নিজস্ব প্রতিবেদক
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:২৩ পিএম
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়া থেকে উচ্চস্বরে কথা বলে উঠেছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক মন্ত্রী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগ নেতা কামরুল ইসলাম। এ সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে আদালতের কাছে ‘প্রোটেকশন’ বা সুরক্ষা চেয়েছেন এক প্রসিকিউটর। তিনি বলেন, ৪০ বছরের ওকালতির ক্যারিয়ার আমার।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ট্রাইব্যুনাল-১ এ জুলাই আন্দোলনে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের সময় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়।
এদিন ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এবং সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের চতুর্থ সাক্ষী হানিফ মিয়ার জবানবন্দি নেওয়া হচ্ছিল। সকালে এই দুই আসামিকে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
এদিন আদালতে সাক্ষীর কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে জুলাই আন্দোলনে কারফিউ চলাকালে রাজধানীর বাড্ডা-রামপুরায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বর্ণনা দিচ্ছিলেন সাক্ষী হানিফ মিয়া।
সাক্ষ্য দেওয়ার একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘জুলাইয়ের গণহত্যা অপরাধের জন্য ১৪ দলের নেতারা দায়ী। কারণ তিনি টিভিতে ওই নেতাদের মিটিং করে আন্দোলনকারীদের ওপর দমন-পীড়ন চালানোর সিদ্ধান্তের কথা শুনেছিলেন।’
এ সময় প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সাক্ষীকে ওই ১৪ দলের নেতাদের নাম বলতে বলেন।
তখন আসামিদের জন্য সংরক্ষিত কাচের ডকের ভেতর থেকে কামরুল ইসলাম উচ্চস্বরে প্রসিকিউটরের উদ্দেশে বলে ওঠেন, ‘এভাবে বললে তো হবে না। আমার ৪০ বছরের ওকালতির ক্যারিয়ার। আপনি সাক্ষীকে দিয়ে জোর করে নাম বলাচ্ছেন।’
জবাবে প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ বলেন, ‘আপনি এভাবে চিৎকার (শাউট) করছেন কেন? আপনার কিছু বলার থাকলে আইনজীবীর মাধ্যমে বলবেন।’
এ সময় ট্রাইব্যুনালের উদ্দেশে সুলতান মাহমুদ বলেন, ‘মাই লর্ড, আমি প্রোটেকশন চাই।’
তখন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম বলেন, ‘সুলতান মাহমুদ কোনো ভুল করেননি। আমার মনে হয় জবানবন্দি গ্রহণেও ভুল হয়নি। প্রসিকিউশনের একটাই টার্গেট, একটাই উত্তর চাই। সাক্ষী যেহেতু ১৪ দলের কথা বলেছেন, তাই তাকে নাম বলতে বলা হয়েছে।’
এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী মুনসুরুল হক আপত্তি জানিয়ে বলেন, ‘ইট ইজ আ ম্যাটার অব আইডেন্টিফিকেশন। আপনারা প্রশ্ন করে নাম বলাচ্ছেন।’
জবাবে প্রসিকিউটর মিজানুল বলেন, ‘এটি কোনো ‘লিডিং প্রশ্ন’ নয়। এরপর সাক্ষী আবারও তার জবানবন্দি দেওয়া শুরু করেন। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাকে জেরা করবেন।’
এর আগে গত ২৩ জুন রাষ্ট্রপক্ষের সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়।
আরএনবি/এমআই