images

জাতীয়

স্যোশাল মিডিয়ায় নির্বাচনি প্রচারে কী করা যাবে, কী নয়

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:১৮ এএম

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেসবুক, ইউটিউবসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে নির্বাচনি প্রচারে ক্ষেত্রে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আচরণবিধি অনুযায়ী- প্রার্থী ও তাদের নির্বাচনি এজেন্টরা অনলাইনে প্রচারণা চালাতে পারবেন, তবে ভুয়া তথ্য, ঘৃণাত্মক বক্তব্য ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অপব্যবহারসহ একাধিক কর্মকাণ্ডে আরোপ করা হয়েছে বিধিনিষেধ। ইসির জারি করা ‘নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০২৫’ এ এসব বিষয়ে বিধিনিষেধ দেওয়া হয়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নির্বাচনি প্রচারে বিষয় রয়েছে বিধিমালার ১৬ ধারাতে। এই ধারায় বলা হয়,  কোনো প্রার্থী বা তার নির্বাচনি এজেন্ট বা প্রার্থীর পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণা পরিচালনা করতে পারিবেন, তবে সেই ক্ষেত্রে (ক) প্রার্থী বা তার নির্বাচনি এজেন্ট বা দল বা প্রার্থী সংশ্লিষ্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের নাম, একাউন্ট আইডি, ই-মেইল আইডিসহ অন্যান্য সনাক্তকরণ তথ্যাদি উক্তরূপে প্রচার-প্রচারণা শুরুর পূর্বে রিটার্নিং অফিসারের নিকট দাখিল করবেন।

নির্বাচনি বিধিমালায় বলা হয়, প্রচার-প্রচারণাসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কোনো বিষয়ে অসৎ উদ্দেশ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করতে পারিবেন না। ঘৃণাত্মক বক্তব্য, ভুল তথ্য, কারও চেহারা বিকৃত করা ও নির্বাচন সংক্রান্ত বানোয়াট তথ্যসহ কোনো প্রকার ক্ষতিকর কন্টেন্ট তৈরি ও প্রচার করিতে পারিবেন। প্রতিপক্ষ, নারী, সংখ্যালঘু বা অন্য কোনো জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে ঘৃণাত্মক বক্তব্য, ব্যক্তিগত আক্রমণ বা উস্কানিমূলক ভাষা ব্যবহার করতে পারবেন না।

এছাড়া নির্বাচনি স্বার্থ হাসিল করার জন্য ধর্মীয় বা জাতিগত অনুভূতির অপব্যবহার করা হয় এইরূপ কোনো কর্মকান্ড করতে পারবেন না। সত্যতা যাচাই ব্যতিরেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনো কনটেন্ট শেয়ার ও প্রকাশ করতে পারবেন না।

রাজনৈতিক দল, প্রার্থী বা প্রার্থীর পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি, ভোটারদের বিভ্রান্ত করিবার জন্য কিংবা নারী-পুরুষ নির্বিশেষে কোনো প্রার্থী বা ব্যক্তির চরিত্র হনন কিংবা সুনাম নষ্ট করার উদ্দেশ্যে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা অন্য কোনো মাধ্যমে, সাধারণভাবে বা সম্পাদন করে কিংবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দ্বারা কোনো মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর, পক্ষপাতমূলক, বিদ্বেষপূর্ণ, অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ এবং মানহানিকর কোনো কন্টেন্ট তৈরি, প্রকাশ, প্রচার ও শেয়ার করতে পারবেন না।

আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘন নির্বাচন পূর্ব অনিয়ম হিসাব গণ্য করবে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে জানিয়েছে ইসি। আরিপও ৯১খ(৩) অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে অন্য কেউ নির্বাচন-পূর্ব সময়ে বিধিমালার কোনো ধারা লঙ্ঘন করলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন। একইভাবে, কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল নির্বাচন-পূর্ব সময়ে আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে দলটিকে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হতে পারে।

এ ছাড়া আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে নির্বাচন কমিশন প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতা রাখে। কোনো উৎস থেকে প্রাপ্ত রেকর্ড বা লিখিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কমিশনের কাছে লঙ্ঘনের প্রমাণ মিললে তাৎক্ষণিক তদন্তের নির্দেশ দিতে পারবে ইসি। তদন্তে সন্তুষ্ট হলে আরপিও ৯১ঙ অনুযায়ী লিখিত আদেশে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল হতে পারে। প্রার্থিতা বাতিল সংক্রান্ত আদেশ দ্রুত সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানানো হবে এবং তা সরকারি গেজেটে প্রকাশ করা হবে।

উল্লেখ্য, আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত প্রচার চলবে। আর ভোটগ্রহণ হবে ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।

এমএইচএইচ/এএম