বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

একই পরিবারের একাধিক সদস্য সারের ডিলারশিপ নিতে পারবে না: চেম্বার আদালত

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫০ পিএম

শেয়ার করুন:

একই পরিবারের একাধিক সদস্য সারের ডিলারশিপ নিতে পারবে না: চেম্বার আদালত

সার ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে একই পরিবারের একাধিক সদস্যের ডিলারশিপ নেওয়ার সুযোগ বন্ধ করে দেওয়া সরকারি নীতিমালা বহাল রেখেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।

বুধবার (৭ অক্টোবর) নীতিমালার ওই অংশের ওপর হাইকোর্টের দেওয়া স্থিতাবস্থার (স্ট্যাটাসকো) আদেশ স্থগিত করে দিয়েছেন চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক।

এর ফলে নতুন নীতিমালা অনুযায়ী সার ডিলার নিয়োগ ও বিতরণ কার্যক্রম চলতে আর কোনো আইনি বাধা রইল না বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল। 

রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবা আকতার জুঁই ও মোহাম্মদ মেহেদি হাসান।

আদালতে রিটকারীদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী একরামুল হক টুটুল। 

প্রেক্ষাপট ও আইনি লড়াই

কৃষকের কাছে সময়মতো ও ন্যায্যমূল্যে সার পৌঁছানো নিশ্চিত করতে সার ডিলার নিয়োগ ও ব্যবস্থাপনায় ২০০৯ সালে একটি নীতিমালা করা হয়েছিল। তবে রাষ্ট্রপক্ষ বলছে, ওই নীতিমালায় একই পরিবারের একাধিক সদস্যের ডিলারশিপ নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বিধিনিষেধ ছিল না। এর সুযোগ নিয়ে স্বামী, স্ত্রী, সন্তান ও পুত্রবধূদের নামে ডিলারশিপ নিয়ে দেশজুড়ে ‘পারিবারিক মনোপলি’ বা সিন্ডিকেট গড়ে তোলা হয়।

এই সিন্ডিকেট ভেঙে স্বচ্ছতা আনতে এবং ডিলারশিপে জবাবদিহি নিশ্চিতে বর্তমান সরকার ২০২৬ সালের ৯ অগাস্ট নীতিমালায় সংশোধনী আনে। এরপর এটিকে আরও যুগোপযোগী করে ২৭ অগাস্ট নতুন করে হালনাগাদ নীতিমালা প্রকাশ করে কৃষি মন্ত্রণালয়।

অ্যাটর্নি জেনারেল এর ভাষ্যে, নতুন নীতিমালায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, সার ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে একই পরিবারের একজনের ডিলারশিপ বা খুচরা বিক্রেতার আইডি কার্ড থাকলে, পরিবারের অন্য কেউ ডিলার বা খুচরা বিক্রেতা হতে পারবেন না।

নীতিমালায় ‘পরিবার’ বলতে বাবা, মা, স্বামী, স্ত্রী, ছেলে, ছেলের স্ত্রী, ছেলের ছেলে ও তাদের স্ত্রী, অবিবাহিত কন্যা এবং নির্ভরশীল ভাই-বোনকে বোঝানো হয়েছে— যারা একই অন্নে বা একখানায় খাদ্য গ্রহণ করেন।

রুহুল কুদ্দুস কাজল জানান, সরকারের এই সংশোধিত নীতিমালার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দীর্ঘদিন ধরে সার ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা একটি পরিবারের পাঁচ সদস্য হাইকোর্টে দুটি রিট পিটিশন দায়ের করেন। শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট গত ৬ অক্টোবর তাদের বিদ্যমান ডিলারশিপ বাতিল না করার নির্দেশ দিয়ে স্থিতাবস্থা জারি করে।

অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে গত ৬ অক্টোবর আপিল বিভাগে আবেদন করে। বুধবার চেম্বার আদালতে সেই আপিলের শুনানি হয়।

রাষ্ট্রপক্ষ আদালতকে জানায়, ২০০৯ সালের নীতিমালার সুযোগে যারা ডিলারশিপ পেয়েছিলেন, তারাই মূলত একটি সিন্ডিকেট তৈরি করে কৃষককে জিম্মি করে আসছিলেন। নতুন নীতিমালায় সেই সুযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা এখন বিভিন্ন স্থানে ডিলারশিপের স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছেন এবং ধর্মঘটের মত কর্মসূচি দিচ্ছেন।

রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ এই আইন কর্মকর্তার আরও জানান, এর আগে ২০২৫ সালেও নীতিমালায় এ ধরনের একটি সংশোধনী আনা হয়েছিল। তখনো সেটি চ্যালেঞ্জ করে রিট হয়েছিল। কিন্তু হাইকোর্ট তখন সুস্পষ্ট রায়ে জানিয়েছিল যে, ডিলার সিন্ডিকেট ভাঙা এবং তৃণমূল পর্যায়ে সারের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত।

চেম্বার আদালতের আদেশের পর রুহুল কুদ্দুস কাজল  বলেন, ‘হাইকোর্টের আদেশের ওপর স্থগিতাদেশের অর্থ হলো, ২৭ অগাস্টের নীতিমালাটি সম্পূর্ণ বৈধ এবং বলবৎ থাকল। এই নীতিমালার আলোকেই এখন থেকে ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ পরিচালিত হবে। কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি বা গোষ্ঠী এখন আর পরিবারতন্ত্র কায়েম করে কৃষকের সার নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে পারবে না।’

আরএনবি/এসআই

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর