নিজস্ব প্রতিবেদক
০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৭:১৪ এএম
শীতের মধ্যেই রাজধানীসহ আশপাশের এলাকায় হালকা বৃষ্টি হয়েছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন টঙ্গীর তুরাগ নদের তীরে সমবেত লাখো মুসল্লি। বুধবার (৩১ জানুয়ারি) রাত ১২টার পরে শুরু হওয়া এই বৃষ্টি চলে বেশ কিছুক্ষণ। এতে ইজতেমার মাঠে জড়ো হওয়া মুসল্লিদের বিছানাপত্রসহ আসবাব ভিজে যায়। কোথাও কোথাও পানিও জমে যায়। এতে কাদা জমে চলাচলে দেখা দেয় দুর্ভোগ।
ইজতেমার মাঠে থাকা নাজমুল ইসলাম জানান, আধাঘণ্টার বেশি সময়ের এই হালকা বৃষ্টিতে বেশ দুর্ভোগে পড়তে হয় মুসল্লিদের। অনেকের মাথার ওপর শামিয়ানা না থাকায় বিছানাপত্র ভিজে যায়। শীতের মধ্যে তাদের দুর্ভোগ বাড়ে।
এদিকে রাত সোয়া ১২টা পর থেকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায়ও বৃষ্টি শুরু হয়। তবে এটি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি।

আগামীকাল শুক্রবার থেকে আম বয়ানের মধ্য দিয়ে ইজতেমা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বৃহস্পতিবার (১ ফেব্রুয়ারি) ফজরের পরই শুরু হয়েছে বয়ান। এদিন বয়ান করেন ভারতের মাওলানা আহমদ লাট।
শান্তিপূর্ণভাবে ইজতেমা সম্পন্ন করতে সবধরনের উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন। ইতোমধ্যে ইজতেমা ময়দানের পুরো প্রস্তুতি কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। শীত উপেক্ষা করে ময়দানে আসছেন হাজার হাজার দেশি-বিদেশি মুসল্লি।
বুধবার (৩১ জানুয়ারি) সরেজমিনে দেখা গেছে, ইজতেমা ময়দানে ১৬০ একর জমিতে শামিয়ানা টাঙানো প্রায় সম্পন্ন। বুধবার সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন এলাকার মুসল্লিরা আসতে শুরু করেছেন। মাঠে জেলাওয়ারি বিভক্ত খিত্তায় উঠেছেন তারা। মুসল্লিদের সুবিধার্থে পানি সরবরাহ, পয়ঃনিষ্কাশন, টয়লেট ব্যবস্থা করা হয়েছে। মুসল্লিদের নিরাপত্তায় মাঠের ভেতরে ও বাইরে ১৫ হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া দুই শতাধিক সিসিটিভি, ১৪টি ওয়াচ টাওয়ারের মাধ্যমে পুরো মাঠ পর্যবেক্ষণ করা হবে। পুলিশের পাশাপাশি র্যাব ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ময়দানে তাদের অবস্থান জোরদার করতে শুরু করেছেন।
তবে ময়দানের পূর্ব অংশে বড় জায়গাজুড়ে শামিয়ানা নেই। শুধু বাঁশ দিয়ে কাঠামো তৈরি করে রাখা হয়েছে। খিত্তাওয়ারি দেশের বিভিন্ন জেলার মুসল্লিরা নিজ উদ্যোগে চট এনে শামিয়ানা টানাতে দেখা গেছে। অবশ্য আগেই আয়োজকদের পক্ষ থেকে চট সঙ্গে করে নিয়ে আসতে বলা হয়েছিল।

মুসল্লিরা বলেছেন, শামিয়ানার অভাবে অনেকেই খোলা মাঠে অবস্থান নিয়েছেন। এতে শীতে তাদের দুর্ভোগ বেড়েছে। তবে শীতের প্রকোপ ও চটের সংকট থাকলেও আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনায় মুসল্লিরা তা হাসিমুখে মেনে নিচ্ছেন।
নরসিংদীর স্থানীয় একটি মসজিদের ২৭ জনের তাবলিগ জামাত দলের সঙ্গে ইজতেমা ময়দানে এসেছেন আব্দুস সালাম। তিনি ঢাকা মেইলকে বলেন, আল্লাহর রাস্তায় তিন চিল্লা দিয়ে এখন ইজতেমা ময়দানে এসেছি। আমাদের মতো অনেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসছেন। সময় যত ঘনিয়ে আসবে ভিড় ততই বাড়বে।
ইজতেমার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে জানিয়ে তাবলিগের শীর্ষ মুরব্বি ইঞ্জিনিয়ার মাহফুজ ঢাকা মেইলকে বলেন, আলহামদুলিল্লাহ আমাদের প্রস্তুতি সম্পন্ন। তবে তুরাগ নদের অপর প্রান্তে একটি রাস্তা স্থানীয় লোকজন প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে রেখেছে। আমরা বিষয়টি প্রশাসনকে জানিয়েছি। এটি সমাধান হলে লাখ লাখ মুসল্লির যাতায়াত সহজ হবে।
জেবি