হাম সাধারণত শিশুদের রোগ হিসেবে পরিচিত হলেও চিকিৎসকদের মতে, যেকোনো বয়সের প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি এই রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। বিশেষ করে যারা শৈশবে হামের টিকা নেননি বা যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের ক্ষেত্রে বড় বয়সে হাম হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। বড়দের ক্ষেত্রে এই রোগের জটিলতা শিশুদের তুলনায় অনেক সময় বেশি মারাত্মক হতে পারে।
হামের প্রধান লক্ষণসমূহ
বিজ্ঞাপন
বড়দের ক্ষেত্রে হামের লক্ষণগুলো শিশুদের মতোই, তবে এর তীব্রতা ও কষ্ট অনেক সময় বেশি হয়-
তীব্র জ্বর: হঠাৎ করে অনেক বেশি জ্বর আসা (১০৩-১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত হতে পারে)।
সর্দি ও কাশি: অনবরত হাঁচি, নাক দিয়ে পানি পড়া এবং শুকনো কাশি।

বিজ্ঞাপন
চোখের সমস্যা: চোখ লাল হয়ে যাওয়া, পানি পড়া এবং আলোর দিকে তাকাতে কষ্ট হওয়া।
কোপ্লিক স্পটস: র্যাশ ওঠার ২-৩ দিন আগে মুখের ভেতরের দিকে ছোট ছোট সাদাটে দানার মতো দাগ দেখা দেওয়া।
র্যাশ বা ফুসকুড়ি: জ্বর আসার ৩-৫ দিন পর প্রথমে কানের পেছনে ও মুখমণ্ডলে লালচে ছোট ছোট র্যাশ দেখা দেয়, যা পরে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।

হাম প্রতিরোধের উপায়
হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ। এটি প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো-
টিকা গ্রহণ: যদি ছোটবেলায় এমএমআর (MMR) টিকা নেওয়া না থাকে, তবে চিকিৎসকের পরামর্শে বড় বয়সেও টিকা নেওয়া যায়।
আরও পড়ুন: এসব লক্ষণ দেখলেই বুঝবেন আপনার শিশু হামে আক্রান্ত
আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে দূরত্ব: হাম বাতাস ও ড্রপলেটের মাধ্যমে ছড়ায়। তাই আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত জিনিসপত্র আলাদা রাখা এবং তার সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা জরুরি।
ভিটামিন-এ: শরীরে ভিটামিন-এ এর অভাব থাকলে হামের ঝুঁকি বাড়ে। সুষম খাবার গ্রহণ করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী রাখা প্রয়োজন।

চিকিৎসা ও প্রাথমিক যত্ন
হামের নির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টি-ভাইরাল ওষুধ নেই, মূলত উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসা নিতে হয়-
জ্বর ও ব্যথানাশক: জ্বর ও শরীর ব্যথার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ সেবন করা যেতে পারে।
আরও পড়ুন: টিকা দেওয়ার পর কি হাম হতে পারে?
পর্যাপ্ত বিশ্রাম: রোগীকে সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হবে। শরীর খুব দুর্বল হয়ে পড়লে হাঁটাচলা কমিয়ে পর্যাপ্ত ঘুমানো প্রয়োজন।
ত্বকের যত্ন: র্যাশ বা চুলকানি কমাতে ক্যালামাইন লোশন ব্যবহার করা যেতে পারে অথবা হালকা গরম পানিতে শরীর স্পঞ্জ করে দেওয়া যেতে পারে।

পথ্য ও খাওয়া-দাওয়া
হামে আক্রান্ত রোগীর খাদ্যাভ্যাস সুস্থ হওয়ার প্রক্রিয়ায় বড় ভূমিকা রাখে-
তরল খাবার: প্রচুর পানি, ফলের রস, ডাবের পানি এবং স্যুপ পান করতে হবে যাতে শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি না হয়।
পুষ্টিকর খাবার: সহজে হজম হয় এমন খাবার (যেমন- নরম ভাত, সবজি সিদ্ধ) খেতে হবে। তবে অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত বা ভাজাপোড়া খাবার এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ।

ভিটামিন সমৃদ্ধ ফল: কমলা, মাল্টা বা লেবুর শরবতের মতো টক জাতীয় ফল ভিটামিন-সি এর চাহিদা মেটায় এবং দ্রুত সুস্থ হতে সাহায্য করে।
সতর্কতা: বড়দের ক্ষেত্রে হাম হলে যদি শ্বাসকষ্ট, প্রচণ্ড মাথা ব্যথা বা কানে ব্যথা শুরু হয়, তবে দেরি না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সময়মতো সঠিক যত্ন ও বিশ্রাম নিলে সাধারণত ১০-১৪ দিনের মধ্যেই রোগী পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠেন।
এজেড

