লাইফস্টাইল ডেস্ক
৩০ মার্চ ২০২৬, ০৩:১৩ পিএম
বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে সংক্রামক ব্যাধি হামের (Measles) প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে এই রোগের সংক্রমণ এবং মৃত্যুহার স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো ইতিমধ্যে তৎপরতা শুরু করেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গুগলে এখন সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বড় জিজ্ঞাসা— ‘হাম হলে বুঝব কী করে?’ এবং ‘এর প্রতিকার কী?’। এই সংকটময় সময়ে শিশুদের সুরক্ষায় হামের লক্ষণ, চিকিৎসা ও প্রতিরোধ ব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া জরুরি।
হামের প্রধান লক্ষণসমূহ
হাম একটি ভাইরাসজনিত অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে এটি দ্রুত ছড়ায়। সাধারণত সংক্রমণের ১০ থেকে ১৪ দিন পর লক্ষণগুলো প্রকাশ পায়-
তীব্র জ্বর: সাধারণত অনেক বেশি জ্বর (১০৩-১০৫° ফারেনহাইট) দিয়ে রোগের শুরু হয়।

শরীরে লালচে র্যাশ: জ্বরের ৩-৪ দিন পর মুখমণ্ডল থেকে শুরু করে সারা শরীরে লালচে দানাদার র্যাশ বা ফুসকুড়ি ছড়িয়ে পড়ে।
কাশি ও সর্দি: সাধারণ ঠান্ডার মতো নাক দিয়ে পানি পড়া এবং শুকনো কাশি হতে পারে।
চোখ লাল হওয়া: চোখ দিয়ে পানি পড়া এবং চোখ লাল হয়ে যাওয়া (কনজাংটিভাইটিস) এর অন্যতম লক্ষণ।
কোপ্লিক স্পট: গালের ভেতরের অংশে ছোট ছোট সাদাটে বা নীলচে দাগ দেখা দিতে পারে।

কেন এটি শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ?
হামের ফলে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়, যার ফলে নিউমোনিয়া, গুরুতর ডায়রিয়া, অন্ধত্ব কিংবা মস্তিষ্কের প্রদাহের (Encephalitis) মতো জটিলতা তৈরি হতে পারে। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না পেলে এটি প্রাণঘাতী হয়ে দাঁড়ায়।
হাম হলে করণীয় ও চিকিৎসা
হাম মূলত ভাইরাসের কারণে হয়, তাই এর কোনো নির্দিষ্ট অ্যান্টি-বায়োটিক নেই। তবে সঠিক ব্যবস্থাপনায় এটি নিরাময় সম্ভব-
১. পর্যাপ্ত বিশ্রাম: আক্রান্ত শিশুকে অন্য শিশুদের থেকে আলাদা ঘরে রাখতে হবে এবং পূর্ণ বিশ্রাম নিশ্চিত করতে হবে।

২. তরল খাবার: ডিহাইড্রেশন রোধে প্রচুর পানি, ওআরএস (ORS) এবং পুষ্টিকর তরল খাবার খাওয়াতে হবে।
৩. ভিটামিন-এ: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ অনুযায়ী, হাম আক্রান্ত শিশুকে চিকিৎসকের পরামর্শে ভিটামিন-এ ক্যাপসুল খাওয়ালে জটিলতা অনেক কমে যায়।
৪. জ্বর নিয়ন্ত্রণ: চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ দিয়ে জ্বর নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
প্রতিরোধের একমাত্র উপায়: টিকা
হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে শক্তিশালী ও কার্যকর হাতিয়ার হলো এমআর (MR) টিকা।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী শিশুদের ৯ মাস পূর্ণ হলে প্রথম ডোজ এবং ১৫ মাস বয়সে দ্বিতীয় ডোজ টিকা অবশ্যই দিতে হবে।

এছাড়া সরকারি বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি চললে সেখানেও শিশুকে টিকা দেওয়া নিশ্চিত করুন।
আরও পড়ুন: চোখ রাঙাচ্ছে হাম, যা জানা জরুরি!
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ: যদি শিশুর শ্বাসকষ্ট হয়, প্রস্রাব কমে যায় কিংবা শিশু নিস্তেজ হয়ে পড়ে, তবে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতাল বা চিকিৎসকের স্মরণাপন্ন হোন। মনে রাখবেন, সচেতনতাই পারে আপনার শিশুকে এই মরণঘাতী রোগ থেকে রক্ষা করতে।
এজেড