নিজস্ব প্রতিবেদক
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:১৪ পিএম
জুলাই আন্দোলনে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের পক্ষে বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের বিষয়ে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নির্দেশনা চেয়ে করা আবেদনের শুনানি পিছিয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের সময়ের আবেদনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ আগামী ২৬ অক্টোবর শুনানির নতুন দিন ঠিক করেছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ট্রাইব্যুনালের সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ দিন ধার্য করে। প্যানেলের অপর সদস্য হলেন বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
আদালতে প্রসিকিউশনের পক্ষে সময় চান প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। অন্যদিকে সালমানের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী।
শুনানিতে প্রসিকিউটর মিজানুল ট্রাইব্যুনালকে বলেন, বিদেশি আইনজীবী নিয়ে বার কাউন্সিলকে নির্দেশনা দেওয়ার আবেদনটি গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে শুনানির সময় চিফ প্রসিকিউটরের উপস্থিতি প্রয়োজন, যিনি বর্তমানে ছুটিতে রয়েছেন।
মামলাটি প্রায় শেষ পর্যায়ে থাকায় অক্টোবরের শেষের দিকে শুনানির তারিখ নির্ধারণের আবেদন করেন তিনি।
এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী আদালতকে বলেন, আবেদনটি অনেক পুরোনো। এ বিষয়ে ট্রাইব্যুনাল একটি আদেশও দিয়েছে। তবে মামলার বিচার চলাকালে বিদেশি আইনজীবীর উপস্থিতি প্রয়োজন।
উভয়পক্ষের বক্তব্য শুনে ট্রাইব্যুনাল শুনানির জন্য ২৬ অক্টোবর দিন ঠিক করে দেয়।
এর আগে সালমান এফ রহমানের পক্ষে ট্রাইব্যুনালে লড়তে চেয়ে গত ১৪ আগস্ট বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে আবেদন করেন লন্ডনের ডাউটি স্ট্রিট চেম্বারের আইনজীবী গ্রায়েম এল হল। গত ২৪ আগস্ট তার ওই আবেদন গ্রহণ করে বার কাউন্সিল। এর আগে, ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের অনুমতি চেয়ে ট্রাইব্যুনাল-১ এ আবেদন করেছিলেন আসামিপক্ষের আইনজীবী মুনসুরুল।
ওই সময় তিনি বলেছিলেন, বিদেশি আইনজীবী নিয়োগ করতে হলে আগে ট্রাইব্যুনালের অনুমতি নিতে হয়, এরপর বার কাউন্সিলে আবেদন করতে হয়। ট্রাইব্যুনালের অনুমতি পেলে আইনজীবী নিয়োগে কোনো বাধা থাকবে না। তবে সে সময় প্রসিকিউশন এই আবেদনে আপত্তি জানিয়েছিল।
এই মামলায় সালমান এফ রহমান এবং সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হককে আসামি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে হত্যা, উসকানি ও প্ররোচনাসহ মোট পাঁচটি অভিযোগ এনেছে প্রসিকিউশন।
২০২৫ সালের ৪ ডিসেম্বর অভিযোগগুলো আমলে নেওয়ার পর চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে তাদের বিচার শুরুর আদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। ইতোমধ্যে এ মামলায় ১২ জন সাক্ষী আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।
তাদের বিরুদ্ধে আনা পাঁচটি অভিযোগের মধ্যে রয়েছে- ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন দমনে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া, ১৯ জুলাই রাতে টেলিফোনে ‘ওদের শেষ করে দেওয়া’ ও কারফিউ জারির মাধ্যমে আন্দোলন দমনের সিদ্ধান্ত এবং ২৩ ও ২৮ জুলাই মিরপুরে হত্যাকাণ্ডে উসকানি দেওয়া।
এছাড়া ৪ আগস্ট মিরপুর-১ এ ১২ জনকে হত্যা এবং ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ‘মার্চ টু ঢাকা’ ঠেকাতে প্রশাসন ও দলীয় নেতাকর্মীদের লেলিয়ে দিয়ে মিরপুর এলাকায় ১৬ জনকে হত্যার অভিযোগও আনা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
আরএনবি/এআরএম