বকাঝকা ছাড়া শিশুদের শিক্ষা দেওয়ায় বিশ্বাসী জাপানিরা। তারা মনে প্রাণে বিশ্বাস করেন, শিশুরা সবসময় মা-বাবাকে দেখেই শেখে। তাই সন্তানের মধ্যে যেসব গুণ তারা চান আগে নিজে সেগুলো রপ্ত করেন। এ বিষয়ে শিশু শিশু থেরাপিস্ট এমা হাবার্ড একটি ভিডিও তৈরি করেছেন যা বেশ জনপ্রিয় হয়েছে। ভিডিওটিতে তিনি সন্তান লালন-পালনের ক্ষেত্রে জাপানিদের ‘শিৎসুকে’ বা আত্মশৃঙ্খলার ৩টি অনন্য কৌশল তুলে ধরেছেন-

১. বকাঝকা না করে শান্তভাবে বোঝানো
এমা হাবার্ডের মতে, জাপানে সন্তান লালন-পালনের মূল ভিত্তি হলো ‘শিৎসুকে’ পদ্ধতি। বাংলায় এর আক্ষরিক অর্থ আত্মশৃঙ্খলা, ইংরেজিতে যাকে বলে ‘ডিসিপ্লিন’। তবে এটি পশ্চিমা বা প্রথাগত শাসন থেকে একেবারেই আলাদা।
এই পদ্ধতিতে শিশুর আচরণগত সমস্যা ঘটার আগেই তাদের অত্যন্ত শান্তভাবে বুঝিয়ে সঠিক সামাজিক শিষ্টাচার ও ভালো অভ্যাস শেখানো হয়। যার কারণে বকাঝকা বা কড়া শাসনের প্রয়োজন হয় না।

২. স্পষ্ট নিয়মকানুন ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখা
গবেষণায় দেখা গেছে, শিশুদের সুনির্দিষ্ট কোনো রুটিন মেনে চলতে বলা হলে তাদের উদ্বেগ ও মানসিক চাপ কম থাকে। সমস্যা তখনই হয় যখন তাদের কোনো স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয় না। তখন শিশুরা বিভ্রান্ত বোধ করে।
আরও পড়ুন: শিশুকে ঘুম পাড়ানোর সহজ ৬ টিপস

তাই শিশুদের নিরাপদ বোধ করাতে নির্দিষ্ট নিয়ম বেঁধে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন এমা হাবার্ড। যেমন- প্রতিদিন ঘুমানোর সময় নির্ধারণ করে দেওয়া কিংবা খাওয়ার সময় মুঠোফোন দেখা যাবে না এ ধরণের স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া। কেননা, আগে থেকে নিয়ম জানা থাকলে শিশুদের জন্য তা পালন করা সহজ হয়।
৩. ভুলত্রুটিকে শিক্ষণীয় সুযোগ হিসেবে দেখা
কখনো কখনো কড়া শাসনে হিতে-বিপরীত হয়। শিশুরা তখন আরও বিগড়ে যেতে পারে। শিৎসুকে পদ্ধতি অনুযায়ী শিশুর আচরণগত কোনো সমস্যা ঠিক করার জন্য তাকে ভুলগুলো না ধরে সেটাকে কীভাবে করলে আরও ভালো হতে পারে তা বুঝিয়ে বলতে হবে।

শিশুকে ‘দুষ্টুমি বন্ধ করো’ না বলে তার কোন দক্ষতা প্রয়োজন সেটি খুঁজে বের করতে হবে। যেমন- খেলনা নিয়ে গন্ডগোল বাঁধলে সন্তানকে ধৈর্য ধরতে শেখান। বকা না দিয়ে তাকে বুঝিয়ে বলুন কীভাবে নিজের পালার জন্য অপেক্ষা করতে হয়। ভুলের জন্য শাস্তি না দিয়ে সঠিক উপায়টি শেখাতে পারলেই শিশুর মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী ধৈর্যের গুণ গড়ে ওঠবে।
শিৎসুকে পদ্ধতিকে একটি বৈপ্লবিক নিয়ম হিসেবে অভিহিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা। এই পদ্ধতি সমস্যা ঘটার পর রাগান্বিত প্রতিক্রিয়া দেখানোর চেয়ে সমস্যাটি যাতে না ঘটে সেটি নিশ্চিত করে।
তথ্যসূত্র: আপওয়ার্দি
এএ




