images

লাইফস্টাইল

হজম বাড়ানোর ৭ ঘরোয়া পদ্ধতি

লাইফস্টাইল ডেস্ক

২১ মার্চ ২০২৬, ০২:৩৬ পিএম

ঈদের দিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলে হরেক পদের মুখরোচক ও তৈলাক্ত খাবারের ভুরিভোজ। সেমাই, পোলাও, রোস্ট আর বিকেলের আড্ডায় চটপটি-ফুচকা সব মিলিয়ে আমাদের পাকস্থলীর ওপর দিয়ে বেশ বড় ধকল যায়। এক মাসের সংযমের পর হুট করে অতিরিক্ত মশলাদার খাবার খাওয়ার ফলে অনেকেরই বদহজম, পেটে গ্যাস বা অস্বস্তি দেখা দেয়। ঘরোয়া কিছু সহজ পদ্ধতি অনুসরণ করলে এই ‘ফুড হ্যাংওভার’ থেকে দ্রুত মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

১. কুসুম গরম পানি পান করুন

ভারী খাবার খাওয়ার পর পেটের অস্বস্তি কমাতে কুসুম গরম পানি দারুণ কার্যকর। এটি পরিপাকতন্ত্রকে সচল করে এবং হজম প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। খাবারের অন্তত আধা ঘণ্টা পর এক গ্লাস কুসুম গরম পানি পান করলে পেটের ভারী ভাব ও অস্বস্তি অনেকটাই কমে যায়।

food

২. আদা বা পিপারমিন্ট চা

হজমে সহায়তায় আদা ও পিপারমিন্টের জুড়ি নেই। আদা পাকস্থলীর এনজাইম নিঃসরণ বাড়ায়, যা দ্রুত খাবার ভাঙতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, পিপারমিন্ট চা পেটের গ্যাস ও মোচড়ানো ভাব কমায়। ভুরিভোজের পর এক কাপ আদা চা বা পিপারমিন্ট চা আপনার অস্বস্তি দূর করতে জাদুর মতো কাজ করতে পারে।

আরও পড়ুন: সুস্থ থাকতে ঈদের দিন কোন বেলায় কী কী খাবেন?

৩. হালকা হাঁটাচলা করুন

খাওয়ার পরপরই বিছানায় শুয়ে পড়ার অভ্যাস বদহজমের প্রধান কারণ। খাবার দ্রুত হজম করতে এবং গ্যাস জমতে না দিতে অন্তত ১০-১৫ মিনিট ধীরলয়ে হাঁটাহাঁটি করুন। তবে মনে রাখবেন, ভরা পেটে খুব ভারী কোনো শারীরিক কসরত বা দৌড়ঝাঁপ করা উচিত নয়।

image

৪. সহজপাচ্য ফলমূল

যদি পেটে অস্বস্তি অনুভব করেন, তবে পরবর্তী নাস্তায় কলা বা আপেলের মতো সহজপাচ্য ফল রাখতে পারেন। বিশেষ করে কলা পাকস্থলীর অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণ করে এবং হজমে সহায়তা করে। তবে বদহজম থাকা অবস্থায় অতিরিক্ত টক বা সাইট্রাস জাতীয় ফল এড়িয়ে চলাই ভালো।

৫. পানির পরিমাণ বাড়ান (খাবারের ব্যবধানে)

শরীরের টক্সিন বের করে দিতে পানির বিকল্প নেই। তবে খাবারের সাথে সাথে খুব বেশি পানি পান না করে বরং দুই খাবারের মাঝখানের সময়টাতে পানির পরিমাণ বাড়ান। এতে শরীর হাইড্রেটেড থাকবে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা হবে না।

আরও পড়ুন: ঈদে একেক দেশে একেক রীতি, কেউ খান মিষ্টি কেউবা ঝাল

৬. পাকস্থলীকে বিরতি দিন ও হালকা খাবার খান

একবার বদহজম বা পেটে সমস্যা হলে পাকস্থলীকে কিছুটা বিশ্রাম দিন। পরবর্তী কয়েক বেলা তেল-মশলাযুক্ত খাবার পুরোপুরি এড়িয়ে চলুন। পরিবর্তে পাতলা খিচুড়ি, সাদা ভাত, দই-চিড়া বা মিষ্টি আলুর মতো হালকা ও সহজপাচ্য খাবার গ্রহণ করুন।

৭. সতর্ক থাকুন ওষুধ ও দীর্ঘমেয়াদি সমস্যায়

যদি তীব্র অ্যাসিডিটি বা গ্যাসের সমস্যা থাকে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টাসিড বা গ্যাসের ট্যাবলেট নিতে পারেন। হুটহাট কোনো ওষুধ না খেয়ে বিশেষজ্ঞের মতামত নেওয়াই শ্রেয়।

সতর্কতা: যদি বদহজম দীর্ঘস্থায়ী হয়, তীব্র পেট ব্যথা থাকে কিংবা বমি বমি ভাব না কমে, তবে ঘরোয়া প্রতিকারের ওপর নির্ভর না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।