নিজস্ব প্রতিবেদক
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০৮ পিএম
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শুনানিকালে চেঁচামেচি এবং দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কামরুল ইসলামের ‘খারাপ আচরণের’ অভিযোগ করেছে প্রসিকিউশন।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
এদিন ট্রাইব্যুনাল-১ এর সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলে জুলাই আন্দোলনে মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় কামরুল ইসলাম ও ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ চলছিল। প্যানেলের অপর সদস্য হলেন বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের চতুর্থ সাক্ষী হিসেবে এদিন জবানবন্দি দেন জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া মো. হান্নান মিয়া।
প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম জানান, জবানবন্দির একপর্যায়ে সাক্ষী বলেন যে, আওয়ামী লীগের নেতারা কারফিউ জারির সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তখন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ জানতে চান, ওই নেতারা কারা ছিলেন।
এ সময় ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় বসে প্রশ্নটিকে 'অবৈধ' দাবি করে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন কামরুল ইসলাম। তিনি বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ারও চেষ্টা করেন। তবে ট্রাইব্যুনাল অত্যন্ত শান্তভাবে বিষয়টি মোকাবিলা করেছে বলে জানান এই প্রসিকিউটর।
মিজানুল বলেন, ‘প্রসিকিউশনের উদ্দেশ্যই হলো আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণ করা। প্রমাণের জন্য যে প্রশ্ন করা প্রয়োজন, সেটিই বৈধভাবে করেছেন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ। কিন্তু কামরুল বলেন- এ প্রশ্নটা করা যাবে না, এটি অবৈধ প্রশ্ন। এমনকি তিনি তার ৪০ বছরের ওকালতির অভিজ্ঞতার কথাও বলেন। পরে আমরা ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করি যে এটি বৈধ প্রশ্ন। ট্রাইব্যুনালও এ প্রশ্নকে বৈধতা দিয়েছে।’
এজলাসের ঘটনার পর কামরুল ইসলাম রক্ষীদের সঙ্গেও খারাপ আচরণ করেছেন জানিয়ে মিজানুল বলেন, ‘এটি আমরা মাঝেমধ্যেই দেখতে পাই। তিনি কেন এমন করেন, তা আল্লাহই ভালো জানেন।’
এ বিষয়ে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম বলেন, ‘এর আগেও আমরা কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ পেয়েছি। ট্রাইব্যুনালের এজলাসে থাকা কাঠগড়ায় যারা তাকে আনা-নেওয়া করেন, তাদের সঙ্গে প্রায়ই তিনি দুর্ব্যবহার করেন বলে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাই আমাদের জানিয়েছিলেন।’
আরএনবি/এমআই