Dhaka Mail Logo

লাইফস্টাইল

কেমন পৃথিবী চায় আমাদের কন্যারা?

ফিচার ডেস্ক

১১ অক্টোবর ২০২৬, ০১:১১ পিএম

পত্রিকার পাতা বা ফোনের স্ক্রিনে চোখ মেললেই দেখা যায় কন্যাশিশু নির্যাতন ও সহিংসতার খবর। অথচ আমাদের কন্যারা একটি নিরাপদ পৃথিবী চায় যেখানে তারা শকুনীদের লোলুপ দৃষ্টি এড়িয়ে বুক ভরে শ্বাস নিতে পারবে। নিজের মতো বাঁচতে পারবে। তবে সামাজিক বাস্তবতা একবারেই ভিন্ন ও নির্মম। সাম্প্রতিক বাংলাদেশে কন্যাশিশুদের ওপর নির্যাতন, ধর্ষণ এবং গুমের মতো সহিংসতার চিত্র দিন দিন আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে চলেছে।

সম্প্রতি দেশে বেশ কয়েকটি লোমহর্ষক শিশু নির্যাতন ও খুনের ঘটনা মানুষের মনে নতুন করে আতঙ্ক ও উদ্বেগের জন্ম দিচ্ছে। পৈশাচিক বর্বরতার শিকার হয়ে অকালে প্রাণ হারাতে হয়েছে তুবা, সায়মা কিংবা ফাতেমার মতো নিষ্পাপ শিশুদের। মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৬ বছরে বাংলাদেশে ৩,৪৮৭ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে, যার মধ্যে ধর্ষণের পর হত্যার শিকার হয়েছে ১৩১ শিশু।

picture

খেলার মাঠ থেকে তুলে নিয়ে পাশবিকতা কিংবা ঘরের ভেতর পরিচিত মানুষের হাতে খুনের এই নির্মম ঘটনাগুলো আমাদের কন্যা শিশুরা কতটা অনিরাপদ পরিবেশে বড় হচ্ছে তারই প্রমাণ। এই পরিস্থিতির পেছনে বহুবিধ সামাজিক কারণ রয়েছে। তবে এর পেছনে অন্যতম কারণ আইনি দীর্ঘসূত্রতা।

আরও পড়ুন: আজকের কন্যাশিশুরা আগামীর ভবিষ্যত

ধর্ষণের মামলার বিচার ৯০ দিনের মধ্যে শেষ হওয়ার আইন থাকলেও বাস্তবে সেটি কার্যকর হয় না। একটি মামলা নিষ্পত্তিতেই গড়ে প্রায় সাড়ে ৩ বছরের বেশি সময় লাগে। আর মামলায় সাজা হয় মাত্র ৩ শতাংশ এবং ৭০ শতাংশের বেশি ক্ষেত্রে পার পেয়ে যায় অভিযুক্তরা (তথ্যসূত্র: দ্য ডেইলি স্টার)। বিচারহীনতার এই সংস্কৃতি অপরাধীদের আরও সাহসী করে তোলে।

Picture

পাশাপাশি পারিবারিক অসচেতনতা ও পরিচিতদের হাতে অপরাধের প্রবণতাও অন্যতম। অনেক বাবা-মায়েরা জীবিকার তাগিতে শিশুদের দীর্ঘ সময় একা রেখে যেতে বাধ্য হন। ফলে শিশুটি ঘরে একা রয়ে যায়। আর সেই সুযোগেই শিশুর উপর পাশবিক নির্যাতন চালায় পরিবারের পরিচিত ব্যক্তি বা প্রতিবেশীরা।

আরও পড়ুন: তীব্র গরমে শিশুকে ভালো রাখতে করণীয়

আর সামাজিক লোকলজ্জার ভয়ে পরিবারগুলো অনেক সময় এ ধরনের ঘটনা ধামাচাপা দেয়। এছাড়া ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা ও এর অপব্যবহার এবং নৈতিক শিক্ষার অভাব সামাজিক এই ব্যাধিকে আরও উসকে দিচ্ছে।

করণীয় কী

Picture

আমাদের কন্যাশিশুদের একটি নিরাপদ শৈশব দিতে সবার আগে প্রয়োজন পারিবারিক সচেতনতা। সন্তানদের ‘গুড টাচ’ এবং ‘ব্যাড টাচ’ সম্পর্কে ধারণা দিতে হবে।

প্রতিটি পরিবার ও কন্যাশিশুকে সরকারি চাইল্ড হেল্পলাইন নম্বর ‘১০৯৮’ সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। এই নম্বরে কল করলে যেকোনো বিপদ বা বাল্যবিয়ে রোধে বিনামূল্যে ২৪ ঘণ্টা আইনি ও সামাজিক সুরক্ষা সেবা পাওয়া যায়।

পাশাপাশি কন্যাশিশুদের জন্য স্কুল-কলেজে বাধ্যতামূলক আত্মরক্ষা বা সেলফ-ডিফেন্স ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা রাখতে হবে। আইনের ফাঁকফোকর বন্ধ করে অপরাধীদের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি বাস্তবায়ন করতে হবে। 

এএ