মোস্তফা ইমরুল কায়েস
২০ জানুয়ারি ২০২৫, ০৯:৩২ পিএম
রাজধানীর পল্লবীতে দুই সন্ত্রাসী গ্রুপের দ্বন্দ্বে খুন হয়েছেন ব্লেড বাবু নামে একজন। তিনি ওই এলাকার কুখ্যাত সন্ত্রাসী ছিলেন। সোমবার (২০ জানুয়ারি) বিকেলে টেকেরবাড়ি এলাকায় তার প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে একা পেয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় বাবু নিহত হওয়ার পাশাপাশি রমজান নামে একজন আহত হয়েছেন। বাবু হত্যাকাণ্ডের সাথে সন্ত্রাসী মুসা সিকদার ওরফে সুমন সিকদার ও তার লোকজন সরাসরি জড়িত বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ব্লেড বাবু বিকেলে টেকেরবাড়ি সিরামিকস রোড এলাকায় অবস্থান করছিলেন। হঠাৎ করে তার প্রতিপক্ষ মুসা গ্রুপের সদস্যরা দেশীয় অস্ত্র চাপাতি, ক্রিস, ধারালো ছুরি নিয়ে তার ওপর আতর্কিত হামলা চালায়। তাদের হামলায় ঘটনাস্থলে গুরুতর আহত হন তিনি ও তার সাথে এক যুবক। পরে তার লোকজন তাদেরকে উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে নেয়। পরে তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়; কিন্তু চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় এখনও কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।
পল্লবী এলাকার একটি সূত্র জানিয়েছে, আজ বিকেলে বাবু স্বপ্ননগর থেকে বঙ্গবন্ধু কলেজের সামনের দিকে আসছিলেন। প্রধান সড়কের বঙ্গবন্ধু কলেজের পাশে রাজীবের গ্যারেজের সাথে নতুন রাস্তায় আসা মাত্র তাকে এলোপাতারি কোপাতে থাকে প্রতিপক্ষের লোকজন। হামলাকারীরা আট থেকে নয়জন ছিল। পরে টেকের বাড়ির দিকে চারজন ও মোটরসাইকেল যোগে পাঁচজন পালিয়ে যায়। তবে ওই সময় আশপাশে লোকজন থাকলেও ভয়ে কেউ এগিয়ে আসেনি।
এ ঘটনায় পুলিশের ধারণা, দুই গ্রুপের অন্তর্কোন্দলের ঘটনায় বাবু খুন হয়েছেন। নিহত ব্লেড বাবু মিরপুর-২ নম্বরের ৬০ ফিট ছাপরা মসজিদ এলাকার মুস্তাকিমের ছেলে। তার বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক মামলা।
এ বিষয়ে পল্লবী থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, বাবুকে হত্যা করা হয়েছে বলে আমরা তথ্য পেয়েছি। তার প্রতিপক্ষের লোকজনই এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে। তবে আমরা ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। তারা ঘুরে আসলে বিস্তারিত বলতে পারব।
জানা গেছে, ব্লেড বাবু আওয়ামী লীগের একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে গত এক যুগ ধরে পল্লবীতে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন। তার কথার বাইরে কাউকে যেতে দিতেন না। তার লোকজনের চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ ছিল এলাকাবাসী। অন্যদিকে মুসাও আওয়ামী লীগের শাসনকাল থেকে রাজধানীতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে আসছিলেন। সম্প্রতি তিনি জামিনে বের হন।
হত্যাকাণ্ডে যারা অংশ নিয়েছিল
খোঁজ নিয়ে আরও জানা গেছে, এই হত্যাকাণ্ডে মুসা শিকদার ওরফে সুমন সিকদারের লোকজন অংশ নিয়েছে। তারা তাকে কুপিয়ে বীরদর্পে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। তবে কেউ বাধা দেয়নি। ব্লেড বাবু হত্যাকাণ্ডে পল্লবী সেকশন-১২ ডি ব্লকের সালেহ সিকদার ও মুসা সিকদার ওরফে সুমন সিকদার (তাদের বাবার নাম আবু সাঈদ সিকদার), টেকের বাড়ি এলাকার রাজন, রনি, সাইফুল, তাসকিন (পিতা: আবু সাঈদ মোল্লা), রাজিব (পিতা: রাজ্জাক), সাজ্জাদ (পিতা: সাত্তার ), রাব্বি ওরফে কুত্তা রাব্বি, সুমন (পিতা: রসুল মিয়া) ও তুফান (পিতা: জয়নাল) সরাসরি জড়িত বলে দাবি করেছে বাবুর অনুসারীরা। তাদের মধ্যে নয়জন এই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেয়। আর তাদের হুকুম দেয় সন্ত্রাসী মুসা। এই মুসা সম্প্রতি হত্যাকাণ্ডের মামলায় কারাগার থেকে জামিনে বের হন। তবে দীর্ঘদিন থেকে টেকেরবাড়ি এলাকার ব্লেড বাবুর সাথে মুসার দ্বন্দ্ব চলছিল। সেই দ্বন্দ্বের জের ধরেই আজ তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয় বলে ধারণা করছে এলাকাবাসী, তার অনুসারীরা ও পুলিশ। জানা গেছে, এই হত্যাকাণ্ডে সালেহ, রাজন, সুমন নেতৃত্ব দেন। আর তাদের পাঠায় মুসা।
ব্লেড বাবুর কয়েকজন অনুসারী জানিয়েছেন, তারা আজ তার সাথে ছিলেন না। রাস্তায় একা পেয়ে মুসা সিকদার ওরফে সুমন সিকদার গ্রুপের লোকজন বাবুকে কুপিয়ে আহত করে। ফলে ঘটনাস্থলে গুরুতর আহন হন ব্লেড বাবু। পরে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
আরও পড়ুন
কে এই মুসা?
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মুসা সিকদার ওরফে সুমন সিকদার রাজধানীর মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম ওরফে টিপু হত্যাকাণ্ডের অন্যতম সন্দেহভাজন আসামি। এই হত্যাকাণ্ডের পর তিনি ওমানে পালিয়ে যান। পরে তাকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে দেশে ফেরত আনে পুলিশ।
এছাড়াও মুসা হলেন ঢাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী প্রকাশ-বিকাশ গ্রুপ ও মানিক গ্রুপের সদস্য। মতিঝিল এজিবি কলোনিতে যুবলীগ নেতা রিজভী হাসান ওরফে বোঁচা বাবু হত্যা মামলার অন্যতম আসামি মুসা সিকদার ওরফে সুমন সিকদার।
আরও জানা গেছে, এই মুসা পল্লবীর আলীনগর এলাকায় এমপি আউয়ালের অনুসারী হয়ে কাজ করতেন। ওই এলাকায় ২০২১ সালে শাহীনুদ্দীন নামে এক যুবক হত্যাকাণ্ডের পর এলাকা ছাড়েন। পরে তিনি আসেন মতিঝিল এলাকায়।
এমআইকে/এফএ