দুদিন ধরে সূর্য যেন হয়ে গেছে তেজী ঘোড়া। প্রবল বেগে নিজের শক্তির প্রমাণ দিচ্ছে সে। ফলাফলে তাপে পুড়ছে দেশবাসী। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে বিদ্যুতের সমস্যা, পানির সমস্যা তো আছেই। গরমে তাই শিশুদের ভালো রাখা নিয়ে চিন্তায় পড়েছেন অভিভাবকরা। কীভাবে এই তাপে যত্ন নেবেন শিশুর?
আরও পড়ুন- গরমে ঘামাচি থেকে মুক্তির উপায়
চিকিৎসকরা বলছেন, তীব্র গরমে অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এতে বহু শিশু আক্রান্ত হচ্ছে জ্বর-সর্দি-কাশিতে। একইসঙ্গে অনেকে পেটখারাপের সমস্যায় ভুগছেন। তাছাড়া মৌসুমি কিছু ভাইরাসও সক্রিয় আছে। ইতোমধ্যে অ্যাডিনোভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে বেশ কিছু শিশু।

শিশুরোগ চিকিৎসকদের মতে, তাপপ্রবাহ থেকে খুব সাবধানে রাখতে হবে শিশুদের। পোশাক, খাওয়াদাওয়া ও পর্যাপ্ত পানি পানের দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। গরমে বার বার গোসল করলে ঠান্ডা লেগে যাবে, এই ধারণা দূর করতে হবে।
আরও পড়ুন- গরমে অস্বস্তি দূর করতে যেমন পোশাক পরবেন
বর্তমান পরিস্থিতিতে স্কুল বা বাইরে থেকে ফেরার পরই শিশুর গোসল করানোর পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। এতে শরীরে বসে থাকা ঘাম ধুয়ে যাবে। পাশাপাশি, শিশুর ওজন অনুপাতে পানি বা তরল খাবার দিতে হবে। হিসেবটা হলো, প্রতি কেজিতে ১০০ মিলিলিটার। অর্থাৎ শিশুর ওজন ১০ কেজি হলে তাকে ১ লিটার পানি পান করাতে হবে সারাদিনে।

গরমের কারণে বাচ্চাদের অনেকেই তীব্র জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশুরোগ চিকিৎসক দিব্যেন্দু রায়চৌধুরী। তিনি বলেন, এসব শিশুর ক্ষেত্রে তিন দিন পরে রক্ত পরীক্ষা করালেও কোনো সংক্রমণ মিলছে না। তাই বোঝা যাচ্ছে, অতিরিক্ত গরমের কারণেই তীব্র জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছে তারা।
আরও পড়ুন- গরমে পেঁয়াজ খেলে কী হয়?
অন্যদিকে জনস্বাস্থ্য বিষয়ক চিকিৎসক অনির্বাণ দলুই বলছেন, এসময়ে অতিরিক্ত তাপের জেরে শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি হয়। এতে হিট স্ট্রোক পর্যন্ত হতে পারে। শিশু আর বয়স্কদের ক্ষেত্রে এ সমস্যা আরও বেশি দেখা দেয়।

সুস্থ থাকতে তাই চড়া রোদ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। ছায়াযুক্ত স্থানে থাকতে হবে। বিশেষত বেলা ১২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত বাড়ির বাইরে বের না হওয়াই ভালো।
গরমে শিশুদের ভালো রাখতে যে কাজগুলো করতে হবে-
- রোদে বের হওয়া যতটা সম্ভব এড়াতে হবে
- ঠান্ডা ও ছাউনিযুক্ত জায়গায় থাকতে হবে
- গায়ে যেন ঘাম বসে না যায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে
- গরম থেকে ঘুরে এসেই গোসল করলে ভালো

- পর্যাপ্ত পানি ও ফল খেতে হবে
- ফাস্ট ফুড এড়িয়ে চলতে হবে
- সুতি ও হালকা রঙের পোশাক পরতে হবে
- ভেজা কাপড় দিয়ে চোখ-মুখ মাঝেমধ্যে মুছতে হবে
এছাড়াও তেষ্টা না পেলেও কিছুক্ষণ পর পর অল্প করে হলেও পানি পান করতে হবে। তাহলে শরীর হাইড্রেটেড থাকবে।
এনএম




