images

লাইফস্টাইল

সাফোকেশন কী এবং কেন হয়? এসি রুমে এই ঝুঁকি এড়াতে জানুন জরুরি তথ্য

লাইফস্টাইল ডেস্ক

২৭ মে ২০২৬, ০১:১৬ পিএম

গরমে স্বস্তি পেতে আমরা অনেকেই এখন দিনের বেশিরভাগ সময় কিংবা সারারাত এসি (এয়ার কন্ডিশনার) রুমে কাটাচ্ছি। তবে ঘর ঠান্ডা রাখার এই স্বস্তির মাঝেও ওত পেতে থাকে এক নীরব স্বাস্থ্যঝুঁকি, যার নাম ‘সাফোকেশন’ বা শ্বাসরুদ্ধ হওয়া। অসচেতনতার কারণে বদ্ধ এসি রুমে সাফোকেশনের শিকার হয়ে প্রতি বছরই বিশ্বজুড়ে নানা দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়। মানবশরীরে সাফোকেশনের প্রভাব, এর কারণ এবং বিশেষ করে এসি রুমে এই ঝুঁকি এড়াতে কী কী করণীয়, তা নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন তুলে ধরা হলো।

সাফোকেশন কী?

সহজ কথায়, সাফোকেশন (Suffocation) হলো অক্সিজেনের অভাবজনিত এমন একটি অবস্থা, যেখানে ফুসফুস ও শরীরের কোষে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছাতে পারে না। যখন কোনো কারণে মানুষের স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়ার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয় বা বাতাসে অক্সিজেনের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়, তখন শরীরে কার্বন ডাই-অক্সাইড বা অন্যান্য ক্ষতিকর গ্যাসের পরিমাণ বেড়ে গিয়ে দম বন্ধ হয়ে আসার উপক্রম হয়। এই চিকিৎসাগত অবস্থাকেই সাফোকেশন বা শ্বাসরোধ বলা হয়।

ac-1-20230520103850

সাফোকেশন কেন হয়?

সাফোকেশন মূলত দুইভাবে হতে পারে, যার একটি হলো বাহ্যিক কোনো বাধার কারণে এবং অন্যটি পরিবেশগত কারণে। কোনো ঘর বা স্থান যদি দীর্ঘ সময় সম্পূর্ণ বাতাস চলাচলহীন বা বদ্ধ থাকে, তবে সেখানকার অক্সিজেন ধীরে ধীরে শেষ হয়ে যায় এবং মানুষ শ্বাস নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেন পায় না। আবার বদ্ধ স্থানে কার্বন ডাই-অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড বা মিথেনের মতো গ্যাসের পরিমাণ বেড়ে গেলেও সাফোকেশন হয়। এ ছাড়া গলায় খাবার বা কোনো বস্তু আটকে গেলে কিংবা কোনো কারণে শ্বাসনালী চেপে ধরলে বা বন্ধ হয়ে গেলে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়।

সাফোকেশন হলে শরীরে যা ঘটে

শরীরে অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দিলে তা অত্যন্ত দ্রুত মস্তিষ্কে ও রক্তে প্রভাব ফেলে। সাফোকেশন শুরু হলে প্রথমে আক্রান্ত ব্যক্তির ঘন ঘন দম নেওয়ার চেষ্টা বা হাঁসফাঁসানি শুরু হয়। এর সাথে তীব্র মাথাব্যথা, বুক ধড়ফড় করা, মাথা ঘোরা এবং শরীর অতিরিক্ত ঘেমে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দেয়। অক্সিজেন কমে যাওয়ায় শরীর নিস্তেজ হতে শুরু করে এবং নখ, ঠোঁট ও ত্বকের রঙ কালচে বা নীলচে হতে থাকে, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় সায়ানোসিস বলে। একপর্যায়ে ব্যক্তি কথা বলা বা চিৎকার করার শক্তি হারিয়ে ফেলেন। সাফোকেশন দীর্ঘস্থায়ী হলে মানুষ জ্ঞান হারিয়ে ফেলে এবং মস্তিষ্ক মাত্র কয়েক মিনিট অক্সিজেন ছাড়া থাকলে চিরতরে ড্যামেজ হয়ে যেতে পারে। ফলে দ্রুত রোগীকে উদ্ধার করা না গেলে হার্ট অ্যাটাক বা মাল্টিপল অর্গান ফেইলিওর হয়ে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে।

suffocation

এসি রুমে সাফোকেশনের কারণ ও ঝুঁকি

অনেকেরই ধারণা, এসি হয়তো বাইরে থেকে ফ্রেশ বাতাস এনে ঘর ঠান্ডা করে। কিন্তু সাধারণ স্প্লিট বা উইন্ডো এসি আসলে ঘরের ভেতরের বাতাসকেই বারবার টেনে নিয়ে ঠান্ডা করে এবং পুনরায় ঘরে ছড়ায়। যদি কোনো এসি রুমের দরজা-জানালা দিনের পর দিন বা টানা ২৪ ঘণ্টা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে, তবে ঘরের ভেতরের অক্সিজেন আমরা শ্বাসের সাথে গ্রহণ করি এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড ত্যাগ করি। দীর্ঘক্ষণ এমন চললে ঘরের ভেতরের বাতাসে অক্সিজেনের লেভেল কমতে থাকে এবং কার্বন ডাই-অক্সাইডের ঘনত্ব বিপজ্জনক মাত্রায় বেড়ে যায়। এ ছাড়া এসির গ্যাস লিক হলে বা ঘরের ভেতর কার্পেট, ফার্নিচার থেকে নির্গত রাসায়নিক জমতে থাকলে বদ্ধ ঘরের বাতাস বিষাক্ত হয়ে সাফোকেশনের তীব্র ঝুঁকি তৈরি করে। ঘুমের মধ্যে এই সমস্যা হলে মানুষ অনেক সময় টের পাওয়ার আগেই অবশ হয়ে পড়ে।

All-You-Need-to-Know-about-Sleeping-With-Air-Conditioning-at-Night

সাফোকেশন এড়াতে করণীয়

দৈনন্দিন জীবনে এবং বিশেষ করে এসি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সাফোকেশনের হাত থেকে বাঁচতে বিশেষজ্ঞদের কিছু জরুরি পরামর্শ মেনে চলা উচিত। এর জন্য ২৪ ঘণ্টা একটানা রুম এসি দিয়ে বদ্ধ করে না রেখে দিনে অন্তত কয়েকবার এসির সুইচ বন্ধ করে ঘরের জানালা-দরজা পুরোপুরি খুলে দিতে হবে। এতে ভেতরের কার্বন ডাই-অক্সাইড বের হয়ে বাইরে থেকে অক্সিজেনসমৃদ্ধ তাজা বাতাস ঘরে ঢুকতে পারবে। 

আরও পড়ুন: সারারাত এসি চালালে কি ক্ষতি হয়?

এসি রুমে সামান্য হলেও ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা রাখা ভালো, যার জন্য জানালার এক কোণ এক ইঞ্চি পরিমাণ খোলা রাখা যেতে পারে। এসির ফিল্টারে ধুলাবালি জমলে তা বাতাস চলাচলকে রুদ্ধ করে এবং ভেতরের বাতাসের মান নষ্ট করে, তাই নিয়মিত ফিল্টার পরিষ্কার রাখা এবং এসি থেকে কোনো গ্যাস লিক হচ্ছে কি না তা অভিজ্ঞ মেকানিক দিয়ে পরীক্ষা করানো জরুরি। এ ছাড়া শোবার ঘরে রাতে অতিরিক্ত ইনডোর প্ল্যান্ট বা গাছপালা রাখা উচিত নয়, কারণ রাতে গাছও কার্বন ডাই-অক্সাইড ছাড়ে। একই সাথে এসি রুমের ভেতর কোনো ধরনের গ্যাস স্টোভ বা রুম হিটার জ্বালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা উচিত।

এজেড