Dhaka Mail Logo

আইন-আদালত

স্কুলে ভর্তি পরীক্ষা চালুর প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩৮ পিএম

আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লটারি পদ্ধতি বাতিল করে পুনরায় ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার সরকারি প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) জনস্বার্থে ‘মুভমেন্ট ফর হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড গুড গভর্নেন্স ফাউন্ডেশন’ এর পক্ষে সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক মিনহাজ উদ্দিন আহমেদ এই রিট দায়ের করেন।

রিটে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক এবং মাউশির উপসচিবকে বিবাদী করা হয়েছে।

রিটকারীর আইনজীবী জাহিদ তালুকদার জানান, আগামী সপ্তাহে বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামান ও বিচারপতি এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের হাইকোর্ট বেঞ্চে রিট আবেদনটির ওপর শুনানি হতে পারে।

২০২১ শিক্ষাবর্ষ থেকে সারাদেশের সরকারি বিদ্যালয়গুলোতে প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তি পরীক্ষা বাতিল করে ডিজিটাল লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার। এরপর থেকে এভাবেই ভর্তি প্রক্রিয়া চলে আসছিল।

তবে ক্ষমতায় আসার পর বর্তমান বিএনপি সরকার লটারি পদ্ধতি বাতিল করে স্কুলগুলোতে পুনরায় ভর্তি পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেয়। গত ১৬ মার্চ এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

ওইদিনই মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে লটারি বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। পরে আরেকটি সংশোধিত প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে। তবে প্রথম শ্রেণিতে কেবল লটারির মাধ্যমেই শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে।

রিট দায়েরের পর আইনজীবী জাহিদ তালুকদার বলেন, ‘মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির বিদ্যমান লটারি পদ্ধতি বাতিলের ঘোষণার পর তুমুল বিতর্ক দেখা দেয়। শিক্ষাবিদরা জানিয়েছেন, এই ব্যবস্থার ফলে কোচিং বাণিজ্য মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে এবং খুদে শিক্ষার্থীরা ভর্তি পরীক্ষার নামে প্রচণ্ড চাপের মুখে পড়বে।’

সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ‘একতরফা’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘লটারি বাতিলের সিদ্ধান্তটি পর্যাপ্ত গবেষণা, তথ্য-উপাত্ত ও সঠিক মূল্যায়নের ভিত্তিতে হয়নি। সরকার অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘স্কুল পর্যায়ে ভর্তি পরীক্ষার নিয়ম সমাজে অসমতা তৈরি করবে। দরিদ্র শ্রেণির শিশুরা কোচিং ও টিউটরের ব্যয় বহন করতে পারবে না, ফলে তারা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে।’

ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও বৈষম্য বাড়ার শঙ্কা প্রকাশ করে জাহিদ তালুকদার আরও বলেন, ‘আমরা চাই না কোমলমতি শিশুরা প্রতি বছর ভর্তি পরীক্ষার বোঝা নিয়ে বেড়ে উঠুক। সার্বিক বিষয় বিবেচনা করেই স্কুলে ভর্তি পরীক্ষা বাতিলের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।’

আরএনবি/এএম