লাইফস্টাইল ডেস্ক
০৩ নভেম্বর ২০২৫, ১২:০৭ পিএম
স্বাস্থ্য সচেতন ব্যক্তিদের বেশিরভাগই দেহের বাড়তি ওজন ঝরাতে চান। খাওয়াদাওয়ায় নিয়ন্ত্রণ, শারীরিক চর্চা, জিম, উপোস থাকা—ওজন কমানোর নানা পন্থা রয়েছে। তবে হুট করে এই মিশনে নামা উচিত নয়। বরং ঠিকমতো প্ল্যান করে, লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করে তারপর ওজন কমানো শুরু করা উচিত। দ্রুত গতিতে ওজন কমানো মোটেও স্বাস্থ্যকর নয়। এতে আপনি খুশি হবে ঠিকই, কিন্তু বেহাল দশা হবে শরীরের।
দ্রুত ওজন কমাতে গেলে তা হয় ক্ষণস্থায়ী। শরীরে দেখা দেয় পুষ্টির ঘাটতি। তাই ওজন নির্দিষ্ট মাত্রায় কমানো উচিত। মাসে কত কেজি ওজন কমানো স্বাভাবিক? চলুন জানা যাক-

সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) এর তথ্য অনুযায়ী, প্রতি সপ্তাহে ১ কেজি বা ৫০০ গ্রাম করে ওজন কমলে তা স্বাস্থ্যকর। এই হিসাবে এক মাসে সর্বোচ্চ ৪-৫ কেজি ওজন কমতে পারে। তবে ওজন কমার বিষয়টি ব্যক্তির শারীরিক অবস্থার ওপরেও নির্ভর করে। উচ্চতা, অসুখবিসুখের ইতিহাস ইত্যাদি মাথায় রেখে মাসে ২ থেকে ৪ কেজি ওজন কমাও স্বাভাবিক।
হার্ভার্ড স্কুল হেলথ অ্যান্ড মেডিসিন এই বিষয়ে আরও একটি তথ্য দিয়েছে। তাদের মতে, শুরুতে যা ওজন ছিল, ৬ মাসের মধ্যে তার ৫ থেকে ১০ শতাংশ কমানো স্বাভাবিক। অর্থাৎ যদি কারো ওজন ৯০ কেজি হয় এবং ৬ মাসের মধ্যে তিনি ৯ থেকে ১০ কেজি কমাতে পারেন, তাহলে সেটি স্বাস্থ্যকরই হবে।

মনে রাখতে হবে, প্রথম এক থেকে দুই সপ্তাহে ওজন খুব তাড়াতাড়ি কমে। নিয়ম মেনে খাওয়াদাওয়া করলে এবং শরীরচর্চায় ফাঁকি না দিলে, এক মাসের মধ্যে ওজন খুব তাড়াতাড়ি কমে যায়। তবে এরপর থেকে বিষয়টি কঠিন হয়। বাড়তি ক্যালোরি ঝরিয়ে শরীরে জমা মেদ পোড়াতে বেশ ভালোই কসরত করতে হয়। তাই সেদিক থেকে ৬ মাসে ১০ কেজি কমিয়ে ফেলা মোটেও সহজ কাজ নয় বরং স্বাস্থ্যকর।
আরও পড়ুন-
ওজন কমাতে গেলে কিছু জিনিস খেয়াল করতে হবে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- বিএমআই ও বিআরআই। বডি মাস ইনডেক্স বা বিএমআই হলো উচ্চতার সঙ্গে ওজনের অনুপাত আর বিআরআই হলো উচ্চতার সঙ্গে কোমর-নিতম্বের মাপজোকের অনুপাত।

ধরুন, যার উচ্চতা ৬ ফুট, তার ওজন যা হবে, যার উচ্চতা ৫ ফুট, তার ওজন আলাদা হবেই। ৫ ফুট উচ্চতার একজন ব্যক্তি যদি আড়ে-বহরে বেজায় স্থূল হন, কোমরে স্তরে স্তরে চর্বি থাকে, তাহলে তো তার ওজন বেশি হবেই। তখন হয়তো দেখা যাবে, দুজনেরই বিএমআই এক। তফাত শুধু, এক জনের উচ্চতা বেশি, আর এক জনের কোমরের বেড়। তাই সেই হিসেবে ওজন কমানোর সময়টাও জরুরি।
আরও পড়ুন-
ফ্যাট দুই রকমের হয়— পেশির ও মেদের। যিনি পেশিবহুল, তার ওজন বেশি হলেও কিন্তু তিনি মোটা নন। আবার যার পেটে থলথলে চর্বি রয়েছে, তার ওজন কিন্তু শুধু মেদের জন্য। কাজেই দুই রকম ব্যক্তিই যদি ওজন কমাতে চান, তাহলে তাদের ডায়েট, শরীরচর্চার পদ্ধতি আলাদা হবেই।

তাই কে কত দিনে ওজন কমাতে পারবেন, তার হিসেব একজন প্রশিক্ষকই দিতে পারেন। ওজন কমাতে কেবল হিসেব দেখলে হবে না, নিয়ম মানাও জরুরি। তাই চিকিৎসক, পুষ্টিবিদ এবং অবশ্যই ফিটনেস প্রশিক্ষকের পরামর্শ মানতে হবে।
এনএম