নিজস্ব প্রতিবেদক
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৩২ পিএম
জুলাই আন্দোলনে সাভারে আসহাবুল ইয়ামিন হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক এমপি সাইফুল ইসলামসহ ১৯ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়ে গেছে। প্রসিকিউশনের সময়ের আবেদনে ট্রাইব্যুনাল আগামী ১৮ অক্টোবর শুনানির নতুন দিন ঠিক করেছেন।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই আদেশ দেন। প্যানেলের অপর সদস্য হলেন- বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। আদালতে প্রসিকিউশনের পক্ষে এক মাসের সময় চান প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন।
শুনানি শেষে প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন জানান, মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় বুধবার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের ওপর শুনানির দিন ধার্য ছিল। কিন্তু প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে নতুন করে সময় চাওয়ায় আদালত আগামী ১৮ অক্টোবর নতুন দিন ঠিক করেছেন। ওইদিন এ বিষয়ে শুনানি শুরু হবে।
বুধবার সকালে এই মামলায় গ্রেফতার ছয় আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
তারা হলেন— ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, এএসআই মোহাম্মদ আলী, নায়েক সুহেল মিয়া, কনস্টেবল মাহফুজ মিয়া ও মিজানুর রহমান।
এর আগে, গত ৭ সেপ্টেম্বর মামলার পলাতক ১৩ আসামির পক্ষে ‘স্টেট ডিফেন্স’ (রাষ্ট্র নিযুক্ত) আইনজীবী নিয়োগের আদেশ দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল-২। একইসঙ্গে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির জন্য আজকের (২৩ সেপ্টেম্বর) দিন ধার্য করা হয়েছিল।
মামলায় সাবেক এমপি সাইফুল ইসলাম ছাড়া পলাতক অন্য আসামিরা হলেন- ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, সাবেক পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান রিপন, সাভার থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজামান, আশুলিয়া থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএফএম সায়েদ, সাভার উপজেলা সাবেক চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল আলম রাজিব, মো. আতিকুর রহমান, ফখরুল আলম সমর, মেহেদী হাসান তুষার, রাজু আহম্মেদ, মো. ফরিদ, জামান খান ও শরীফ আশরাফুল আলম বাবুল।
গত ২৬ জুলাই এই ১৯ আসামির বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল-২।
প্রসিকিউশনের অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চলছিল। সেখানে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা হামলা চালান।
একপর্যায়ে দুপুর দেড়টার দিকে ইয়ামিনকে ধরে টেনে পুলিশের সাঁজোয়া যানের (এপিসি) কাছে নিয়ে বুকের বাঁ পাশে গুলি করা হয়। গুলিতে তার বুকের বাঁ পাশে অসংখ্য স্প্লিন্টার বিদ্ধ হয়।
পরে ইয়ামিনকে টেনে সাঁজোয়া যানের ওপরে ফেলে রেখে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতাকে ভীতি প্রদর্শনের জন্য গাড়িটি এপাশ থেকে ওপাশ প্রদক্ষিণ করতে থাকেন দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা।
প্রায় মৃত অবস্থায় তাকে রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয়। একইসঙ্গে সাঁজোয়া যানের ভেতর থেকে একজন পুলিশ সদস্যকে বের করে তার পায়ে পুনরায় গুলির নির্দেশ দেওয়া হয়।
তবে ওই পুলিশ সদস্য ইয়ামিনকে মৃত ভেবে পায়ে গুলি না করে রাস্তার ওপরের একপ্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে টেনে নিয়ে সড়ক বিভাজনের পাশে ফেলে দেন।
গুলিবিদ্ধ ইয়ামিনকে তখনও নিশ্বাস নিতে দেখা যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
আরএনবি/এএম