নিজস্ব প্রতিবেদক
১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৪ পিএম
দেশের সব বিদ্যালয়ে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার সরকারি প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট আবেদনটি কার্যতালিকা থেকে বাদ (আউট অব লিস্ট) দিয়েছেন হাইকোর্ট।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামান ও বিচারপতি এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের সমন্বয়ে গঠিত অবকাশকালীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।
এর আগে, গত ৭ অক্টোবর মানবাধিকার ও সুশাসন বিষয়ক সংগঠন ‘মুভমেন্ট ফর হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড গুড গভর্নেন্স ফাউন্ডেশন’-এর পক্ষে এর নির্বাহী পরিচালক মিনহাজ উদ্দিন আহমেদ রিট আবেদনটি দায়ের করেছিলেন।
রিটে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) মহাপরিচালক এবং মাউশির উপ-সচিবকে বিবাদী করা হয়।
আদালতের আদেশের বিষয়ে রিটকারী পক্ষের আরেক আইনজীবী জাহিদ তালুকদার ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘আদালত অবকাশকালীন সময়ে রিটটি শুনতে চাননি। অবকাশকালীন বেঞ্চের এখতিয়ার বিবেচনায় আদালত এটি নিয়মিত বেঞ্চে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তাই আবেদনটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।’
তিনি জানান, আদালতের অবকাশ শেষে নিয়মিত বেঞ্চ চালু হলে তারা আবারও আবেদনটি শুনানির জন্য উপস্থাপন করবেন।
আইনজীবী জাহিদ তালুকদার বলেন, ‘আগামী ২৫ অক্টোবর অবকাশ শেষে আদালত খুলবে। এরপর আগামী নভেম্বরের দিকে নিয়মিত একটি হাইকোর্ট বেঞ্চে আমরা এই রিটটি নিয়ে পুনরায় শুনানি করব।’
রিট আবেদনের মূল যুক্তি তুলে ধরে এই আইনজীবী বলেন, ‘ছোট বাচ্চাদের ওপর ভর্তি পরীক্ষার বাড়তি মানসিক চাপ পড়বে, যা তাদের স্বাভাবিক বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে মারাত্মক বাধা সৃষ্টি করবে। এছাড়া যেসব শিশু কাঙ্ক্ষিত প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ পাবে না, তারা শুরুতেই আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি ও হীনম্মন্যতায় ভুগবে।’
কোচিং বাণিজ্যের প্রসারের আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘ভর্তি পরীক্ষা চালু হলে বড়বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে আবারও কোচিং বাণিজ্য ও গাইড বইয়ের রমরমা ব্যবসা শুরু হয়ে যাবে। এর ফলে বিত্তবানদের তুলনায় দরিদ্র ও অসচ্ছল পরিবারের সন্তানরা শুরুতেই প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে এবং বৈষম্যের শিকার হবে। এসব কারণে ভর্তি পরীক্ষার সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে রিটটি করা হয়েছিল।’
আরএনবি/এএম