Dhaka Mail Logo

আইন-আদালত

বোয়িং ক্রয় চুক্তি: স্বচ্ছতা ও যৌক্তিকতা নিশ্চিত করতে সরকারকে নোটিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৪৯ পিএম

মার্কিন কোম্পানি বোয়িং থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ সংগ্রহের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, আর্থিক যৌক্তিকতা এবং আইনি বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে সরকারকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। একইসঙ্গে বস্তুনিষ্ঠ মূল্যায়ন ছাড়া এই প্রকল্পে আর কোনো নতুন আর্থিক প্রতিশ্রুতি দেওয়া থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রেজিস্টার্ড ডাকযোগে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এমএমজি সারওয়ার এই ‘নোটিশ ফর ডিমান্ডিং জাস্টিস’ পাঠান।

নোটিশটি মন্ত্রিপরিষদ সচিব, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন সচিব, অর্থ সচিব, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চেয়ারম্যান এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর পাঠানো হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়েছে, গত ৩০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বোয়িং-এর সঙ্গে প্রায় ৩.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের ৮টি বোয়িং ৭৮৭-১০, ২টি বোয়িং ৭৮৭-৯ এবং ৪টি বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স কেনার চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছে বলে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এ ছাড়া আরও বিমান লিজ নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানা গেছে।

নোটিশ প্রদানকারী আইনজীবী এমএমজি সারওয়ার  বলেন, জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা হিসেবে বিমানকে যেকোনো ক্রয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, বৈদেশিক মুদ্রার সংকট এবং অন্যান্য উড়োজাহাজ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের (যেমন: এয়ারবাস) প্রতিযোগিতামূলক প্রস্তাবের বিষয়টি মাথায় রেখে এই বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ কতটা যুক্তিযুক্ত, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

আইনজীবীর পাঠানো এই লিগ্যাল নোটিশে বেশ কয়েকটি দাবি জানানো হয়েছে। উল্লিখিত দাবিগুলো হলো— বিমানের প্রকৃত প্রয়োজনীয়তা, রুটের লাভজনকতা এবং যাত্রী চাহিদার ওপর ভিত্তি করে একটি স্বাধীন ও পেশাদার মূল্যায়ন প্রতিবেদন জনসমক্ষে আনা। পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন ২০০৬ এবং বিধিমালা ২০০৮ যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না তা নিশ্চিত করা। এ ছাড়াও জ্বালানি সংকট ও মূল্যস্ফীতির এই সময়ে এত বড় বিনিয়োগের ‘সুযোগ ব্যয়’ (Opportunity Cost) বিবেচনা করা এবং  বোয়িং ও এয়ারবাসের মধ্যে একটি স্বচ্ছ কারিগরি ও আর্থিক তুলনামূলক বিশ্লেষণ সম্পন্ন করা।

নোটিশে আরও বলা হয়, সম্প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতও বাংলাদেশে বোয়িং-এয়ারবাস প্রতিযোগিতায় ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বা সমান সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। কোনো প্রকার বাহ্যিক চাপ বা অনুচিত প্রভাবের বদলে কেবল বাণিজ্যিক ও কারিগরি মানদণ্ডে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

নোটিশ পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে এই বিষয়ে যথাযথ ব্যাখ্যা এবং পদক্ষেপের তথ্য জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে। অন্যথায় জনস্বার্থে সংবিধানের ৪৪ ও ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশনসহ প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে নোটিশে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত কয়েক মাস ধরেই বিমানের এই বিশাল বহর সম্প্রসারণ পরিকল্পনা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। সরকার ও বিমান কর্তৃপক্ষ যদিও দাবি করে আসছে যে, এই প্রক্রিয়ায় কোনো চাপ নেই এবং এটি সম্পূর্ণ পেশাদার সিদ্ধান্ত।

আরএনবি/এফএ