Dhaka Mail Logo

আইন-আদালত

ট্রাইব্যুনালে নিজের মামলা নিজেই লড়তে চান সাবেক ডেপুটি স্পিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৩৩ পিএম

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে কোনো আইনজীবী নিয়োগ না করে নিজের পক্ষে নিজেই আইনি লড়াই চালাতে চান সাবেক ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামের কাছে গিয়ে বাবার এই ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব এনার্জির বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক (টুকুর ছেলে) এস এম নাসিফ শামস।

তিনি চিফ প্রসিকিউটরকে জানান, তার বাবা ট্রাইব্যুনালে নিজেই আত্মপক্ষ সমর্থন (ডিফেন্স) করতে আগ্রহী। এজন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩-এর ১৭ ধারা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় মামলার নথিপত্র (ডকুমেন্টস) পেতে মৌখিক আবেদনও জানান তিনি।

এই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চিফ প্রসিকিউটর শাপলা চত্বর মামলার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রসিকিউটর মোহাম্মদ জহিরুল আমিনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

এ বিষয়ে প্রসিকিউটর মোহাম্মদ জহিরুল আমিন জানান, শামসুল হক টুকু নিজেও পেশায় একজন আইনজীবী। তার ছেলে এসে মামলার প্রয়োজনীয় নথিপত্র চেয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ অফিসারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন মামলার আগের রেকর্ড ও ওকালতনামা যাচাই করা হয়। যদি তার পক্ষে অন্য কোনো আইনজীবী নিয়োগের তথ্য না থাকে, তবে তিনি আইনজীবী হিসেবে নিজেই যাবতীয় নথিপত্র পেতে পারেন। তবে আগে কোনো আইনজীবী ওকালতনামা দিয়ে থাকলে, নিয়ম অনুযায়ী সেই আইনজীবীর মাধ্যমেই নথিপত্র সংগ্রহ করতে হবে।’

আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩-এর ১৭ নম্বর ধারায় বিচার চলাকালে একজন অভিযুক্ত ব্যক্তির সুরক্ষায় সুনির্দিষ্ট কিছু অধিকারের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে- অভিযোগের বিষয়ে প্রাসঙ্গিক বক্তব্য বা ব্যাখ্যা প্রদানের সুযোগ, ট্রাইব্যুনালে নিজে আত্মপক্ষ সমর্থন করা কিংবা আইনজীবীর আইনি সহায়তা গ্রহণের স্বাধীনতা। পাশাপাশি আত্মপক্ষ সমর্থনে প্রমাণ বা সাক্ষ্য উপস্থাপন এবং প্রসিকিউশনের সাক্ষীদের জেরা করার পূর্ণ অধিকারও দেওয়া হয়েছে অভিযুক্তকে।

২০১৩ সালের মে মাসে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে সংঘটিত হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বর্তমানে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন সাবেক ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু।

এই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য আগামী ৭ অক্টোবর দিন ধার্য করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

আরএনবি/এমআই