লাইফস্টাইল ডেস্ক
৩০ মার্চ ২০২৬, ০৪:২২ পিএম
হাম একটি ভাইরাসজনিত ছোঁয়াচে রোগ যা রোগীকে শারীরিকভাবে বেশ দুর্বল করে দেয়। এই সময়ে সঠিক চিকিৎসা ও বিশ্রামের পাশাপাশি পরিকল্পিত খাদ্যাভ্যাস দ্রুত আরোগ্য লাভে সহায়ক হয়। বিশেষ করে জ্বরের কারণে শরীর থেকে প্রচুর পানি ও পুষ্টি বেরিয়ে যায়, যা পূরণে সচেতন হওয়া জরুরি।
১. প্রচুর তরল খাবার
হামের সময় উচ্চ তাপমাত্রার কারণে শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে। এটি রোধ করতে প্রচুর পানি, ডাবের পানি, তাজা ফলের রস (চিনি ছাড়া), এবং পাতলা সবজির স্যুপ পান করানো উচিত।
২. ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ খাবার
হামের জটিলতা কমাতে ভিটামিন-এ অত্যন্ত কার্যকর। তাই গাজর, মিষ্টি কুমড়া, পেঁপে এবং রঙিন শাকসবজি রোগীর খাদ্যতালিকায় রাখা জরুরি। চিকিৎসকের পরামর্শে ভিটামিন-এ ক্যাপসুলও নেওয়া যেতে পারে।
৩. সহজপাচ্য বা নরম খাবার
রোগীর হজম ক্ষমতা এই সময় কিছুটা কমে যায়। তাই জাউ ভাত, নরম খিচুড়ি, সেদ্ধ সবজি বা সুজি দেওয়া যেতে পারে যা পেটে চাপ সৃষ্টি করবে না।

৪. প্রোটিন জাতীয় খাবার
শরীরের ক্ষয় পূরণে সেদ্ধ ডিম, মুরগির পাতলা ঝোল বা ডাল খাওয়ালে রোগী দ্রুত শক্তি ফিরে পায়।
৫. ভিটামিন-সি যুক্ত ফল
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কমলা, মাল্টা বা লেবুর শরবত বেশ উপকারী। এটি মুখের স্বাদ ফিরিয়ে আনতেও সাহায্য করে।

১. ভাজাপোড়া ও তৈলাক্ত খাবার
অতিরিক্ত তেল বা চর্বিযুক্ত খাবার এই সময়ে বদহজম বা পেটের সমস্যার কারণ হতে পারে। বিশেষ করে বাইরের ভাজাপোড়া খাবার সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলতে হবে।
আরও পড়ুন: শিশুদের পাশাপাশি বড়দেরও কি হাম হতে পারে?
২. ঝাল ও মসলাযুক্ত খাবার
অতিরিক্ত ঝাল বা কড়া মসলাযুক্ত খাবার গলা ও পেটে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। হামের সময় হালকা ও কম মসলার খাবারই সবচেয়ে নিরাপদ।

৩. প্রক্রিয়াজাত ও টিনজাত খাবার
প্যাকেটজাত খাবার বা কৃত্রিম রং ও ফ্লেভার যুক্ত পানীয় শরীরে হিতে বিপরীত করতে পারে। প্রাকৃতিক ও টাটকা খাবারের ওপর জোর দিন।
৪. শক্ত খাবার
অনেক সময় হামের কারণে মুখে বা গলায় ব্যথা হতে পারে। সেক্ষেত্রে শক্ত বা চিবিয়ে খেতে কষ্ট হয় এমন খাবার এড়িয়ে চলাই ভালো।
হাম আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসায় এসব বিষয়ে খেয়াল রাখুন
পরিচ্ছন্নতা: রোগীকে খাবার দেওয়ার আগে হাত ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে এবং বাসনপত্র পরিষ্কার রাখতে হবে।

অল্প অল্প করে বারবার: একবারে অনেক খাবার না দিয়ে অল্প অল্প করে বারবার পুষ্টিকর খাবার দিলে রোগী সহজে গ্রহণ করতে পারে।
বিশ্রাম: খাবারের পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম সুস্থ হওয়ার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে।
আরও পড়ুন: এসব লক্ষণ দেখলেই বুঝবেন আপনার শিশু হামে আক্রান্ত
সতর্কতা: যদি রোগীর ডায়রিয়া বা বমি ভাব বেশি হয়, তবে অবিলম্বে ওআরএস (ORS) বা খাবার স্যালাইন খাওয়াতে হবে এবং দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
এজেড