লাইফস্টাইল প্রতিবেদক
১৪ মে ২০২৬, ১২:৪১ পিএম
কখনো অনিয়মিত ঋতুচক্র, কখনো অতিরিক্ত রক্তস্রাব। সেসঙ্গে কখনো কখনো তলপেটে ব্যথা। আর এসবের বাইরে হাত-পায়ে পুরুষের মতো ঘন লোম। এসব লক্ষণ থাকা অতি পরিচিত মেয়েলি রোগ পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম বা পিসিওএস। চিকিৎসকদের মতে, প্রতি ৫ জন প্রজননক্ষম নারীর মধ্যে অন্তত একজন এই সমস্যায় ভোগেন। গাইনি চিকিৎসকের কাছেই মূলত চিকিৎসা মেলে। সাধারণত একে হরমোন ও বিপাকজনিত রোগ ধরা হতো। তবে বিশ্বজুড়ে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সম্প্রতি বদলে গেছে এই রোগের নাম। এবার কেবল হরমোন নয়, পাশাপাশি জোর দেওয়া হয়েছে মেটাবলিক ও হরমোনজনিত সমস্যাতেও।
দীর্ঘ ১৪ বছরের গবেষণা ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞ, গবেষক ও রোগী সংগঠনের ঐকমত্যে পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম (পিসিওএস)-এর নাম বদলে নতুন নাম হয়েছে পলি-এন্ডোক্রিন মেটাবলিক ওভারিয়ান সিনড্রোম (পিএমওএস)। আন্তর্জাতিক মেডিক্যাল জার্নাল 'দ্য ল্যান্সেট'-এ মঙ্গলবার প্রকাশিত গবেষণাপত্রে এই নাম পরিবর্তনের কথা ঘোষণা করা হয়েছে।

এই পরিবর্তনে নেতৃত্ব দেন অস্ট্রেলিয়ার মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হেলেনা টিডি। গবেষকদের বক্তব্য, 'পলিসিস্টিক' শব্দটির মাধ্যমে রোগটিকে কেবল গাইনেকোলজিক্যাল সমস্যা হিসেবে তুলে ধরছিল। যার কারণে বহু রোগীর ক্ষেত্রে সঠিক সময়ে রোগনির্ণয় হচ্ছিল না। চিকিৎসাও সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছিল কেবল ডিম্বাশয়কেন্দ্রিক সমস্যায়।
গবেষকদের দাবি, এতদিন ধরে চলে আসা 'পিসিওএস' নামটি বিভ্রান্তিকর ছিল। কারণ, রোগটির ক্ষেত্রে সবসময় ডিম্বাশয়ে সিস্ট থাকে না। বরং এটি মূলত হরমোন, বিপাকক্রিয়া, প্রজনন ও মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গে জড়িত বহুমাত্রিক এক সমস্যা। 'পিএমওএস' নামের মাধ্যমে সেই জটিলতাকেই তুলে ধরা হয়েছে। গবেষণাপত্র অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতি আট জন নারীর মধ্যে অন্তত এক জন এই সমস্যায় আক্রান্ত।

কী হয় এই রোগে? অনিয়মিত ঋতুচক্র, বন্ধ্যত্ব, অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি, ওবেসিটি, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, টাইপ-২ ডায়াবেটিস, অতিরিক্ত লোম গজানো, ব্রণ, চুল পড়া থেকে শুরু করে উদ্বেগ ও অবসাদের মতো মানসিক সমস্যা পিএমওএস এর সঙ্গে জড়িত।
নতুন নামকরণের জন্য ৫৬টি আন্তর্জাতিক চিকিৎসা ও রোগী সংগঠনকে যুক্ত করে বহু ধাপে সমীক্ষা চালানো হয়। ১৪ হাজারের বেশি রোগী ও স্বাস্থ্যকর্মীর মত নেওয়া হয়। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই নামবদল ভবিষ্যতে রোগটি নিয়ে গবেষণা, চিকিৎসা নীতি তৈরি ও জনসচেতনতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বহু রোগিণী জানিয়েছেন, নতুন নাম রোগটির প্রকৃত জটিলতাকে আরও স্পষ্ট ভাবে তুলে ধরছে, যা আগে অনেকটাই সীমিত অর্থে প্রকাশ পেত।
আরও পড়ুন-
আন্তর্জাতিক নির্দেশিকা অনুযায়ী, ২০২৮–এর মধ্যে ধাপে ধাপে 'পিএমওএস' নামটি পুরোপুরি কার্যকর করা হবে। স্বাভাবিকভাবেই এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে চিকিৎসকদের বড় অংশ। প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞদের অনেকেই মনে করেন, এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত। 'পিসিওএস’ নামটি বিভ্রান্তিকর ও অসম্পূর্ণ ছিল।

অনেক রোগিণীই রোগটিকে ওভারি বা ডিম্বাশয়ের সিস্টের অসুখ ভেবে ভুল করতেন। নতুন পিএমওএস নামের মধ্যে স্পষ্ট, অসুখটি আসলে নিছক ডিম্বাশয়ের স্ত্রীরোগ নয়, বরং একটি সার্বিক বিপাকজনিত ও হরমোনজনিত জটিল একাধিক অসুখের সম্মিলিত প্রকাশ। এই অসুখের জেরে যে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও মানসিক সমস্যা হতে পারে, তা পুরনো নাম থেকে বোঝার উপায় ছিল না।
এনএম