লাইফস্টাইল ডেস্ক
৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩৫ পিএম
বর্তমানে পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোমে (পিসিওএস) ভুগছেন প্রতি ১০ জনের মধ্যে একজন নারী। এর মানে, তারা অনিয়মিত পিরিয়ড, হঠাৎ করে ওজনও বেড়ে যাওয়া এবং হরমোনজনিত সমস্যাগুলোতে ভুগছেন। এর পেছনে মূলত জিনগত কারণ রয়েছে। তবে তাদের অনেকেই নিজের শরীরে বাসা বাঁধা এই রোগটির বিষয়ে জানেন না। এটি যে পরবর্তী প্রজন্মকেও ঝুঁকিতে ফেলতে পারে সে বিষয়েও অজ্ঞ অনেকে। তবে ভয়ের কিছু নেই। সঠিক ডায়েট, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার মাধ্যমে এই বংশগত চক্র ভাঙ্গা সম্ভব। চলুন জেনে নিই বংশে পিসিওএস থাকলে করণীয় কী-
পিসিওএস কী, কেন হয়?

নারীর শরীরে অ্যান্ড্রোজেন বা পুরুষ হরমোনের মাত্রা বেড়ে গেলে ডিম্বাশয়ে ছোট ছোট সিস্ট তৈরি হয়ে, যা ডিম্বস্ফুটনে বাঁধা দেয়। এই অবস্থাকে পিসিওএস বলে। মূলত জিনগত প্রবণতা বা বংশগত ইতিহাসই এর প্রধান কারণ।
এছাড়া শরীরে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, অতিরিক্ত ওজন, ভুল খাদ্যাভ্যাস এবং অলস জীবনযাপন এই হরমোনে ভারসাম্যহীনতা তৈরি করে।
পিসিওএস এর লক্ষণ
পিসিওএসের লক্ষণগুলো সবার জন্য এক নয়। ব্যক্তিভেদে সেগুলো একেক রকম হতে পারে। তবে সাধারণ কিছু লক্ষণ নিচে তুলে ধরা হলো-
অনিয়মিত ঋতুস্রাব হওয়া বা মাসের পর মাস তা বন্ধ থাকা।

শরীরে ও মুখে পুরুষালি ভাব থাকা অথবা অতিরিক্ত লোম গজানো।
হুট করে ওজন বেড়ে যাওয়া এবং সহজে তা না কমা।
আরও পড়ুন: নিয়মিত পিরিয়ড হলেও হতে পারে পিসিওএস, কী করবেন?
অতিরিক্ত চুল পড়া এবং চেহারায় ব্রণের সমস্যা বেড়ে যাওয়া।
হরমোনের তারতম্যের কারণে মুড সুইং বা ঘন ঘন মেজাজ পরিবর্তন ও বিষণ্ণতা।
বংশে পিসিওএস থাকলে করণীয়
পরিবারের কারো শরীরে পিসিওএস বা টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ইতিহাস থাকলে আপনাকে এখনই সচেতন হতে হবে-
খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন: চিনি, মিষ্টি, কোমল পানীয় এবং রিফাইনড কার্বোহাইড্রেটের পরিবর্তে (সাদা ভাত, ময়দা) পর্যাপ্ত শাকসবজি, প্রোটিন ও আঁশযুক্ত খাবার খান।
শারীরিক ব্যায়াম: অলস জীবনযাপন ছেড়ে দেওয়ার এখনই সময়। আলসেমি ত্যাগ করে দৈনিক অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটার অভ্যাস করুন। একইসঙ্গে ইয়োগা বা ফ্রি-হ্যান্ড এক্সারসাইজও করুন।
আরও পড়ুন: পিসিওএস: নারীর যে স্বাস্থ্য সমস্যার কারণ চিকিৎসকদেরও অজানা
ওজন নিয়ন্ত্রণ: বংশগত ঝুঁকি থাকলে কোনোভাবেই শরীরের ওজন বাড়তে দেওয়া যাবে না। হরমোন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে শরীরের ওজন মাত্র ৫ থেকে ১০ শতাংশ কমানোই যথেষ্ট।

পরবর্তী প্রজন্মের সুরক্ষায় করণীয়
কৈশোর থেকেই সুস্থ অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। ঘরের সন্তানদের, বিশেষ করে কন্যাসন্তানদের ছোটবেলা থেকেই পুষ্টিকর খাবার খেতে উৎসাহ দিন। ফাস্টফুড ও প্রসেসড ফুড থেকে তাদের দূরে রাখুন।
শিশুদের মাঠে খেলাধুলা করতে দিন। খেলাধুলা বা শারীরিক পরিশ্রম শিশুর গ্যাজেট বা স্ক্রিন নির্ভরশীলতা কমাতে সাহায্য করবে।
পিরিয়ডের শুরু থেকেই কোনো অনিয়ম দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। এসময় ওজন নিয়ন্ত্রণের বিষয়েও তাদের সচেতন করতে হবে।
পিসিওএস কোনো মরণব্যাধি অসুখ নয়। সচেতনতা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অভ্যাস আপনাকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করবে। জীবনকে করবে আরও সুন্দর।
এএ