নিজস্ব প্রতিবেদক
১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:০৫ এএম
দীর্ঘ আন্দোলন, প্রাণহানি আর জুলাইয়ের অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সরকার পরিবর্তনের পর অবশেষে ফিরেছে ভোটের উৎসব। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আজ দেশের ২৯৯টি আসনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন প্রায় পৌনে ১৩ কোটি ভোটার। দেড় দশকের বেশি সময় পর অনেকের কাছেই এটি শুধু নির্বাচন নয়, এটি ইতিহাসের স্বাক্ষী হওয়া।
সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিরতিহীনভাবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। ভোট শেষ হওয়ার পরই সংসদ নির্বাচন, পোস্টাল ব্যালট ও গণভোটের ব্যালট একসঙ্গে গণনা করা হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

এবার প্রতিটি আসনে গড়ে প্রায় ৬ দশমিক ৭৮ জন প্রার্থী লড়ছেন। মোট প্রার্থী ২ হাজার ২৮ জন। এর মধ্যে ৫০টি রাজনৈতিক দলের ১ হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র ২৭৩ জন। নারী প্রার্থী ৮৩ জন।
প্রায় সাড়ে চার কোটি তরুণ ভোটার এবং ১০ লাখ ৯৫ হাজারের বেশি পোস্টাল ব্যালট এবারের ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে। ইতোমধ্যে ৮ লাখ ৮৩ হাজারের বেশি পোস্টাল ব্যালট সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের হাতে পৌঁছেছে।
প্রধান দুই জোট-বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোট জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের একটি বড় অংশের ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে না আসার সম্ভাবনার কথাও আলোচনা হচ্ছে।

ভোটকে ঘিরে নেওয়া হয়েছে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা। প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য দায়িত্বে রয়েছেন। সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি বিজিবি, র্যাব, পুলিশ ও আনসার মোতায়েন রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলো সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। ড্রোন ও বডি-ওর্ন ক্যামেরাও ব্যবহার করা হচ্ছে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দফতরের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘কেউ অরাজকতা সৃষ্টি করে পার পাবে না, প্রতিটি কেন্দ্র নজরদারিতে থাকবে।’

২৯৯টি আসনে মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৪৮ লাখের বেশি, নারী ৬ কোটি ২৮ লাখের বেশি এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২৩২ জন। ভোটগ্রহণের জন্য ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে ২১ হাজারের বেশি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ভোট পরিচালনায় প্রায় ৮ লাখ কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন।

এবারের নির্বাচন ঘিরে আন্তর্জাতিক আগ্রহও চোখে পড়ার মতো। ঢাকায় অবস্থান করছেন ৩৯৪ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও ১৯৭ জন বিদেশি সাংবাদিক। কমনওয়েলথ, এএনএফরেল, আইআরআই, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন সংস্থা ও দেশের প্রতিনিধিরা নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করছেন।
ভোট উপলক্ষে ২৪ ঘণ্টার জন্য ট্যাক্সি, পিকআপ, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। মোটরসাইকেল চলাচলেও ৭২ ঘণ্টার নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট কাজ, জরুরি সেবা ও দূরপাল্লার বাস চলাচল এ বিধিনিষেধের বাইরে।
এমআই