লাইফস্টাইল ডেস্ক
১৩ আগস্ট ২০২৬, ১০:৪৩ এএম
কে বেশি কথা বলেন— নারী নাকি পুরুষ? চিরন্তন এই কৌতূহলের উত্তর খুঁজতে ২০০৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা ইউনিভার্সিটির গবেষকরা একটি গবেষণা চালিয়েছিলেন। সে সময় দাবি করা হয়েছিল, নারী ও পুরুষ উভয়েই দৈনিক গড়ে ১৬ হাজার শব্দ ব্যবহার করে থাকেন। তবে দীর্ঘ আট বছর ধরে ডিজিটাল ভয়েস রেকর্ডার ও ৬ লাখ ৩০ হাজার অডিও রেকর্ড পর্যালোচনা করে সম্প্রতি ওই গবেষণার একটি হালনাগাদ ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে ‘জার্নাল অব পারসোনালিটি অ্যান্ড সোশ্যাল সাইকোলজি’তে।
এই গবেষণা প্রতিবেদনটির শিরোনাম— ‘আর উইমেন রিয়েলি (নট) মোর টকেটিভ দ্যান মেন? এ রেজিস্টার্ড রিপোর্ট অব বাইনারি জেন্ডার সিমিলারিটিজ/ডিফারেন্সেস ইন ডেইলি ওয়ার্ড ইউজ’।

আগের গবেষণায় মূলত যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের ওপর ভিত্তি করে তথ্য সংগ্রহ করা হলেও, এবার ১০ থেকে ৯০ বছর বয়সী এবং চারটি পৃথক দেশের ২ হাজার ১৯৭ জন নারী-পুরুষের অডিও রেকর্ড বিশ্লেষণ করা হয়েছে। নতুন ফলাফলে দেখা গেছে, সামগ্রিক দিক থেকে নারী ও পুরুষ প্রায় সমান কথা বললেও, একটি নির্দিষ্ট বয়সসীমায় নারীরা পুরুষদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি কথা বলেন।
যে বয়সে নারীরা কথা বলেন বেশি
গবেষণায় দেখা গেছে, ২৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সের নারী ও পুরুষের মধ্যে শব্দ ব্যবহারের পরিমাণে তারতম্য রয়েছে। এই বয়সসীমায় একজন নারী প্রতিদিন গড়ে ২১ হাজার ৮৪৫টি শব্দ ব্যবহার করেন। পক্ষান্তরে, একই বয়সসীমার একজন পুরুষ প্রতিদিন গড়ে ১৮ হাজার ৫৭০টি শব্দ উচ্চারণ করেন।

শব্দ ব্যবহারের এই তারতম্যের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ নিশ্চিত করতে পারেননি গবেষকরা। তবে বেশ কিছু সম্ভাব্য কারণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে-
মাতৃত্ব ও সন্তান লালন-পালন: ২৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সের মধ্যে নারীরা সাধারণত মা হন এবং তাদের শিশুসন্তানের সঙ্গে অনবরত কথা বলতে হয়।
আরও পড়ুন: সঙ্গীকে বেশি ঠকান কে— পুরুষ না কি নারী?
পরিবারের সেবাযত্ন: এই একই বয়সসীমায় পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সেবা ও যত্ন নেওয়ার কাজ নারীদের তুলনামূলক বেশি করতে হয়।
শরীরবৃত্তীয় পরিবর্তন: হরমোনজনিত শারীরিক পরিবর্তনও নারীদের ক্ষেত্রে বেশি শব্দ ব্যবহারের অন্যতম কারণ হতে পারে।
কমছে মানুষের কথা বলার প্রবণতা
গবেষণায় আরও একটি চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে। ২০০৫ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত ডাটা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, মানুষের সামনাসামনি কথা বলার প্রবণতা ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে। ২০০৫ সালে সব বয়সি মানুষ প্রতিদিন গড়ে ১৬ হাজার শব্দ ব্যবহার করলেও, ২০১৮ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে দৈনিক মাত্র ১৩ হাজার শব্দে।
গবেষকদের মতে, সামনাসামনি যোগাযোগের পরিবর্তে মানুষের মধ্যে ডিজিটাল মাধ্যমে টেক্সট বা চ্যাটিংয়ের প্রবণতা বেড়ে যাওয়াই দৈনন্দিন কথোপকথন কমে যাওয়ার প্রধান কারণ। তবে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন গবেষকরা।
এজেড