ফিচার ডেস্ক
১১ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪২ এএম
আজ আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস। কন্যাশিশুদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা, লিঙ্গবৈষম্য দূরীকরণ এবং তাদের সম্ভাবনার বিকাশ ঘটানোর প্রত্যয়ে প্রতি বছর ১১ অক্টোবর এই দিবসটি বিশেষভাবে পালিত হয়। এবারের কন্যা দিবসের প্রতিপাদ্য-কন্যাশিশুদের সুপ্ত প্রতিভাকে বিকশিত করা।

আজকের কন্যাদের আর চার দেয়ালে বন্ধি রাখা যাবে না। তারাও আর পরাধীনতার বেড়ি পায়ে পরে অসহায় মেয়েটি হয়ে জীবন কাটাতে চায় না। আজকের কন্যারা সচেতন ও প্রতিবাদী। তারা এমন এক পৃথিবী চায় যেখানে শিক্ষা, পুষ্টি আর মেধাবিকাশের সমান সুযোগ থাকবে। কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের ভাষায়-
“তুমি জন্মেছ এই পৃথিবীর এক অন্ধকার যুগে,
যেখানে আলো ঢাকা পড়েছে কালো মেঘে।
তবু তোমাকে বাঁচতে হবে, কন্যা আমার,
ভেঙে চুরমার করতে হবে এই শৃঙ্খল আর অন্ধকার।”
—সুকান্ত ভট্টাচার্য
একটি কন্যাশিশুকে শিক্ষিত ও সচেতন করে গড়া মানে একটি পুরো প্রজন্মের সামনে আলোর মশাল তুলে ধরা। সমান সুযোগ আর সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা পেলে আমাদের কন্যারা কি করতে পারেন তা বিজ্ঞান থেকে শুরু করে খেলার মাঠ সবখানেই মেধার সে স্বাক্ষর রেখেছে।
আরও পড়ুন: তীব্র গরমে শিশুকে ভালো রাখতে করণীয়
তবে দুঃখের বিষয়, এখনও আমাদের সমাজ থেকে কন্যাদের জোরপূর্বক বিয়ে, পারিবারিক নির্যাতন এবং গুম, খুন, ধর্ষণের মতো অন্ধকার দিকগুলো পুরোপুরি মুছে যায়নি। বরং দিন দিন নারী ও শিশুদের ওপর এ ধরণে নির্যাতনের মাত্রা বেড়েছে। আমাদের সমাজে কন্যাশিশুকে এখনও ‘বোঝা’ মনে করেন অনেকে। এই সনাতন মানসিকতা থেকে বের হয়ে আসার এখনই সময়।

আজকের কন্যাশিশুরাই আগামীর ভবিষ্যত। আমাদের কন্যাদের জন্য এমন এক নিরাপদ পৃথিবী গড়তে হবে যেখানে থাকবে না কোনো ভয়, শুধু থাকবে তাদের অধিকারের বাস্তবায়ন আর মুক্ত আকাশে ডানা মেলার স্বাধীনতা। ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়ন বোনাপার্ট যথার্থই বলেন, ‘তোমরা আমাকে একটি শিক্ষিত মা দাও, আমি তোমাদের একটি শিক্ষিত জাতি দেব।’
তাই আসুন, আজ বিশ্ব কন্যা দিবসে আমরা সবাই মিলে কন্যাদের ডানায় পালক হওয়ার প্রতিজ্ঞা করি। তাদের ডানা ছেঁটে ফেলে নয়, বরং আমরা তাদের পাখা হই। তাদের স্বপ্নের আকাশে ওড়ার পরম সারথি হই আমরা।
এএ