নিজস্ব প্রতিবেদক
১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫২ পিএম
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে চট্টগ্রামে ওয়াসিম আকরামসহ ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এ মামলায় সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদসহ ২২ জন আসামি রয়েছেন।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন।
প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ জুন ২২ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করা হয়। ওই আদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন মামলায় গ্রেফতার পাঁচ আসামি।
আবেদনগুলোর ওপর গত ২১ সেপ্টেম্বর প্রথম দিনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। পরে ৮ ও ১৩ অক্টোবর শুনানি শেষে আদেশের জন্য সোমবার দিন ধার্য করা হয়। নির্ধারিত দিনে আসামিপক্ষের আবেদন খারিজ করে দেন ট্রাইব্যুনাল। ফলে মামলায় নিয়ম অনুযায়ী সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন ও সাক্ষী হাজির করবে রাষ্ট্রপক্ষ।
মামলায় গ্রেফতার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন চট্টগ্রাম-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী। তার পক্ষে ট্রাইব্যুনালে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এহসানুল হক সমাজী।
শুনানিতে এহসানুল হক সমাজী বলেন, অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ প্রমাণে তারিখ, সময় ও ঘটনাস্থল গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ফজলে করিম চৌধুরীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সমর্থনে প্রসিকিউশন কোনো তথ্যপ্রমাণ বা সাক্ষী উপস্থাপন করতে পারেনি। মামলার ঘটনাস্থল চট্টগ্রাম মহানগর এলাকা হলেও আমার মক্কেল অন্য আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে পুনর্বিবেচনার আবেদন মঞ্জুরের আর্জি জানাই।
শুনানির দিন পাঁচ আসামিই ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন। ফজলে করিম চৌধুরী ছাড়া গ্রেফতার অন্য চার আসামি হলেন যুবলীগ নেতা আজিজুর রহমান, তৌহিদুল ইসলাম, মো. ফিরোজ ও দেবাশীষ পাল দেবু।
মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আ জ ম নাসির উদ্দীন, রেজাউল করিম, মহিউদ্দিন বাচ্চু, হেলাল আকবর, নুরুল আজিম রনি, শৈবাল দাশ সুমন, আবু ছালেক, এসবারুল হক, এইচ এম মিঠু, নূর মোস্তফা টিনু, জমির উদ্দিন, ইমরান হাসান মাহমুদ, জাকারিয়া দস্তগীর, মহিউদ্দিন ফরহাদ ও সুমন দে। তারা মামলায় পলাতক আসামি হিসেবে রয়েছেন।
এর আগে, গত ৫ এপ্রিল মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। ৭ এপ্রিল ট্রাইব্যুনাল-২ তিনটি সুনির্দিষ্ট আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন।
প্রথম অভিযোগে ওয়াসিম আকরাম, ফয়সাল আহমেদ শান্ত ও মো. ফারুককে হত্যার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। দ্বিতীয় অভিযোগে তানভীর সিদ্দিকী, সায়মন ওরফে মাহিম ও হৃদয় চন্দ্রকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়। তৃতীয় অভিযোগে জাহিদ হাসান, আবদুল কাদের, আছিয়া খাতুন, সানজিদা সুলতানা, আবদুল্লাহসহ শতাধিক ছাত্র-জনতাকে গুরুতর আহত করার বর্ণনা রয়েছে।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে শুনানিতে অংশ নেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ, জহিরুল আমিন, তারেক আবদুল্লাহসহ অন্যরা। অন্যদিকে আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আবদুল কাইয়ুমসহ সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।
এম/এফএ