images

জাতীয়

জ্বালানির মজুত বাড়লেও আপাতত রেশনিং চলবে: মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৮ মার্চ ২০২৬, ০৩:৩৪ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দেশে জ্বালানি সংকটের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই অবস্থায় সরকার জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার তাগিদ দিচ্ছে। এজন্য রেশনিং পদ্ধতি বা সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করে দিয়ে জ্বালানি বিক্রি হচ্ছে। ইতোমধ্যে জ্বালানিবাহী দুটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙর করায় দেশে জ্বালানির মজুদ বেড়েছে। আরও জাহাজ পথে রয়েছে। তবে যুদ্ধ কতদিন অব্যাহত থাকে সেটা এখনই বলতে না পারায় আপাতত রেশনিং পদ্ধতি অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

রোববার (৮ মার্চ) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু সরকারের এই অবস্থানের কথা জানান। এর আগে তিনি উত্তরাঞ্চল ছাত্র ফোরাম আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন।  

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী বলেন, পেট্রোল পাম্পের সামনে গেলে দেখা যায় বিশাল লাইন। যেহেতু যুদ্ধ চলছে, শোধনাগার বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, সেজন্য আমার কাছে যে মজুত আছে, সেটা সাশ্রয়ী ব্যবহার করতে বলেছি। রেশনিং করতে বলেছি। কারণ আমরা জানি না যুদ্ধ কতদিন চলবে।

আরও পড়ুন

তেলের পর্যাপ্ত মজুত আছে, ৯ মার্চ দুটি ভেসেল আসছে: জ্বালানি মন্ত্রী

ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, আজ বেলা ১১টায় একটি জাহাজ নোঙর করেছে। দুপুরে আরেকটি আসার কথা। এই দুটি জাহাজ নোঙর করার পর আরও মজুত বাড়বে। কিন্তু আমরা রেশনিং চালিয়ে যাবো।

মন্ত্রী বলেন, আমরা ক্ষমতায় আসার কিছু দিন পরই মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হলো, যেটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে জ্বালানির প্রধান ইস্যু। আমরা একটি ভঙ্গুর অবস্থা পেয়েছি। ঋণে ঋণে জর্জরিত অবস্থা রয়েছে। এর মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। আমাকে প্রতিদিন মানুষের কাছে জবাবদিহিতার মধ্যে আসতে হয়। আমাকে প্রতিনিয়ত জবাবদিহিতা করতে হয়।

RR
জ্বালানি সংকট সামাল দেওয়ার চেষ্টায় সরকার। ছবি: সংগৃহীত

জ্বালানির দাম আপাতত বাড়ানো হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, বিরোধীরা আতঙ্ক ছড়িয়েছে যুদ্ধের কারণে আমরা দাম বাড়াবো। কিন্তু আমরা আশ্বস্ত করছি, আমরা আপাতত দাম বাড়াবো না। তাই মজুদ করার দরকার নেই। আমাদের সংকট নেই। কিন্তু রেশনিং চালু থাকবে।

আরও পড়ুন

যুদ্ধের ছায়া: ঝুঁকিতে এলএনজি, চাপে বিদ্যুৎ-শিল্প ও রেমিট্যান্স

বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কায় গত শুক্রবার তেল বিক্রির সীমা নির্ধারণ করে দেয় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। এছাড়া দেশে চলমান জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট সামাল দিতে পরিবেশকদের রেশনিং করে তেল দেওয়া হচ্ছে। বিপণন কোম্পানিগুলো বলছে, জ্বালানির কোনো সংকট নেই।

এদিকে চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে এলএনজি ও এলপিজির আটটি জাহাজ। পাশাপাশি তেলের জাহাজও আসছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করা জ্বালানিবাহী ৮ জাহাজ ইতোমধ্যে বন্দরে এসে পৌঁছেছে। এসব জাহাজ গত ২৮ ফেব্রুয়ারির আগেই হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছিল।

জেবি