নিজস্ব প্রতিবেদক
০১ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৫০ পিএম
জুলাই আন্দোলনের সময় রাজশাহীতে দুজনকে হত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনসহ পলাতক ৩৪ আসামিকে হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের গ্রেফতার করতে না পারায় বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।
আদালতে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন। তার সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ, মঈনুল করিম ও সহিদুল ইসলাম সরদার।
শুনানিতে প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন আদালতকে জানান, এ মামলায় ৩৪ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি ছিল। কিন্তু পুলিশ তাদের স্থায়ী-অস্থায়ী ঠিকানায় গিয়েও সন্ধান পায়নি। ফলে তারা নন-এক্সিকিউটিভ রিপোর্ট (এনইআর) জমা দিয়েছেন। এ কারণে আসামিদের হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়ে দুটি জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা প্রয়োজন।
শুনানি শেষে আদালত লিটনসহ ওই ৩৪ আসামিকে হাজিরের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেয়।
একইসঙ্গে মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২৭ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়।
এদিন এ মামলায় গ্রেফতার চারজনকে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছিল। তারা হলেন- রাজশাহী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. আসাদুজ্জামান আসাদ, ডাবলু সরকার, জহিরুল ইসলাম রুবেল ও মোহাইমিনুল ইসলাম মানিক।
কী ঘটেছিল ৫ আগস্ট
প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে গত ৫ আগস্ট দুপুরে রাজশাহী মহানগরের বোয়ালিয়া থানার শেখেরচক স্বচ্ছ টাওয়ারের বিপরীতে লবঙ্গ রেস্টুরেন্টের সামনে আন্দোলনকারী রায়হান আলীকে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়।
একই সময়ে শাহ মখদুম কলেজের সামনে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন আনজুম সাকিব। এছাড়া সালমান ওরফে শিমুলসহ আরও অনেককে আহত করা হয়।
শেখেরচক স্বচ্ছ টাওয়ারের সামনে, শাহ মখদুম কলেজের সামনে, পদ্মা নদীর বেড়িবাঁধ, আলুপট্টি মোড় ও আশপাশের এলাকায় সংঘটিত এসব ঘটনাকে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ হিসেবে উল্লেখ করেছে প্রসিকিউশন।
গত ৩০ জুলাই এ ঘটনায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। পরে ১৮ অগাস্ট ট্রাইব্যুনাল-২ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয়।
পলাতক ৩৪ জনের মধ্যে খায়রুজ্জামান লিটন ছাড়া বাকিরা হলেন—বিপ্লব বিজয় তালুকদার, হুমায়ুন কবির, রকি কুমার ঘোষ, রাশিক দত্ত, বাপ্পী চৌধুরী রনি, মহিদুল ইসলাম মোস্তফা, খালিদ হাসান বিপ্লব, রাশেদুল করিম রোজেল, মেহেদী হাসান ওরফে রনি, জেডু সরকার ওরফে জাবেদুর রহমান, আব্দুল হামিদ সরকার ওরফে টেকন, আনোয়ার হোসেন ওরফে আনার, আরমান আলী, আব্দুল মোমিন, শাহাদত হোসেন শাহু, তৌহিদুল হক সুমন, মাহতাব হোসেন চৌধুরী, আলাউদ্দিন ওরফে আলাল, সরিফুল ইসলাম বাবু, মো. নাবিল হাসান, মাহমুদুল হাসান রাজীব, ফরহাদ হোসেন বিপ্লব, তৌরিদ আল মাসুদ রনি, মেহেদী হাসান রিমেল ওরফে রিগেন, আশরাফুল ইসলাম জাফর, সুকান্ত কুমার দাস, ফয়সাল আহমেদ রুনু, নুর মোহাম্মদ সিয়াম, আসাদুল্লা-হিল-গালিব, গোলাম কিবরিয়া, আলাল পারভেজ লুলু, মনিরুজ্জামান খান ওরফে মনির ও শফিকুজ্জামান ওরফে শফিক।
আরএনবি/এআরএম