লাইফস্টাইল প্রতিবেদক
০৩ মে ২০২৬, ১২:৩৭ পিএম
কাঁচা আমের পাশাপাশি বাজারে টুকটাক মিলছে পাকা আমও। আগামী ২-৩ মাস ফলের বাজারে রাজত্ব চলবে তার। মিষ্টি স্বাদের রসালো এই ফলের লোভ সামলানো কঠিন। তাই স্বাস্থ্যের তোয়াক্কা না করেই ভরপুর আম খান বাঙালিরা। সমস্যা হলো মাত্রাতিরিক্ত আম খেলে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়। কিন্তু কেন এমনটা হয়? করণীয় কী? চলুন জানা যাক-
আমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ প্রাকৃতিক শর্করা ও ম্যাঞ্জিফেরিন। এগুলো মেটাবলিজমের সময়ে শরীরে তাপ উৎপন্ন হয়। একে থার্মোজেনেসিস বলে। এই উপাদানের কারণেই আম খাওয়ার পরে শরীর কিছুটা ভারী মনে হয়, গরম অনুভব হয়। তবে সীমিত পরিমাণে আম খেলে এমন সমস্যা হয় না।

ডায়াবেটিসের রোগীদের জন্য আম ক্ষতিকর ফল। কারণ এই ফলের গ্লাইসেমিক সূচক বেশি। তাই অতিরিক্ত আম খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়তে পারে।
আমে শর্করার পাশাপাশি ক্যালোরির পরিমাণও বেশি। একটি মাঝারি সাইজের আমে ১২০-১৫০ ক্যালোরি থাকে। তাই মাত্রাতিরিক্ত আম খেলে ওজন বাড়বেই।

আমে ফাইবারের পরিমাণ বেশি থাকে। শরীরে এই ফাইবারের মাত্রা বেড়ে গেলে অনেক সময়ে পেট খারাপ, গ্যাস, ডায়রিয়ার মতো সমস্যা হতে পারে। যাকে অনেকে আম-আমাশয় বলে।
সীমিত পরিমাণ আম ত্বকের জন্য উপকারি। কিন্তু বেশি খেলে শরীরে সুগার লেভেল বাড়ে এবং ত্বকে তার প্রভাব দেখা দেয়। ব্রণ, ফুসকুড়ি, র্যাশের মতো নানা সমস্যা দেখা দেয় অতিরিক্ত আম খেলে।

একজন সুস্থ মানুষ দিনে একটি মাঝারি সাইজের আম খেতেই পারেন। খুব বেশি হলে দুটো-ও খাওয়া যায়। কিন্তু ডায়াবেটিস থাকলে দিনে অর্ধেকের বেশি আম খাওয়া উচিত নয়। অনেকসময় একটি পুরো আম খেলেও সুগার লেভেল বেড়ে যায়।
আরও পড়ুন-
আম খাওয়ার উৎকৃষ্ট সময় সকাল। এতে বিপাকের অনেকটা সময় পাওয়া যায়। শরীর আমে থাকা চিনি ভাঙতে পারে। এতে রক্তে শর্করার মাত্রার ওপর খুব বেশি প্রভাব পড়ে না। শরীরচর্চার পরে আম খেতে পারেন। এতে শারীরিক ক্লান্তি দূর হবে।
রাতে খাবার পরে আম না খাওয়াই ভালো। এতে বিশ্রামের সময় শরীরকে বেশি কসরত হয় হজমের জন্য। ফলে শরীরে ক্যালোরি জমে এবং ওজন বাড়ে।
এনএম