নিজস্ব প্রতিবেদক
০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৩৭ পিএম
বান্দরবানের লামা উপজেলায় অবৈধভাবে পাহাড় কাটা বন্ধে তিন দিনের মধ্যে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে পাহাড় কাটা রোধে স্থানীয় প্রশাসনের চাহিদা অনুযায়ী বান্দরবান আর্মি ক্যাম্পের কমান্ডারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জনস্বার্থে করা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি জে বি এম হাসান এবং বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভূঞার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
পাশাপাশি আদালত বান্দরবানে পাহাড় কাটা ও ধ্বংস করা রোধে প্রশাসনের ‘নিষ্ক্রিয়তা’ কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে চার সপ্তাহের রুল জারি করেছেন। একইসঙ্গে কেটে ফেলা পাহাড়গুলো কেন পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দেওয়া হবে না, রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।
আদেশে আদালত বান্দরবানের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, লামা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং পরিবেশ অধিদফতরের কর্মকর্তাসহ বিবাদীদের সমন্বয়ে একটি মনিটরিং টিম গঠন করে তিন দিনের মধ্যে লামায় পাহাড় কাটা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন।
পাশাপাশি বিবাদীদের আগামী সাত দিনের মধ্যে পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের ১৫ ধারা অনুযায়ী শাস্তি ও অর্থদণ্ড নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নের বিষয়ে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে আদালতে কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। তাকে সহায়তা করেন আইনজীবী সঞ্জয় মন্ডল ও নাছরিন সুলতানা।
রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল (এএজি) মহিউদ্দিন মো. হানিফ।
শুনানিতে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ অনুযায়ী পাহাড় কাটা বা ধ্বংস করার ওপর স্পষ্ট বিধিনিষেধ রয়েছে এবং এই অপরাধের জন্য জেল ও জরিমানার বিধান রয়েছে। কিন্তু আইনের যথাযথ প্রয়োগ না হওয়ার সুযোগে পার্বত্য অঞ্চলে ইটভাটা মালিকরা বেপরোয়াভাবে পাহাড় কেটে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করছে। আদালতের দেওয়া পূর্বের বিভিন্ন নির্দেশনা থাকলেও তারা তা তোয়াক্কা করছে না।
লামায় পাহাড় কেটে ইটভাটা মালিকরা তা ধ্বংস করছে— গণমাধ্যমে এমন সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর গত ৩০ আগস্ট হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) জনস্বার্থে এই রিট আবেদনটি দায়ের করে। এইচআরপিবির পক্ষে আবেদনটি করেন আইনজীবী মো. ছারওয়ার আহাদ চৌধুরী ও রিপন বাড়ই।
মামলায় বিবাদী করা হয়েছে পরিবেশ সচিব, পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালক ও পরিচালক, বান্দরবানের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার এবং বান্দরবান আর্মি ক্যাম্পের কমান্ডারসহ মোট ১১ জনকে।
আদালতের এই আদেশের ফলে লামা অঞ্চলে পাহাড় কাটা রোধে স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি এখন থেকে সেনাবাহিনীও সরাসরি সহায়তা প্রদান করবে। মামলাটি পরবর্তী আদেশের জন্য তালিকায় রাখা হয়েছে।
আরএনবি/এফএ