Dhaka Mail Logo

লাইফস্টাইল

শান্ত মেজাজের শিশুরাই কেন গ্লাস চাইল্ড সিনড্রোমে ভোগে?

লাইফস্টাইল ডেস্ক

২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩৫ পিএম

পরিবারে যে সন্তানটি দুষ্টু কিংবা বিশেষচাহিদাসম্পন্ন হয় তাকে নিয়ে বাবা-মায়ের চিন্তার অন্ত থাকে না। কীভাবে তাকে ভালো রাখা যায়, কী করলে তার স্বাভাবিক শারীরিক ও মানসিক বিকাশ হবে-এসব নিয়ে বাড়তি মনোযোগ দেন তারা। শুধু তাদের মনোযোগ পায় না ঘরের সবচেয়ে শান্ত ও ভদ্র শিশুটি। কোনো প্রকার জ্বালাতন কিংবা আবদার না করায় পরিবারের সদস্যদের কাছ অদৃশ্য থেকে যায় সে। এদিকে, বয়সের তুলনায় অতিরিক্ত ম্যাচিউর হওয়ায় নিজের মনের অনুভূতিগুলো চেপে রাখতে রাখতে চুপচাপ হয়ে যায় শিশুটি। তার এই মানসিক অবস্থাকে ‘গ্লাস চাইল্ড সিনড্রোম’ বলা হয়। যেভাবে বুঝবেন আপনার শান্ত শিশুটি এই সিনড্রোমে আক্রান্ত কি না-

কেন এমন হয়?

Picture

মনোবিজ্ঞানী লিস ডেগুই বলেন, সাধারণত যেসব শিশুরা পরিবারে কোনোকিছু নিয়েই গোলমাল বাঁধায় না তারাই সবচেয়ে বেশি অবহেলার শিকার হয়। কেননা, মা-বাবাদের সব মনোযোগ থাকে ঘরের দস্যি সন্তানটিকে ঘিরে।

আরও পড়ুন: আদর্শ সন্তান গড়ে তোলার ৩ জাপানি কৌশল

তবে এটি কোনো পক্ষপাতমূলক আচরণ নয় বলেও নিশ্চিত করেছেন লিস ডেগুই। তিনি বলেন, এটি খুবই স্বাভাবিক আচরণ। সাধারণত প্রায় সব পরিবারেই দেখা যায, যে সন্তানটি কম জ্বালাতন বা আবদার করে তার প্রতি পরিবারের সদস্যরা একটু কম নজর দেন।

গ্লাস চাইল্ড সিন্ড্রোম কী?

Picture

মা-বাবা বা অভিভাবকদের কাছে অবহেলিত হওয়া শিশুদের ‘গ্লাস চাইল্ড’ বলা হয়। পরিবারে প্রতিটি মুহূর্তে শারীরিকভাবে উপস্থিতি থাকলেও তার অনুভূতি, লড়াই এবং চাহিদাগুলো সবার নজর এড়িয়ে যায়। এটি অনেকটা কাচের মতো যার অস্তিত্ব আছে, অথচ অদৃশ্য।

আরও পড়ুন: শিশুকে ঘুম পাড়ানোর সহজ ৬ টিপস

গ্লাস চাইল্ডদের সত্যিই কি বড়দের মনোযোগের প্রয়োজন নেই?

Picture

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, প্রতিটি স্বাভাবিক শিশুর মতো তার মধ্যেও নানা রকম অনুভূতি কাজ করে। তার ভেতরেও কোনও ক্ষোভ বা চাহিদা থেকে যায়। পরিস্থিতির চাপে পড়ে সে হয়তো সেসব কথা কাউকে জানাতে পারে না। 

শান্ত ও ভদ্র স্বভাবের কারণে গ্লাস চাইল্ডরা অন্যান্য শিশুদের তুলনায় তুলনামূলকভাবে পরিবারের বাড়তি মনোযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। বাইরে থেকে এই শিশুদের বয়সের তুলনায় যতটা পরিণত, দায়িত্বশীল এবং স্বাবলম্বী মনে হয় ভেতরে ভেতরে তারা ততটাই একা বোধ করতে পারে।

এএ