Dhaka Mail Logo

জাতীয়

ছায়া খুঁজছে পথিক

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৯ এপ্রিল ২০২৪, ০৩:৪০ পিএম

ধানমন্ডির জিগাতলা বাসস্ট্যান্ড থেকে মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড। সড়কটির নাম সাত মসজিদ রোড। যার দৈর্ঘ্য প্রায় আড়াই কিলোমিটার। দীর্ঘ এই সড়কে চলাচলকারী মানুষের জন্য বৈশাখের তীব্র তাপদাহ অসহনীয় যন্ত্রণায় রূপ নিয়েছে। পথিক ও বিভিন্ন পরিবহনে চলাচলকারী মানুষ খুঁজে বেড়াচ্ছেন একটু গাছের ছায়া। তবে সড়কের পাশে বড় গাছ না থাকায় ভোগান্তি মাথায় চলাচল করতে হচ্ছে হাজার হাজার মানুষকে। 

জিগাতলা বাসস্ট্যান্ডের সঙ্গে লাগোয়া ধানমন্ডি লেক। সেখানে কিছু গাছের দেখা পাওয়া যায়৷ উত্তরের পথে এগিয়ে গেলে আর যেনো গাছের দেখা নেই। সড়ক দ্বীপে যে গাছগুলো লাগানো আছে, তা সৌন্দর্য বর্ধন আর অক্সিজেন সরবরাহ করছে। তবে ছোট আকারের সেসব গাছের নেই ছায়া৷ 

DM_1

সাত মসজিদ রোডের আবাহনী মাঠের কিছুটা দক্ষিণে চোখে পরে এক বিশাল আকারের গাছ। যার ছাড়াই সড়কের অর্ধেকটায়। ক্লান্ত পথিকেরা এই গাছের নিচে খানিকটা স্বস্তির খোঁজ করছেন। এই গাছটিরও আছে সুবিশাল ইতিহাস। দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদের স্ত্রী জহুরা তাজউদ্দিন নিজ হাতে এই গাছটি রোপন করেছিলেন। 

আরও পড়ুন

গরমের প্রভাব রেস্তোরাঁয়, দিনভর ক্রেতা সংকট

আরেফিন সিদ্দিক নামে একজন পথচারীর কাছে গরমের তীব্রতা ও গাছের বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মেইলকে তিনি বলেন, গাছ লাগান। তবে সে গাছটা কতটা কাজে আসবে সেটা ভেবে লাগানো উচিত৷রোড আইল্যান্ডে (সড়ক দ্বীপ) গাছ তো আছে৷এই গাছ তো ছাড়া দেয় না। বড় গাছগুলো কেটে ফেলা হয়েছে। কেন?

জহুরা তাজউদ্দিনের লাগানো গাছটির বিষয়ে এই পথচারী বলেন, এই গাছটি যদি জহুরা তাজউদ্দিনের হাতে না লাগানো হতো, এই গাছটাও এখানে হয়ত থাকতো না। আমাদের আসলে দ্বায়িত্বশীলদের পরিকল্পনার অনেক অভাব আছে।

DM_2

সড়কটি ধরে আরও উত্তরে এগিয়ে গেলে ধানমন্ডি ২৭ নম্বরের মোড়। কাচে ঘেরা বহুতল ভবনের এই জঙ্গলে গাছের দেখা মেলে খুবই সামান্য। জীবিকার তাগিদে রাস্তায় বের হওয়া রিকশাচালক, সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালক, ভ্যানগাড়ি চালক, লেগুনা-বাস শ্রমিক, মোটরসাইকেল চালক, পথচারী সকলেই গাছের ছায়ার অভাব দারুণভাবে অনুভব করছেন। 

রিকশাচালক নবী মিয়া ঢাকা মেইলকে বলেন, একটা বড় গাছ থাকলে তার নিচে একটু বসা যায়। কোনো বড় গাছই নাই৷

মোটরসাইকেল চালক দিদারুল আলম বলেন, এই গরম পরায় এখন সবাই গাছের প্রয়োজন বুঝতেছে। এতদিন কেউ বোঝে নাই। রাস্তায় কোনো ছাড়া নাই। দাঁড়ানোর মতো কোনো জায়গা নাই। যারা বাইকার, তারা বোঝে রোদের তাপটা কেমন।

কারই/এমএইচএম