আসাদুজ্জামান লিমন
০৬ আগস্ট ২০২৬, ০১:১৫ পিএম
বাংলাদেশের বনাঞ্চল থেকে অনেক প্রজাতির গাছ হারিয়ে গেছে এবং কিছু গাছ আজ বিলুপ্তির পথে। এই গাছগুলো প্রকৃতিতে ফিরিয়ে দেওয়ার দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে চট্টগ্রামের বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউট। সাধারণ মানুষ চট্টগ্রাম থেকে তাদের নার্সারি থেকে এসব গাছ নামমাত্র মূল্যে সংগ্রহ করলেও, ঢাকায় বসবাসকারী এবং গ্রামে গাছের সংগ্রহশালা তৈরি করা প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এবার দারুণ সুযোগ নিয়ে এসেছে জাতীয় বৃক্ষ মেলা ২০২৬। বন বিভাগের স্টলে মাত্র ১০ টাকায় বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির দুর্লভ গাছ কেনার সুযোগ মিলছে, পাশাপাশি মাত্র ২০ টাকা দামে পাওয়া যাচ্ছে নানান জাতের বাঁশের চারা।
প্রতিবছরের মতো এবারও বন বিভাগের স্টলে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের সংগ্রহ প্রদর্শন করা হচ্ছে। তবে মেলার শুরুতে এসব গাছ শুধুমাত্র প্রদর্শনের জন্য রাখা হলেও গত ৪ আগস্ট থেকে দর্শনার্থীরা তা কিনতে পারছেন। এই স্টলে দেশের হারিয়ে যাওয়া বেশ কিছু প্রজাতির বাঁশের চারা কঞ্চি কলম পদ্ধতিতে তৈরি করে আনা হয়েছে। এছাড়া বেত, নিম, পাহাড়ি নিম, অর্জুন, বহেরা, খয়ের, অশোক, পিতরাজ, চিকরাশি, নিশিন্দা, হাড়জোড়া, চাপালিশ, ডায়াবেটিস প্লান্ট, জারুল, গাব, সিভিট, হিজল ও বুদ্ধ নারিকেলসহ এমন কিছু বিরল প্রজাতির গাছ রয়েছে, যেগুলোর নাম হয়তো অনেকেই আগে শোনেননি।

বাঁশের মধ্যে রয়েছে বাইজ্জ্যা, ওরা, ওয়াপ্পি ও তেতুয়াসহ নানা প্রজাতির কঞ্চি কলমের চারা। যা মাত্র ২০ টাকা দামে পাওয়া যাচ্ছে। এসব বাঁশের চারা আকারে ছোট। ফলে সহজেই বহন করা সম্ভব।
সরকারি এই স্টলে সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ প্রজাতির সুন্দরী, কাঁকড়া ও গর্জন গাছের চারাও প্রদর্শন করা হচ্ছে। ক্রেতাদের আগ্রহের কারণে ১০ টাকা মূল্যে এসব চারা বিক্রিও করা হচ্ছে।
তবে বন বিভাগের দায়িত্বে থাকা কর্মীরা জানাচ্ছেন, এসব গাছ মূলত উপকূলীয় এলাকার বনায়নের জন্য উপযোগী, কারণ লবণপানি বা লবণাক্ত মাটি ছাড়া এগুলোর বেঁচে থাকা কঠিন। উপযুক্ত পরিচর্যা ও দীর্ঘ গবেষণার মাধ্যমে সমতলেও এগুলো বাঁচানো সম্ভব।
এদিকে গত ৯ জুলাই থেকে বৃক্ষমেলা শুরু হলেও বন বিভাগের স্টল থেকে শুরুতে গাছ বিক্রি করা হয়নি। বনায়নে আগ্রহী অনেক ক্রেতা একাধিকবার ঘুরে যাওয়ার পর তাদের জানানো হয়েছিল যে ৪ আগস্টের পর চারাগুলো বিক্রি করা হবে।

বৃক্ষপ্রেমী শাখাওয়াত উল্লাহ জানান, দুর্লভ চারা সংগ্রহের উদ্দেশ্যে মেলায় এসে তাকে বেশ কয়েকবার খালিহাতে ফিরতে হয়েছে।
৫ আগস্ট তিনি মেলায় এসে দেখেন তার পছন্দের চারাগুলোর ফরমায়েশ আগেই দেওয়া রয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বন বিভাগের স্টলের এক অসাধু কর্মচারী সরকারি দামের চেয়ে ১০ থেকে ২০ গুণ বেশি দামে নিজস্ব নার্সারির চারা বিক্রি করছেন এবং অন্য স্টলের গাছও এখানে রাখা হচ্ছে, যার ফলে সাধারণ মানুষ প্রতারিত হচ্ছেন।
এই বিষয়ে বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের স্টলের দায়িত্বে থাকা দুই কর্মকর্তার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তারা বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং নিজেদের নাম ও পদবি জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
তাদের দাবি, স্টলে অন্য বা বাইরের নার্সারির গাছ বিক্রির বিষয়টি তাদের জানা ছিল না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী ক্রেতাও জানান, তাকে মেলার শেষের দিকে আসতে বলা হলেও এসে দেখেন পছন্দের চারাগুলো হয় বিক্রি হয়ে গেছে, কিংবা আগে থেকেই বুকিং করা ছিল, যা তাকে আগে জানানো হয়নি।
এবারের মেলায় শতাধিক স্টল থাকলেও একমাত্র বন বিভাগের স্টলেই নামমাত্র মূল্যে এমন দুর্লভ প্রজাতির চারা পাওয়া যায়। আগামী ৯ আগস্ট পর্যন্ত চলা এই মেলা প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। মেলায় প্রবেশের জন্য কোনো টিকিট লাগে না।
আরও পড়ুন: ঢাকায় ভ্রমণের নতুন গন্তব্য ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’
জাতীয় বৃক্ষমেলা ২০২৬ ঢাকার আগারগাঁওয়ের পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে (চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের পেছনে) অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এজেড