নিজস্ব প্রতিবেদক
০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৮ পিএম
জুলাই আন্দোলনে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তাঁর এই সাজার পরিধি বাড়াতে চলতি সপ্তাহেই আপিল করবে প্রসিকিউশন।
রোববার (৪ অক্টোবর) সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘চলতি সপ্তাহেই আমরা ইনু সাহেবের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল যে ১০ বছরের সাজা দিয়েছিলেন, তাঁর আপিল ফাইল করব। এ সপ্তাহেই করব।’
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী সিফাত মাহমুদ শুভ বলেন, গত ২০ সেপ্টেম্বর তারা রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি হাতে পেয়েছেন। আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তারা আপিল করবেন।
গত ৩০ জুন বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ মামলার রায়ে হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেয়। ৫০০ পৃষ্ঠার সেই পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয় গত ২০ সেপ্টেম্বর।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ২১(৩) ধারা অনুযায়ী, খালাস বা যে কোনো দণ্ডের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হয়। এই সময়সীমা পার হলে আর আপিলের সুযোগ থাকে না।
মামলার একমাত্র আসামি ইনুর বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলনের সময় শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী ও চাকরিজীবী ইউসুফ শেখকে হত্যাসহ উসকানি, ষড়যন্ত্র, প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার ও নিপীড়নমূলক কৌশলে সমর্থনের অভিযোগে মোট আটটি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছিল।
এর মধ্যে তৃতীয়, ষষ্ঠ ও সপ্তম অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে তাঁকে বাকি পাঁচ অভিযোগ থেকে খালাস দেয় ট্রাইব্যুনাল।
কী ছিল ওই তিন অভিযোগে
তৃতীয় অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ২০ জুলাই দুপুরে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারকে ফোন করে আন্দোলনকারীদের ভিডিও দেখে শনাক্ত করে দমন, আটক, নির্যাতন ও হত্যার নির্দেশ দেন ইনু।
ষষ্ঠ অভিযোগে বলা হয়, আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে নিতে ২৯ জুলাই ১৪ দলীয় জোটের সভায় উপস্থিত থেকে আন্দোলনকারীদের ‘জামায়াত, সন্ত্রাসী, সাম্প্রদায়িক’ ট্যাগ দেন তিনি। একই সভায় জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের ওপর চালানো হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করেন।
আর সপ্তম অভিযোগে বলা হয়, ৪ অগস্ট বিকালে আন্দোলনকারীদের ‘জঙ্গি’ তকমা দিয়ে কারফিউ জারির মাধ্যমে গুলি চালানোর কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং তা বাস্তবায়নে অধস্তনদের নির্দেশ দেন ইনু।
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ২০২৪ সালের ২৬ অগস্ট রাজধানীর উত্তরা থেকে হাসানুল হক ইনুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর থেকেই তিনি কারাগারে রয়েছেন।
আরএনবি/এসআই