লাইফস্টাইল ডেস্ক
২৭ মে ২০২৬, ১০:৪০ এএম
দুয়ারে কড়া নাড়ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। আজকের দিনটা পার হলেই কাল ঈদ। এই ঈদে ঘরদোর গোছানো, মসলাপাতি তৈরি ও রান্নাবান্নার নানা প্রস্তুতির মাঝে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটি হলো ফ্রিজ পরিষ্কার করা। কারণ কোরবানির ঈদে স্বাভাবিকভাবেই ফ্রিজের ওপর সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ে। সারা বছর মাছ-মাংস রাখার ফলে ফ্রিজে অনেক সময় রক্তের দাগ বা তরল জমে থাকে, যা থেকে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ছড়ানোর আশঙ্কা বাড়ে। এছাড়া অতিরিক্ত বরফ জমে ফ্রিজের ভেতরের অনেকখানি জায়গা নষ্ট হয়ে যায়, যার ফলে কোরবানির মাংস গুছিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই ঈদের আগেই ফ্রিজটি সুন্দরভাবে পরিষ্কার করে রাখলে উৎসবের দিনগুলোর অনেক বড় ঝামেলা থেকে রেহাই পাওয়া যায়।
আরও পড়ুন: কোরবানির মাংস ধুয়ে ফ্রিজে রাখা উচিত না কি সরাসরি?
নির্দিষ্ট দিন ঠিক করা ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ
ফ্রিজ পরিষ্কার করা বেশ সময়সাপেক্ষ কাজ। তাই ঈদের ব্যস্ততা পুরোদমে শুরু হওয়ার আগেই একটি নির্দিষ্ট দিন ঠিক করে নিন। পরিষ্কার করার সুবিধার্থে প্রথমে ফ্রিজের বৈদ্যুতিক সংযোগটি বন্ধ করে দিন এবং ভেতরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক হতে দিন। এরপর ফ্রিজে থাকা পুরোনো খাবার বা কাঁচাবাজারগুলো অন্য কোনো ফ্রিজে কিংবা ঠান্ডা নিরাপদ স্থানে সরিয়ে ফেলুন। দুই থেকে তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করলে ভেতরের জমে থাকা বরফ অনেকটাই গলে যাবে।

তাক ও ড্রয়ারগুলো আলাদা করে ধোয়া
ফ্রিজের ভেতরের বরফ গলে এলে সব তাক ও ড্রয়ারগুলো সাবধানে খুলে বাইরে নিয়ে আসুন। ফ্রিজের ভেতরের ঠান্ডা পরিবেশ থেকে বের করেই এগুলোকে সরাসরি অতিরিক্ত গরম পানিতে দেওয়া যাবে না, এতে ফাটল ধরার ঝুঁকি থাকে। তাই কুসুম গরম পানিতে সামান্য ডিটারজেন্ট মিশিয়ে একটি নরম স্পঞ্জের সাহায্যে ঘষে ঘষে তাকের দাগ ও রক্তের ছোপ দূর করুন। এতে দাগ দূর হওয়ার পাশাপাশি এগুলো জীবাণুমুক্ত হবে। এরপর পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে বাতাসে ভালো করে শুকিয়ে নিন।
ফ্রিজের ভেতরের অংশ পরিষ্কারের নিয়ম
ফ্রিজের ভেতরের অংশ পরিষ্কার করতে বেকিং সোডার মিশ্রণ চমৎকার কাজ করে। এক কাপ বেকিং সোডার সাথে সাত কাপ পানি মিশিয়ে একটি তরল মিশ্রণ তৈরি করুন। এবার একটি নরম স্পঞ্জ এই মিশ্রণে ভিজিয়ে ফ্রিজের ভেতরের দেয়াল ও প্রতিটি কোণ ভালোভাবে মুছে নিন। কোণার দুর্গম অংশগুলো পরিষ্কার করতে একটি পুরোনো টুথব্রাশ ব্যবহার করতে পারেন। সবশেষে একটি নরম মাইক্রোফাইবার কাপড় দিয়ে পুরো ভেতরটা শুকিয়ে মুছে নিন এবং শুকিয়ে যাওয়া তাক ও ড্রয়ারগুলো আবার ভেতরে সেট করুন।

বাইরের অংশ ও দরজার রাবার পরিষ্কার
ভেতরের মতো ফ্রিজের বাইরের অংশও দ্রুত নোংরা হয়, বিশেষ করে বারবার হাত দেওয়ার কারণে দরজায় দাগ পড়ে যায়। যেকোনো অল পারপাস ক্লিনজার অথবা ভিনেগার মেশানো পানি দিয়ে ফ্রিজের বাইরের অংশটি চকচকে করে মুছে নিন। একই সাথে ফ্রিজের দরজার চারপাশের রাবারটিও পরিষ্কার করা জরুরি, কারণ সেখানে আঠালো ময়লা জমে ছোট ছোট পোকা বাসা বাঁধতে পারে। পানিতে ভিনেগার মিশিয়ে একটি ব্রাশ ও কাপড়ের সাহায্যে রাবারের ভাঁজগুলো ভালো করে পরিষ্কার করে নিন।
ফ্রিজ ঠান্ডা করা ও ড্রয়ারে কাগজের ব্যবহার
পরিষ্কারের পর্ব শেষ হলে ফ্রিজের প্লাগ লাগিয়ে তা চালু করে দিন। ফ্রিজের ভেতরের তাপমাত্রা যখন ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার নিচে নেমে আসবে, অর্থাৎ ভেতরটা পুরোপুরি ঠান্ডা হবে, তখনই কেবল খাবারগুলো আবার ভেতরে রাখুন। এ ছাড়া ফ্রিজের সবজির ড্রয়ারগুলো সুরক্ষিত রাখতে নিচে মোটা কাগজ বা পুরোনো ক্যালেন্ডারের পাতা বিছিয়ে দিতে পারেন। এতে সবজির খোসা বা ময়লা সরাসরি ড্রয়ারে না লেগে কাগজের ওপর পড়বে এবং পরবর্তীতে শুধু কাগজটি বদলে নিলেই ড্রয়ার পরিষ্কার থাকবে।

ফ্রিজকে দুর্গন্ধমুক্ত রাখার কিছু কার্যকরী কৌশল
মাছ ও মাংসের কারণে ফ্রিজে তৈরি হওয়া ভ্যাপসা দুর্গন্ধ দূর করতে কিছু সহজ ঘরোয়া উপায় অবলম্বন করা যায়। ফ্রিজ পরিষ্কারের পর এক বাটি বেকিং সোডা ফ্রিজের এক কোণে রেখে দিলে তা গন্ধ শুষে নেয়। একইভাবে একটি বাটিতে শুকনো ওটমিল কিংবা কফির গুঁড়ো রেখে দিলেও ফ্রিজ দুর্গন্ধমুক্ত থাকে। এ ছাড়া তুলোর ছোট বল ভ্যানিলা এসেন্সে ডুবিয়ে ফ্রিজে রাখলে চমৎকার সুগন্ধ ছড়ায়। তবে সবচেয়ে ভালো হয় যদি ডিপ ফ্রিজে কোরবানি ও অন্যান্য সময়ের মাছ-মাংস রাখার জন্য এয়ারটাইট জিপ লক প্যাকেট ব্যবহার করা যায়। ঈদের আগেই এই সহজ কাজগুলো সেরে নিলে মাংস সংরক্ষণ নিয়ে আর দুশ্চিন্তা থাকবে না।
এজেড