রসিদ দেখানোর কথা বলা হয়েছে।


বিজ্ঞাপন


বিপিসির বিজ্ঞপ্তিতে যানবাহনের ধরন অনুযায়ী তেলের কেনার সর্বোচ্চ সীমা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, দিনে একটি মোটরসাইকেল ২ লিটার পেট্রোল বা অকটেন, ব্যক্তিগত গাড়ি ১০ লিটার পর্যন্ত তেল, স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিক্যাল বা এসইউভি (যা জিপ নামে পরিচিত) ও মাইক্রোবাস ২০ থেকে ২৫ লিটার, পিকআপ বা লোকাল বাস ৭০ থেকে ৮০ লিটার ডিজেল, আর দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান বা কনটেইনার ট্রাক দৈনিক ২০০ থেকে ২২০ লিটার তেল নিতে পারবে।

নির্দেশনায় আরো বলা হয়েছে, দেশের ব্যবহৃত জ্বালানি তেলের প্রায় ৯৫ শতাংশ বিদেশ হতে আমদানি করতে হয়। বৈশ্বিক সংকটময় পরিস্থিতিতে দেশের জ্বালানি তেলের আমদানি ব্যবস্থাপনা মাঝেমধ্যে বাধাগ্রস্ত/বিলম্বিত হয়। চলমান বৈশ্বিক সংকট পরিস্থিতিতে বিভিন্ন গণমাধ্যম/সামাজিক মাধ্যমে জ্বালানি তেলের মজুত পরিস্থিতি নিয়ে নেতিবাচক সংবাদ প্রচার হওয়ায় ভোক্তা/গ্রাহকদের মধ্যে অতিরিক্ত চাহিদার প্রবণতা লক্ষ্যে করা যাচ্ছে। অতিরিক্ত চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে ডিলাররা বিগত সময়ের চেয়ে অতিরিক্ত পরিমাণ জ্বালানি তেল ডিপো থেকে সংগ্রহের চেষ্টা করছেন।

oil-2বিপিসির নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ফিলিং স্টেশন থেকে ভোক্তাকে তেলের ধরন, পরিমাণ ও দাম উল্লেখ করে রসিদ দিতে হবে এবং প্রতিবার তেল কেনার সময় আগের রসিদ দেখাতে হবে। ডিলাররা বরাদ্দ ও ভোক্তার ক্রয় রসিদ গ্রহণ করে তেল সরবরাহ করবে। ফিলিং স্টেশনগুলো জ্বালানি তেলের মজুত ও বিক্রির তথ‍্য ডিপোতে প্রদান করে জ্বালানি তেল গ্রহণ করবে।


বিজ্ঞাপন


ডিলারদের জ্বালানি তেল সরবরাহের আগে বর্তমান বরাদ্দ ও মজুতের তথ‍্য পর্যালোচনা করে সরবরাহ করা হবে এবং কোনো অবস্থায় বরাদ্দের চেয়ে বেশি তেল দেওয়া যাবে না বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা চলছে। ইরানও পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছে যুদ্ধ। ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় জ্বালানি তেল নিয়ে সংকটের আশঙ্কা রয়েছে। এমন অবস্থায় বাংলাদেশে ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেল কিনতে উপচেপড়া ভিড় লেগেছে। প্রতিটি স্টেশনের মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন ধরনের গাড়ির সারি ছিল অনেক লম্বা।

যদিও জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ বলছে, জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। দেশে জ্বালানি তেলের মজুত ফুরিয়ে যায়নি।

দেশে জ্বালানি সংকটের কোনো শঙ্কা নেই বলে জানান জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতও। প্রয়োজন অনুযায়ী তেল কেনার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, দেশে পর্যাপ্ত তেল মজুত আছে। উদ্বিগ্ন হয়ে মজুত না করে প্রয়োজন অনুযায়ী তেল কেনার পরামর্শ দেন তিনি।

এমআর

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর